
এককালের বাম গড়। আর এখন সেখানে এগিয়ে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। যদিও বিজেপির সেই এগিয়ে থাকা খুব বেশি নয়। পিছনেই নিশ্বাস ফেলছে তৃণমূল। এখন দেখার ২০২৬ সালের ভোট কোন দিকে হাওয়া বয়ে যায়।
আসলে নাটাবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি কোচবিহার লোকসভা আসনের অধীনে থাকা ৭টি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি কোচবিহার ১ ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং তুফানগঞ্জ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এখানে গ্রামীণ এবং আধাশহুরে ভোটার রয়েছে।
কবে তৈরি হয়?
১৯৭৭ সালে তৈরি হয় এই বিধানসভা কেন্দ্র। এরপর এখানে ১০ বার ভোট হয়েছে। সিপিআইএম এখানে ৩ দশক ধরে রাজ করেছে। তারা পরপর ৭টি বিধানসভা ভোটে যেতে। তবে সেই জয়ের ধারা ভেঙে যায়...
এককালের বাম গড়। আর এখন সেখানে এগিয়ে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। যদিও বিজেপির সেই এগিয়ে থাকা খুব বেশি নয়। পিছনেই নিশ্বাস ফেলছে তৃণমূল। এখন দেখার ২০২৬ সালের ভোট কোন দিকে হাওয়া বয়ে যায়।
আসলে নাটাবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি কোচবিহার লোকসভা আসনের অধীনে থাকা ৭টি বিধানসভার মধ্যে একটি। এটি কোচবিহার ১ ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং তুফানগঞ্জ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এখানে গ্রামীণ এবং আধাশহুরে ভোটার রয়েছে।
কবে তৈরি হয়?
১৯৭৭ সালে তৈরি হয় এই বিধানসভা কেন্দ্র। এরপর এখানে ১০ বার ভোট হয়েছে। সিপিআইএম এখানে ৩ দশক ধরে রাজ করেছে। তারা পরপর ৭টি বিধানসভা ভোটে যেতে। তবে সেই জয়ের ধারা ভেঙে যায় ২০১১ সালে। সেবার তৃণমূল জিতে যায় এই সিট। তাই একটা সময় মনে করা হতো, রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য নাটাবাড়ির জুড়ি নেই। যদিও সেই ধারা ২০২১ সালে বিঘ্নিত হয়েছিল। সেই বছর বিজেপি এখানে জেতে।
বিজেপির মিহির গোস্বামী ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। সেই ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ২৩,৪৪০ ভোটে পরাজিত করে তিনি আসনটি দখল করেন। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এর আগে ২০১১ এবং ২০১৬ সালে দুবার এই আসনটি জিতেছিলেন। ২০১১ সালে CPI(M) এর বিধায়ক তমসের আলিকে ৭৫৬৫ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ১৬১৫৭ ভোটে পরাজিত করেছিলেন।
তবে বিজেপি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখানে ১৮,৫২৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। আর সেটাই ছিল তাদের উত্থানের চিহ্ন। যদিও তৃণমূল হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। তাই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই লিড এই লিড মাত্র ১১৪৬ ভোটে এসে দাঁড়িয়েছে। আর সেটাই ছাব্বিশের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বীতার আভাস দিচ্ছে।
নাটাবাড়িতে ২০২৪ সালে ২৫৫,১১১ জন ভোটার ছিল। আবার ২০২১ সালে ২৪৫,০৪০ এবং ২০১৯ সালে ২৩৪,৮৩৯ ভোটার ছিল। এখানে তফসিলি জাতির ভোটাররা সংখ্যা ৪১,৯৭ শতাংশ। আবার মুসলমানদের সংখ্যা ২৪ শতাংশ।
২০১৬ সালে এখানে সর্বোচ্চ ভোট পড়ে। সেই বছর এখানে ভোট দেয় ৮৯.২৬ শতাংশ। আবার ২০২৪-এ সর্বনিম্ন ৮৬.২৬ শতাংশ ভোটার ভোট দেয়৷ এছাড়া ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানে ৮৮.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এটি প্রধানত গ্রামীণ আসন। এখানে ১১ শতাংশ শহুরে ভোটার রয়েছে। ভৌগলিকভাবে নাটাবাড়ি তোর্সা এবং ধরলা নদীর পলিমাটি যুক্ত সমভূমিতে অবস্থিত। এই নদীগুলি কোচবিহার জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। যার ফলে এখানকার মাটি খুবই উর্বর। এই ভূখণ্ডটি মূলত সমতল। এই কেন্দ্রের মাঝে বহু জলাভূমি এবং মৌসুমী প্লাবনভূমি রয়েছে। এই কেন্দ্রকে বৃহত্তর তরাই অঞ্চলের মধ্যেও ধরা হয়। এখানকার মাটি উর্বর হওয়ায় কৃষি ভালই হয়। এখানকার প্রধান ফসল হল ধান, পাট এবং সর্ষে। এই সব চাষ যা নদী নালা এবং টিউবওয়েল জল তুলে হয়।
নাটাবাড়ির অর্থনীতি প্রাথমিকভাবে কৃষিনির্ভর। ছোট আকারের কৃষিকাজ এবং ছোটখাট কাজকর্মই মানুষের জীবিকা। এখানে শিল্প বলতে তেমন কিছু নেই। হস্তশিল্প এবং কুটির শিল্প কিছুটা রয়েছে। যদিও সেগুলি অর্থনীতির দিক থেকে খুব একটা বড় কিছু নয়।
নাটাবাড়ির পরিকাঠামো পরিমিত। এখানকার রাস্তা নির্বাচনী এলাকাটিকে তুফানগঞ্জের মতো কাছের শহরের সঙ্গে যুক্ত করে। এটিই হল জেলার মহকুমার সদর দফতর। এটি কেন্দ্রটি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আবার এই কেন্দ্রটি জেলা সদর, কোচবিহার শহর, নাটাবাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত। এই শহরগুলিতেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়া যায়।
নিকটতম রেলওয়ে স্টেশনগুলি হল বকশিরহাট এবং তুফানগঞ্জ। এই স্টেশনগুলিই এলাকাটিকে বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ এবং আসামের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। নাটাবাড়ি থেকে রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে। আর খুব সহজেই এখান থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছানো যায়।
নাটাবাড়ির সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এই কেন্দ্রটি আসাম রাজ্যের সীমান্তও কাছাকাছি। পার্শ্ববর্তী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে দিনহাটা। এই শহর পশ্চিমে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। উত্তরে আলিপুরদুয়ার প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে। আবার আসামের ধুবরি প্রায় 58 কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এছাড়া আসামের গোসাবাইগাঁও নাটাবাড়ি থেকে মাত্র ২০ কিমি দূরে। আবার বাংলাদেশের শহর কুড়িগ্রাম ধরলা নদীর ওপারে অবস্থিত।
কী হতে পারে?
বিজেপি গত লোকসভা ইলেকশনে খুব কম মার্জিনে এখানে এগিয়েছিল। তাই তারা এই কেন্দ্রে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের পুনরুজ্জীবন কামনা করতে পারে। অন্যথায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে জোর লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Rabindra nath ghosh
AITC
Akik hassan
CPI(M)
Sahidul hossain
IND
Abdus salam
SUCI
Nota
NOTA
Dalendra nath ray
AMB
Ekramul hoque
UTSAP
Tamser ali
CPM
Ali hossain
BJP
Tapan barman
KPPU
Babla deb
AMB
Nota
NOTA
Rabia sarkar
SUCI