
তুফানগঞ্জে লড়াই মূলত বিজপি এবং তৃণমূলের মধ্যে। যদিও ছাব্বিশে এখানে বিজেপি এগিয়ে শুরু করবে। তবে এই তৃণমূলও ছেড়ে কথা বলবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এই আসনের দিকে আলাদা করে নজর থাকবেই। প্রসঙ্গত, কোচবিহার জেলার একটি মহকুমা-স্তরের শহর একটি শহর হল তুফানগঞ্জ। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। তুফানগঞ্জ আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে মধ্যে একটি।
এই কেন্দ্রটি তুফানগঞ্জ পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড, তুফানগঞ্জ ২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রটি। তারপর রাজ্যের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এটি। ১৯৫২ থেকে ১৯...
তুফানগঞ্জে লড়াই মূলত বিজপি এবং তৃণমূলের মধ্যে। যদিও ছাব্বিশে এখানে বিজেপি এগিয়ে শুরু করবে। তবে এই তৃণমূলও ছেড়ে কথা বলবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এই আসনের দিকে আলাদা করে নজর থাকবেই। প্রসঙ্গত, কোচবিহার জেলার একটি মহকুমা-স্তরের শহর একটি শহর হল তুফানগঞ্জ। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। তুফানগঞ্জ আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে মধ্যে একটি।
এই কেন্দ্রটি তুফানগঞ্জ পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ড, তুফানগঞ্জ ২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রটি। তারপর রাজ্যের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এটি। ১৯৫২ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাতটি ভোটের মধ্যে ছয়টিতে জয়লাভ করে কংগ্রেস। তারপর এখানে শুরু হয়ে যায় সিপিআইএম-এর খেলা। তারা ২০০৬ সাল পর্যন্ত এখানে টানা সাতটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ এবং ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিল। তবে ২০২১ সালে খেলা ঘুরে যায়। এই ইলেকশনে বিজেপি এখানে প্রথম জয়লাভ করেছিল। এই ভোটে বিজেপির মালতি রাভা রায় তৃণমূলের প্রণব কুমার দেকে ৩১,১৯৮ হারিয়ে দেন। এই সিটের একটা বিশেষ প্রবণতা রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে এখানে নতুন নতুন প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং কংগ্রেস৷ তৃণমূল কংগ্রেস তার ২০১১ সালের বিজয়ী প্রার্থী অর্ঘ্য রায় প্রধানকে ফের ভোটে দাঁড় করায়নি। প্রসঙ্গত, পরিবর্তনের বছরে অর্ঘ্য রায় প্রধান ৬১৮২ ভোটে সিপিআইএম-এর ধনঞ্জয় রাভাকে পরাজিত করেছিলেন। যদিও তাকে বদলে দেয় দল। ২০১৬ সালে তৃণমূল ময়দানে নামান ফজল করিম মিঞাকে। তিনি ১৫,২৭০ ভোটে কংগ্রেসের শ্যামল চৌধুরীকে পরাজিত করেন।
২০১৯ সাল থেকেই বিজেপির এখানে উত্থান দেখা যায়। এই ভোটে তুফানগঞ্জ কেন্দ্র থেকে ৭৪৮৬ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিজেপি এখানে নিজেদের ছাপ ফেলতে চলেছে। আর ২০২৪ সালেও দলটি এখানে তার লিড ধরে রেখেছিল। তবে মার্জিন কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬৪৯৫। অর্থাৎ তৃণমূল ঠিক বিজেপির পিছনেই রয়েছে এই কেন্দ্রে। ২০২৪ সালের হিসাবে তুফানগঞ্জে ২৪৫৬৯৬ রেজিস্টার ভোটার রয়েছে। ২০২১ সালে এখানে ভোটার ছিল ২৩৪৩১১ জন। আবার ২০১৯ সালে এখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২২৫৫৫০ জন। এই কেন্দ্রের অর্ধেক ভোটারই তফসিলি জাতির। ভোটের শতাংশ ৪৭.৮৭। মুসলিম ভোটার ১৮.৭০ শতাংশ।
এখানকার ৮৮.২৪ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার। মাত্র ১১.৭৬ শতাংশ শহুরে ভোটার। এখানে চিরকালই ৮৬ শতাংশের বেশি মানুষ এখানে প্রতিবারই ভোট দিয়েছেন। আর ২০১৬ সালে রেকর্ড সংখ্যক, ৯০.১৩ শতাংশ মানুষ এখানে ভোট দেন। যদিও ২০২৪ সালে ভোটের হার কমে যায়। সেটা দাঁড়ায় ৮৬.৮৮ শতাংশে। তুফানগঞ্জ উত্তরবঙ্গের সমতল পলিমাটির উপর অবস্থিত। এই কেন্দ্রটির পূর্বে বয়ে যাচ্ছে রায়ডাক নদী। এছাড়া দাইনা, গিলান্দি, দুদুয়া, কুমলাই, ঝুমুর এবং বামনি এই অঞ্চল দিয়েই প্রবাহিত হয়। এগুলির জন্যই বর্ষাকালে ঘন ঘন বন্যা হয় এই অঞ্চলে।
এখানকার জমি অত্যন্ত উর্বর। এখানকার প্রধান ফসল ধান ও পাট। এছাড়া আলু, গম, শাকসবজি, ডাল, আখ, ভুট্টা এবং তৈলবীজও চাষ হয় এখানে। এলাকার অনেক নদী এবং পুকুরে মাছ চাষও হয়ে থাকে। এই কাজের সঙ্গেই যুক্ত বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ। তুফানগঞ্জের অর্থনীতি কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং গ্রামীণ কারুশিল্পের উপর নির্ভরশীল।
তুফানগঞ্জ পৌরসভা এবং পার্শ্ববর্তী ব্লকে রাস্তাঘাট মোটের উপর ভালই। এছাড়া এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক, বাজার এবং কমিউনিটি হেলথ সেন্টার রয়েছে। এলাকাটি সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে আশপাশের শহরগুলির সঙ্গে যুক্ত। এই অঞ্চলের একটি বড় পরিচয় হল এখানকার সংস্কৃতি। এখানে ভাওয়াইয়া গান ও দোল মেলা শহরের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। এছাড়া তুফানগঞ্জ মদন মোহন বাড়ির মন্দির দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে।
প্রসঙ্গত, জেলা সদর কোচবিহার থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত তুফানগঞ্জ। আলিপুরদুয়ার ২৯ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া আসামের ধুবরি প্রায় ৪১ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। আসাম সীমান্ত এখান থেকে খুবই কাছে। এছাড়া ভুটান সীমান্তের জয়গাঁও ৮০ কিলোমিটার এবং ভুটানের ফুয়েনশোলিং ৮৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা তুফানগঞ্জ থেকে প্রায় ৪৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কী হতে পারে?
বিজেপি ২০২৬ সালের ইলেকশনে এখানে এগিয়ে থেকেই শুরু করবে। তারাই আগের বিধানসভায় জিতেছে। পাশাপাশি ২৪-এর ভোটেও তারা এগিয়ে ছিল। তবে তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে তৃণমূল। তবে কংগ্রেস এবং বামেদের জোট এখানে খুবই খারাপ অবস্থায়। তারা মাত্র ২.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে ২০২১ সালে। যার ফলে এখানে যে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই লড়াইটা হবে, সেটা একবারে পরিষ্কার।
Pranab kumar dey
AITC
Rabin roy
INC
Nota
NOTA
Sushil chandra das
IND
Prahallad layek
IND
Dhananjay barman
IND
Bhola saha
SUCI
Jiban kumar saha
AMB
Shyamal choudhury
INC
Bivas sen ishore
BJP
Nota
NOTA
Manoj kumar mandal
IND
Nubash barman
KPPU
Santana datta
SUCI