
দার্জিলিং জেলার মহকুমা স্তরের পুরসভা শহর কার্শিয়াং (Kurseong)। এটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। বর্তমান কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে কার্শিয়াং ও মিরিক পুরসভা, কার্শিয়াং, মিরিক ও রাংলি-রাংলিওট ব্লক, জোড়বাংলো সুখিয়াপোখরি ব্লকের পাঁচটি এবং মাতিগাড়া ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত।
১৯৫১ সালে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। রাজনৈতিক ইতিহাসে কার্শিয়াং বরাবরই ব্যতিক্রমী। এখানে জাতীয় ও আঞ্চলিক, দুই ধরনের দলই ক্ষমতায় এসেছে। অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ এবং গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (GNLF) চারবার করে এই আসনে জয় পেয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ স...
দার্জিলিং জেলার মহকুমা স্তরের পুরসভা শহর কার্শিয়াং (Kurseong)। এটি সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। বর্তমান কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে কার্শিয়াং ও মিরিক পুরসভা, কার্শিয়াং, মিরিক ও রাংলি-রাংলিওট ব্লক, জোড়বাংলো সুখিয়াপোখরি ব্লকের পাঁচটি এবং মাতিগাড়া ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত।
১৯৫১ সালে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। রাজনৈতিক ইতিহাসে কার্শিয়াং বরাবরই ব্যতিক্রমী। এখানে জাতীয় ও আঞ্চলিক, দুই ধরনের দলই ক্ষমতায় এসেছে। অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ এবং গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (GNLF) চারবার করে এই আসনে জয় পেয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা চারবার জিতে দাপট দেখিয়েছিল GNLF। বামপন্থীরা মোট পাঁচবার জিতেছে। এর মধ্যে ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে অবিভক্ত সিপিআই এবং ১৯৭১, ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে সিপিএম। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (GJM) দু’বার জয় পেয়েছে। কংগ্রেস ও বিজেপি একবার করে জিতেছে।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে GJM-ই ছিল প্রধান শক্তি। ২০১১ ও ২০১৬ টানা দু’টি নির্বাচনে জয়ের স্বাদ পান দলের প্রার্থী রোহিত শর্মা। ২০১১ সালে তিনি GNLF-এর পেমু ছেত্রীকে হারান বিপুল ৯৩,০৯৬ ভোটে। ২০১৬ সালে তৃণমূলের শান্তা ছেত্রীকে পরাস্ত করেন ৩৩,৭২৬ ভোটে। তবে ২০২১ সালে ছবিটা বদলে যায়। বিজেপির বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা ১৫,৫১৫ ভোটে GJM প্রার্থী ছেরিং লামা দাহালকে হারিয়ে কার্শিয়াং দখল করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফল কার্শিয়াং বিধানসভা অংশে বিজেপির ধারাবাহিক শক্তির প্রমাণ দেয়। ২০০৯ সালে বিজেপি সিপিএমের থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির লিড ছিল ৬৫,৬৮৩ ভোট। ২০১৯ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৮৭,৫৯৭। ২০২৪ সালেও বিজেপি এগিয়েছিল লিড ৩৮,৫০৭ ভোটে। অর্থাৎ সংসদীয় নির্বাচনে এই এলাকায় বিজেপির আধিপত্য প্রায় অটুট।
ভোটার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০১৯ সালে যেখানে ভোটার ছিলেন ২,২৭,৮৩৩ জন, ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ২,৩৬,৪৭৭ এবং ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ২,৪১,৪৯৯। যদিও এটি সাধারণ আসন, তবু প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার তফসিলি উপজাতিভুক্ত। তফসিলি জাতির ভোটার ৭.১৬ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটারই এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ৭১.৩৬ শতাংশ। শহুরে ভোটার ২৮.৬৪ শতাংশ। ভোটদানের হার তুলনামূলক কমতির দিকে। ২০১১ সালে ৭৮.২০ শতাংশ থেকে নেমে ২০২৪ সালে হয়েছে ৬৮.১২ শতাংশ।
ইতিহাসের দিক থেকে কার্শিয়াং অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এক সময় এটি সিকিম রাজ্যের অংশ ছিল। ১৮৩৫ সালে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। লেপচা জাতিগোষ্ঠী ছিল এই এলাকার আদি বাসিন্দা। তারা একে ডাকত ‘খারসাং’ অর্থাৎ সাদা অর্কিডের দেশ। দার্জিলিং যাওয়ার পথে অবস্থানের কারণে ধীরে ধীরে এটি পাহাড়ি শহর হিসেবে গড়ে ওঠে এবং ১৮৭৯ সালে পুরসভার মর্যাদা পায়। পাহাড়ি ঢাল, গভীর উপত্যকা আর ঘন অরণ্য এই এলাকার বৈশিষ্ট্য। মেচি, বালাসন, মহানন্দা ও তিস্তা। এই চার নদী ব্যবস্থার জলবিভাজিকা অঞ্চলে কার্শিয়াং অবস্থিত। সারা বছরই এখানে শীতল, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া।
অর্থনীতির মূল ভরসা চা শিল্প। ক্যাসলটন, মাকাইবাড়ি, আম্বোটিয়া, গুমটি। এমন একাধিক নামী চা-বাগান হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জোগায়। পাশাপাশি আলু, ভুট্টা, ধান ও ডাল চাষ হয়। পর্যটন এবং ছোট গৃহশিল্পও স্থানীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও কার্শিয়াংের সুনাম রয়েছে। ডাওহিল স্কুল, ভিক্টোরিয়া বয়েজ স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এখানে অবস্থিত। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শহরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ গ্রামে পাকা রাস্তা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাঙ্ক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা রয়েছে। ফরেস্ট মিউজিয়াম, ডাওহিল ডিয়ার পার্ক, ঈগলস ক্র্যাগ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মিউজিয়াম ও মাকাইবাড়ি চা-বাগান পর্যটকদের টানে। নেপালি ভাষাভাষী মানুষের সংস্কৃতি ও স্থানীয় উৎসব কার্শিয়াংকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে কার্শিয়াং দার্জিলিং থেকে ৩০ কিলোমিটার, শিলিগুড়ি থেকে ৪৫ কিলোমিটার, মিরিক ৩৫ কিলোমিটার, কালিম্পং ৪৭ কিলোমিটার এবং মাতিগাড়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। নিকটতম আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেপাল। দূরত্ব আনুমানিক ৬০ কিলোমিটার। ভুটান সীমান্ত প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের মুখে কার্শিয়াংয়ে বিজেপিকেই পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে। শেষ সাতটি নির্বাচনের মধ্যে পাঁচটিতেই এগিয়ে থেকেছে তারা। নেপালি ভাষাভাষী ভোটারদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেনি। ২০২১ সালে দলটি এখানে প্রার্থীও দেয়নি। স্থানীয় আঞ্চলিক দলগুলির প্রভাব কমেছে, স্পষ্ট ইস্যুর অভাব রয়েছে। সব মিলিয়ে, বড় কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ না তৈরি হলে, এই পাহাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির দ্বিতীয় দফা জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Tshering lama
IND
Narbu lama
IND
Uttam brahman
CPI(M)
Nota
NOTA
Ugam lama
IND
Bikram rai
IND
Pranav pradhan
IND
Bhupendra lepcha
IND
Shanta chhetri
AITC
Arun kumar ghatani
IND
Nota
NOTA
Dhurba dewan
GRAC