
উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার উত্তরে অবস্থিত কুমারগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি একটি তফসিলি জনজাতি সংরক্ষিত আসন। এই কেন্দ্রটি আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম। কুমারগ্রাম ব্লক ছাড়াও আলিপুরদুয়ার–২ ব্লকের ভাতিবাড়ি, কোহিনূর, মহাকালগুড়ি-পারোকাটা, সমুক্তলা, টটপাড়া–১ ও তুরতুরি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর এখনও পর্যন্ত কুমারগ্রামে ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালের একটি উপনির্বাচনও রয়েছে। প্রথম কয়েক দশক এই আসনে কংগ্রেসের দাপট ছিল। টানা চারবার জয় পেয়েছিল তারা। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বামফ্রন্টের শরিক বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (আরএসপি) এখানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। টানা ন’টি নির্বাচনে জয় পেয়ে কুমার...
উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার উত্তরে অবস্থিত কুমারগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি একটি তফসিলি জনজাতি সংরক্ষিত আসন। এই কেন্দ্রটি আলিপুরদুয়ার লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্যতম। কুমারগ্রাম ব্লক ছাড়াও আলিপুরদুয়ার–২ ব্লকের ভাতিবাড়ি, কোহিনূর, মহাকালগুড়ি-পারোকাটা, সমুক্তলা, টটপাড়া–১ ও তুরতুরি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত।
১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর এখনও পর্যন্ত কুমারগ্রামে ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালের একটি উপনির্বাচনও রয়েছে। প্রথম কয়েক দশক এই আসনে কংগ্রেসের দাপট ছিল। টানা চারবার জয় পেয়েছিল তারা। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বামফ্রন্টের শরিক বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (আরএসপি) এখানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। টানা ন’টি নির্বাচনে জয় পেয়ে কুমারগ্রামকে নিজেদের দুর্গে পরিণত করেছিল আরএসপি।
২০১৪ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস খুব কাছাকাছি পৌঁছেও আরএসপিকে হারাতে পারেনি। তবে ২০১৬ সালে সেই দেয়াল ভাঙে। তৃণমূল প্রার্থী জেমস কুজুর আরএসপির তৎকালীন বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁকে হারিয়ে আসন দখল করেন।
রাজনীতির নাটকীয় মোড় আসে ২০২১ সালে। মনোজ ওরাওঁ দল বদলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে লড়াই করেন এবং তৃণমূলের লিওস কুজুরকে হারিয়ে জয়ী হন। এই জয়ের মাধ্যমে বিজেপি প্রথমবার কুমারগ্রামে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করে।
লোকসভা ভোটের ফলেও বিজেপির প্রভাব স্পষ্ট। ২০১৯ সালে এই বিধানসভা অংশে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে ব্যবধান কিছুটা কমলেও এখনও বিজেপি তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে। একসময় যে আরএসপি এই এলাকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত, তারা কার্যত এখন রাজনৈতিক মানচিত্রের বাইরে।
ভোটার পরিসংখ্যান বলছে, কুমারগ্রাম একটি জনবহুল কেন্দ্র। ২০২১ সালে এখানে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২.৭৩ লক্ষ, যা ২০১৬ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যদিও আসনটি তফসিলি জনজাতি সংরক্ষিত, তবু তফসিলি জাতির ভোটার সংখ্যা এখানে তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা। যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক চরিত্রকে স্পষ্ট করে।
ভৌগোলিকভাবে কুমারগ্রাম ডুয়ার্স অঞ্চলের অংশ। পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা এই এলাকায় বিস্তীর্ণ বনভূমি, উর্বর সমতল জমি ও চা-বাগান রয়েছে। তোর্সা ও কালজানি নদী কৃষিকাজে সহায়ক হলেও বর্ষায় বন্যার আশঙ্কা বাড়ায়। চা, ধান ও সুপারি চাষ এখানকার অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র। বনজ সম্পদও বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।
যোগাযোগের দিক থেকে কুমারগ্রাম পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। কামাখ্যাগুড়ি, আলিপুরদুয়ার শহর ও ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। ভুটানের ফুয়েন্তশোলিং ও সামতসে শহরের নৈকট্য সীমান্ত বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আদান–প্রদানকে প্রভাবিত করে।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে কুমারগ্রামে লড়াই যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। বিজেপি আপাতত এগিয়ে থাকলেও ২০২৪ সালে ব্যবধান কমে যাওয়ায় তৃণমূল নতুন করে আক্রমণাত্মক প্রচারে নামবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আদিবাসী ও তফসিলি ভোটব্যাঙ্কের জটিল সমীকরণে কুমারগ্রাম উত্তরবঙ্গের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ আসনে পরিণত হতে চলেছে।
Leos kujur (urao)
AITC
Kishor minj
RSP
Nota
NOTA
Aron murmu
IND
Shrilal oron
KPPU
Kalawati chik baraik
JD(U)
Shailen marandi
BMUP
Manoj kumar oraon
RSP
Leos kujur
BJP
Nota
NOTA
Vinay kr. minj
JMM
Eliash narjinary
BSP
Ram oraon
SUCI