
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: রাজগঞ্জ কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনটি SC কেন্দ্র। জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি হল রাজগঞ্জ। রাজগঞ্জ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত, জলপাইগুড়ি ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এই বিধানসভার অন্তর্গত।
১৯৬৭ সালে তৈরি হয়েছিল এইঅ কেন্দ্র। মোট ১৫ বার ভোট রয়েছে রাজগঞ্জে। ২০০৯ সালে হয়েছিল উপনির্বাচন। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত CPIM এই কেন্দ্রে ৭ বার জয়ী হয়েছে। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ৩ বার। প্রথম দিকে এই আসন থেকে লড়ত সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টি। ২০০৯ সালের উপনির্বাচন থেকে শুরু করে ৪টি ভোটে জিতেছে তৃণমূল। CPIM বিধায়ক মহেন্দ্র কুমার...
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: রাজগঞ্জ কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনটি SC কেন্দ্র। জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি হল রাজগঞ্জ। রাজগঞ্জ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত, জলপাইগুড়ি ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এই বিধানসভার অন্তর্গত।
১৯৬৭ সালে তৈরি হয়েছিল এইঅ কেন্দ্র। মোট ১৫ বার ভোট রয়েছে রাজগঞ্জে। ২০০৯ সালে হয়েছিল উপনির্বাচন। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত CPIM এই কেন্দ্রে ৭ বার জয়ী হয়েছে। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ৩ বার। প্রথম দিকে এই আসন থেকে লড়ত সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টি। ২০০৯ সালের উপনির্বাচন থেকে শুরু করে ৪টি ভোটে জিতেছে তৃণমূল। CPIM বিধায়ক মহেন্দ্র কুমার রায় লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার জেরে এই কেন্দ্রে ২০০৯ সালে উপনির্বাচন হয়েছিল। সে বছরই তৃণমূলের টিকিটে জেতেন খগেশ্বর রায়। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে CPIM-এর অমূল্য চন্দ্র রায় ৭ হাজার ২০ ভোটে হেরে যান খগেশ্বর রায়ের কাছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে CPIM-এর ভোট উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ৫.৬২% ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গিয়েছে বামেরা। মূল বিরোধী দল হয়ে ওঠে BJP। গেরুয়া প্রার্থী পান ৪১.১৯% ভোট এবং তৃণমূল প্রার্থী পান ৪৮.৫০% ভোট। ২০২১ সালে খগেশ্বর রায় ১৫ হাজার ৭৭৩ ভোটে জিতেছিলেন।
একইরকম ট্রেন্ড বজায় রয়েছে লোকসভা ভোটেও। BJP CPIM-কে টপকে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৪ হাজার ৩২০ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৪৮০ ভোটে এগিয়ে রয়েছে রাজ্য শাসকদল।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে এই কেন্দ্রের মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৫৩। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৬৩। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৪৬। ৫১.০৩% SC ভোট রয়েছে এই কেন্দ্রে। ST ভোটারের সংখ্যা ৮.৪৬%, মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ২০.৮০%। রাজগঞ্জ মূলত গ্রামীণ এলাকা। ৮১.১৪% ভোটার গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এভং শহুরে ভোটারের সংখ্যা ১৮.৮৬%। বরাবরই এই কেন্দ্রে ভোটের হার বেশি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৯০.০১%। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৮৬.৭৬%, ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৯.১৩%, ২০১৯ সালে ৮৮.৬৭% এবং ২০১১ সালে ৮৯.৫৯%।
হিমালয়ের পাদদেশে তরাই অঞ্চলে অবস্থিত রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র। তিস্তা, জলঞাকা, কারতোয়া, ডায়না এবং নেওড়া নদীর পাড়ে উঁচু-নীচু এলাকা জুড়ে আসন বিসতৃত। এছাড়াও রয়েছে ছোট-বড় ঝরনা। কৃষিকাজ প্রধান এই কেন্দ্রে মূলত চাষ হয় ধান এবং জুট। রাজগঞ্জের উত্তরদিকে চাষ হয় চা। বর্ষার মরশুমে এই এলাকায় বন্যা সবচেয়ে বড় সমস্যা। বৃষ্টির সময়ে এই এলাকার নদীগুলির জল বিপদসীমার উপরে উঠে যায়। এই কেন্দ্রের অর্থনীতি নির্ভর করে চা বাগান, ফরেস্ট প্রোডাক্ট এবং ক্ষুদ্র শিল্পের উপর। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাজার এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা। তবে প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষীণ।
জেলা সদর শহর জলপাইগুড়ি থেকে রাজগঞ্জ ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত। উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক হাব শিলিগুড়ি থেকে এর দূরত্ব ৪৪ কিমি। কোচবিহার শহর থেকে দূরত্ব ৭০ কিমি। কলকাতা রাজগঞ্জ থেকে প্রায় ৫২৬ কিমি দূরে অবস্থিত। উত্তরে রাজগঞ্জ সীমান্ত ভাগ করে নেয় ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে। ১২০ কিমি দূরে রয়েছে নিকটবর্তী নেপালের এন্ট্রি পয়েন্ট। আবার ভুটানের ফুন্টসিলিং ১৩৫ কিমি দূরে। দক্ষিণ পূর্বে ৫৮ কিমি দূরেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। যা হলদিবাড়ি বা মেখলিগঞ্জ দিয়ে পৌঁছনো যায়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই আসন নিয়ে বেশ খানিকটা নিশ্চিন্ত। গত ৬টি নির্বাচনেই জিতেছে ঘাসফুল। তার মধ্যে রয়েছে বিধানসভা এবং ৩টি লোকসভা ভোট। BJP ক্রমশই মার্জিন বাড়াতে শুরু করেছে। তবে জোড়াফুলকে ছুঁতে পারা বেশ চ্যালেঞ্জিং তাদের কাছে। তবে SC এবং ST ভোটারদের সমর্থন পেলে BJP চমকে দেওয়ার মতো ফল করতে পারে এই আসনে। ফলত প্রথম থেকেই শাসক বিরোধী মনোভাবে উস্কানি দেবে তারা। বাম-কংগ্রেস জোটের উপরও নজর রাখবে তৃণমূল, কারণ কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদের ভোট বাড়লে তা শাসকদলের জন্যমাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
Supen roy
BJP
Ratan kumar roy
CPI(M)
Nota
NOTA
Tapati roy (barman)
KPPU
Uday roy
SUCI
Santi kishor barari
BSP
Digbijay mandal
IND
Nirode chandra adhikary
AMB
Satyendra nath mondal
CPM
Prakash chandra roy
BJP
Nota
NOTA
Hriday roy
KPPU
Arun barman
SUCI
Rajat roy
BSP