
আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট (এসটি) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র, যা আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এবং তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত। এই আসনের মধ্যে রয়েছে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক এবং ধূপগুড়ি ব্লকের বিন্নাগুড়ি ও সাকোয়াঝোড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। ভৌগোলিকভাবে এটি উত্তরবঙ্গের একেবারে প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত এবং মূলত গ্রামীণ চরিত্রের।
মাদারিহাট আসনের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৬২ সালে এই কেন্দ্রটি সাধারণ আসন হিসেবে গঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০১১ সাল থেকে এটি তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি ছিল। বিশেষ করে আরএসপি (রেভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি) এখানে ১২ বার জয়ী হয়েছে এবং ১৯৬৯...
আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট (এসটি) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র, যা আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এবং তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত। এই আসনের মধ্যে রয়েছে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক এবং ধূপগুড়ি ব্লকের বিন্নাগুড়ি ও সাকোয়াঝোড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত। ভৌগোলিকভাবে এটি উত্তরবঙ্গের একেবারে প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত এবং মূলত গ্রামীণ চরিত্রের।
মাদারিহাট আসনের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৬২ সালে এই কেন্দ্রটি সাধারণ আসন হিসেবে গঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০১১ সাল থেকে এটি তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি ছিল। বিশেষ করে আরএসপি (রেভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি) এখানে ১২ বার জয়ী হয়েছে এবং ১৯৬৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা ১১ বার আসনটি নিজেদের দখলে রেখেছিল। এএইচ বেস্টারউইচ, সুশীল কুজুর এবং কুমারী কুজুরের মতো নেতারা এই আসনে একাধিকবার জয়ী হয়েছেন।
তবে ২০১১ সালের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। ওই বছর কুমারী কুজুর বিজেপির মনোজ টিগ্গাকে প্রায় ৭,৯০৯ ভোটে হারিয়ে শেষবারের মতো আরএসপির হয়ে জয় পান। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালে বিজেপির মনোজ টিগ্গা এই আসনে জয়ী হন। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলের পদম লামাকে ২২,০৩৮ ভোটে হারান এবং ২০২১ সালে ব্যবধান আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৯,৬৮৫ ভোটে, যেখানে তৃণমূলের রাজেশ লাকড়া পরাজিত হন। একই সময়ে বামফ্রন্টের ভোটশেয়ার দ্রুত কমে যায়। ২০২৪ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। মনোজ টিগ্গা লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ায় মাদারিহাটে উপনির্বাচন হয়। সেই সুযোগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার এই আসনে জয় পায়। জয়প্রকাশ টোপ্পো বিজেপির রাহুল লোহারকে ২৮,১৬৮ ভোটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েন। ফলে এই আসনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়।
লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ডে অবশ্য বিজেপির প্রাধান্য স্পষ্ট। ২০০৯ থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বিজেপি এই অঞ্চলে এগিয়ে থেকেছে। ২০১৯ সালে তারা তৃণমূলকে ৪৩ হাজারের বেশি ভোটে হারায়। যদিও ২০২৪ সালে তৃণমূল সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনে, তবুও বিজেপি এগিয়ে ছিল। জনসংখ্যার দিক থেকে মাদারিহাট একটি প্রধানত গ্রামীণ এলাকা, যেখানে প্রায় ৮৭.৯১ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। তফসিলি জনজাতির ভোটার প্রায় ৩৯.৭৮ শতাংশ, তফসিলি জাতি ১৬.৭৮ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ১১.৮০ শতাংশ। ফলে জনজাতি ভোট এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
ভোটার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২৪ সালে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২,২০,৪৬৬। ভোটদানের হারও যথেষ্ট ভালো, যদিও কিছুটা ওঠানামা করেছে। ২০১১ সালে ৮২.৫৬ শতাংশ ভোট পড়লেও ২০২৪ সালে তা কমে ৭৩.৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মাদারিহাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের কাছে অবস্থিত, যা এক শিংওয়ালা গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত। চা-বাগান, বনাঞ্চল এবং পর্যটন এই এলাকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। জাতীয় সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে এই অঞ্চল শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং অন্যান্য শহরের সঙ্গে যুক্ত।
সব মিলিয়ে, মাদারিহাট এখন একটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। অতীতে বিজেপির দাপট থাকলেও ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয় এবং লোকসভায় ব্যবধান কমে আসা দেখাচ্ছে, লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। বাম-কংগ্রেস জোট এখানে প্রায় প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
Rajesh lakra
AITC
Subhash lohar
RSP
Nota
NOTA
Uttam barua
BSP
Vivek pradeep tete
BTP
Panchu oraon
NPEP
Sudhist baraik
SUCI
Padam lama
AITC
Kumari kujur
RSP
Nota
NOTA
Padam oraon
JMM
Sudhist baraik
SUCI