
ময়নাগুড়ি জলপাইগুড়ি জেলার একটি পৌর শহর। এটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গের চা-বাগান, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণ পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই এলাকার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এর আওতায় পড়ে ময়নাগুড়ি পৌরসভা এবং ময়নাগুড়ি ব্লক। অঞ্চলটির ভৌগোলিক চরিত্র সমতল ও পললভূমিভিত্তিক। তিস্তা ও জলঢাকা নদীসহ একাধিক নদী এই এলাকাকে ছেদ করে গেছে। চারপাশে রয়েছে চা-বাগান, বনঘেঁষা জনপদ ও ছোট ছোট বাজার এলাকা। ময়নাগুড়ির স্থানীয় অর্থনীতি মূলত চা-শিল্প, কৃষি ও কাঠের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। এছাড়াও, পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে কাছের গোরুমারা ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, ডুয়ার্সের বনাঞ্চল এবং বিভ...
ময়নাগুড়ি জলপাইগুড়ি জেলার একটি পৌর শহর। এটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গের চা-বাগান, বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণ পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে এই এলাকার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এর আওতায় পড়ে ময়নাগুড়ি পৌরসভা এবং ময়নাগুড়ি ব্লক। অঞ্চলটির ভৌগোলিক চরিত্র সমতল ও পললভূমিভিত্তিক। তিস্তা ও জলঢাকা নদীসহ একাধিক নদী এই এলাকাকে ছেদ করে গেছে। চারপাশে রয়েছে চা-বাগান, বনঘেঁষা জনপদ ও ছোট ছোট বাজার এলাকা। ময়নাগুড়ির স্থানীয় অর্থনীতি মূলত চা-শিল্প, কৃষি ও কাঠের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। এছাড়াও, পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে কাছের গোরুমারা ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, ডুয়ার্সের বনাঞ্চল এবং বিভিন্ন মন্দিরভিত্তিক তীর্থপথ। সড়ক ও রেল, উভয় মাধ্যমেই ময়নাগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। নিউ জলপাইগুড়ি–নিউ কোচবিহার রেলপথে অবস্থিত নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশন এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ কেন্দ্র।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ১৮টি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাররা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছে, তবে সেই সমর্থন পৃথক পৃথক পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম সাতটি নির্বাচনে কংগ্রেস ও হাত শিবির বিভক্ত হয়ে গঠিত বাংলা কংগ্রেস মিলিয়ে জয়লাভ করে। এর মধ্যে কংগ্রেস পাঁচবার এবং বাংলা কংগ্রেস দু’বার জেতে। পরে আবার বাংলা কংগ্রেস আবার কংগ্রেসে মিশে যায়। এরপর ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা আটটি নির্বাচনে আরএসপি এই কেন্দ্রে আধিপত্য বজায় রাখে। এই সময় ময়নাগুড়িকে কার্যত তাদের দুর্গে পরিণত করেছিল। তবে ২০১১-এর পর ধীরে ধীরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পরে বিজেপি এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উঠে আসে।
২০১৪ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার এই কেন্দ্রে জয় পায়। ২০১১ সালে আরএসপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী অনন্ত দেব অধিকারী তৃণমূলে যোগ দিলে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই উপনির্বাচনে তিনি তাঁর প্রাক্তন দলের প্রার্থী দিনবন্ধু রায়কে ৩১,৭৯০ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে আরএসপি’র ছায়া দে (রায়)-কে ৩৪,৯০৭ ভোটে পরাজিত করে আসনটি ধরে রাখেন। অন্যদিকে বিজেপি ২০১১ সালে মাত্র ৩.৬২ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ১৪.৫৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। অবশেষে ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে জয় পায়। বিজেপি প্রার্থী কৌশিক রায় তৃণমূলের মনোজ রায়কে ১১,৯১১ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
লোকসভা নির্বাচনের ভোটের ধরনেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায়। ২০০৯ সালে ময়নাগুড়ি বিধানসভা অংশে সিপিআই(এম) কংগ্রেসের থেকে ২০,৫৪৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ২৮,১৬৭ ভোটে এগিয়ে যায়। এরপর বিজেপি দ্রুত উত্থান ঘটিয়ে ২০১৯ সালে তৃণমূলের থেকে ১৪,৭৪৭ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ৪,৭৪৫ ভোটে এগিয়ে থাকে। এর ফলে সংসদীয় নির্বাচনে বিজেপির শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হলেও বিধানসভা স্তরে তৃণমূল এখনও লড়াইয়ে টিকে রয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় ময়নাগুড়িতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২,৩৪,৮৯৯ জন। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৭,৭২৬ কম। যা অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই আসনের ক্ষেত্রে একটি অস্বাভাবিক প্রবণতা। যদিও বাংলাদেশ সীমান্ত মাত্র ২৫–৩০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ভোটার সংখ্যা ছিল—২০১১ সালে ১,৯৮,৬১৫ জন, ২০১৬ সালে ২,৩৬,৬৬৩ জন, ২০১৯ সালে ২,৫০,৭৬৯ জন এবং ২০২১ সালে ২,৬৪,২৬৫ জন। অর্থাৎ SIR এর আগে পর্যন্ত ভোটার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
সামাজিক গঠনের দিক থেকে এই কেন্দ্রটিতে তফসিলি জাতির জনসংখ্যার প্রাধান্য বেশি। প্রায় ৭১.১৩ শতাংশ। মুসলিম জনসংখ্যা ৯.৬০ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি মাত্র ১.৩১ শতাংশ। এলাকা প্রধানত গ্রামীণ—৮৮.৪৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন, শহুরে জনসংখ্যা মাত্র ১১.৫২ শতাংশ।
ভোটার উপস্থিতির হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৭.৮৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৮৯.১২ শতাংশ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮৮.৯২ শতাংশ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮৯.৫২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালেও তা ছিল ৮৬.৩৩ শতাংশ।
ময়নাগুড়ি শহর জলপাইগুড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার এবং সিলিগুড়ি থেকে সড়কপথে প্রায় ৬০–৬২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাস ও ছোট যানবাহনে যোগাযোগ ভালো। রাজ্য রাজধানী কলকাতা সড়ক ও রেলপথে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার দূরে। নিউ ময়নাগুড়ি ও আশপাশের স্টেশন থেকে কলকাতার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ রয়েছে। ডুয়ার্স করিডরের মধ্যে অবস্থানের কারণে এই এলাকার ভৌগোলিক গুরুত্ব যথেষ্ট। ভুটানের সীমান্ত শহর জয়গাঁও (ফুয়েন্তশোলিং-এর বিপরীতে) ময়নাগুড়ি থেকে সড়কপথে প্রায় ৮৫–৯০ কিলোমিটার দূরে। বাংলাদেশ সীমান্ত জলপাইগুড়ি–কোচবিহার অঞ্চলে মাত্র ২৫–৩০ কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত, ফলে সীমান্তপারের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে—যদিও ময়নাগুড়িতে মুসলিম জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
সব মিলিয়ে একটি বিধানসভা জয় এবং এই বিধানসভা অংশে টানা দুইটি লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে থাকার সুবাদে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় সামান্য এগিয়ে রয়েছে। বামফ্রন্ট–কংগ্রেস জোট কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। গত দুই নির্বাচনে তাদের ভোট তিন শতাংশেরও কম। তবে ময়নাগুড়ির রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এখানে কেউই জয় নিশ্চিত ধরে নিতে পারে না। বিজেপির জয়ের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনও রয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে তফসিলি জাতি ভোটারদের ক্ষুদ্র ওঠানামা এবং ছোট জাতিগত ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলির ভোট কতটা ঐক্যবদ্ধ বা বিভক্ত হয় তার উপর।
Manoj roy
AITC
Naresh chandra roy
RSP
Nota
NOTA
Biswanath roy
KPPU
Uday shankar adhikari
CPI(ML)(L)
Ganesh mandal
BSP
Bilash sarkar
IND
Shyamal roy
SUCI
Binay sarkar
AMB
Chhaya dey (roy)
RSP
Biswajit roy
BJP
Nota
NOTA
Kausik roy
KPPU
Amit kumar sarkar
BSP
Rupeswar ray
CPI(ML)(L)
Binay sarkar
AMB