
উত্তরবঙ্গের যে আসনগুলি হাইপ্রোফাইল ও খবরের শিরোনামে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হল শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ সালের নির্বাচনে শীতলকুচিতেই বাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। কোচবিহারের জেলার অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রটি কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভার একটি। শীতলকুচি ব্লক ও ৭টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি এই বিধানসভা কেন্দ্র। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল, বৈরাগীরহাট, গোপালপুর, জোরপতিকি, কেদারহাট, কুরসামারি, নয়ারহাট ও শিকারপুর। বামেদের শক্তঘাঁটি ছিল শীতলকুচি বিধানসভায় একেবারেই গ্রামীণ কেন্দ্র। এখানে শহুরে ভোটার নেই। ১৯৬২ সালে তৈরি হয়েছিল শীতলকুচি কেন্দ্র। তারপর থেকে ১১টি ভোটের সাক্ষী। প্রথম ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী বিজয় কু...
উত্তরবঙ্গের যে আসনগুলি হাইপ্রোফাইল ও খবরের শিরোনামে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হল শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ সালের নির্বাচনে শীতলকুচিতেই বাহিনীর গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। কোচবিহারের জেলার অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রটি কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভার একটি। শীতলকুচি ব্লক ও ৭টি গ্রামপঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি এই বিধানসভা কেন্দ্র। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল, বৈরাগীরহাট, গোপালপুর, জোরপতিকি, কেদারহাট, কুরসামারি, নয়ারহাট ও শিকারপুর। বামেদের শক্তঘাঁটি ছিল শীতলকুচি বিধানসভায় একেবারেই গ্রামীণ কেন্দ্র। এখানে শহুরে ভোটার নেই। ১৯৬২ সালে তৈরি হয়েছিল শীতলকুচি কেন্দ্র। তারপর থেকে ১১টি ভোটের সাক্ষী। প্রথম ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী বিজয় কুমার রায়। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত আবার শীতলকুচি কেন্দ্রের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। সেই সময়টা পুরো রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। ১৯৭৭ এর পর কেন্দ্রটি ফের গঠিত হয় এবং সিপিএম এখানে শক্তঘাঁটি তৈরি করে। টানা ৭ বার এই আসন দখল করে তারা, যার মধ্যে ছ’বারই জেতেন সুধীর প্রামাণিক। ২০২১ সালে বিজেপির জয় ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বাম দুর্গ ভেঙে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় শীতলকুচিতে হারে বামেরা। কিন্তু তাও একেবারে নামমাত্র ব্যবধানে। মাত্র ২৫৭ ভোটে সিপিএমকে হারিয়ে জেতেন হিতেন বর্মন। ২০১৬ সালেও তিনি নিজের জায়গা আরও মজবুত করেন, সিপিএমের নামদীপ্তি অধিকারীকে ১৫ হাজার ৪৮৩ ভোটে হারিয়ে। কিন্তু ২০২১ সালে ছবিটা পুরো বদলে যায়। বিজেপি প্রথমবার এই আসন দখল করে। বারেন চন্দ্র বর্মন তৃণমূলের পার্থ প্রতীম রায়কে ১৭,৮১৫ ভোটে হারিয়ে শীতলকুচিতে গেরুয়া পতাকা তোলেন। লোকসভায়ও একই রকম ওঠানামা লোকসভা নির্বাচনের ফলেও দেখা যাচ্ছে শীতলকুচিতে ওঠাপড়া। ২০১৯ সালে শীতলকুচি সেগমেন্টে তৃণমূল এগিয়েছিল মাত্র ১ হাজার ২৩০ ভোটে। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ২৭৬ ভোটে। এটা অনেকের মতে, ভোটারদের মানসিকতায় একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৬ সালে সিপিএম ও কংগ্রেস জোট নতুন করে লড়াইয়ে নামবে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এতে বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে গেলে বিজেপির আরও লাভ হতে পারে। ভোটার সংখ্যা, জাতিগত গঠন ও টার্নআউট ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শীতলকুচিতে ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৬০ জন। ২০২৪ লোকসভায় তা বেড়ে ৩ লক্ষ ৪ হাজার ৬০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৩৪৮ জন। এলাকার ভোটারদের মধ্যে, তফশিলি জাতি (SC): ৬৩.৫৯%, মুসলমান: ২৬.১০%, ভোট টার্নআউট বরাবরই খুব বেশি। ২০১৬ সালে ৮৮.০৫% মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে ৮৬.৩৫% ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ৮৪.৪২% ভোট পড়েছিল। ভূগোল ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতি শীতলকুচির মাটি কালচে-বাদামি বালুকাময়, সমতল ভূমি। অনেক জলাভূমিও রয়েছে। বর্ষাকালে এই এলাকায় বন্যা হয়। মানসাই ও ধরলা, হিমালয় থেকে নেমে আসা দুটি নদী, এই অঞ্চলে বন্যার মূল কারণ। এখানে কোনও পাহাড় বা বড় জঙ্গল নেই। শীতলকুচি থেকে কোচবিহার শহরের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিমি। ও কলকাতার দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৬০০ কিমি। নিকটবর্তী শহর মাথাভাঙ্গা (২৫ কিমি), দিনহাটা (৪০ কিমি), তুফানগঞ্জ (৬০ কিমি)। শীতলকুচির পশ্চিম দিকে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলা, উত্তরে মাথাভাঙ্গা–I ব্লক, পূর্বে কোচবিহার–I, আর দক্ষিণে শীতাই ব্লক। অর্থনীতি সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর শীতলকুচি কেন্দ্রে চাষবাসই প্রধান জীবিকা। মোট ২২হাজার ২১০ হেক্টর চাষযোগ্য জমি রয়েছে। গভীর ও অগভীর টিউবওয়েল, নদী থেকে জল তোলা, সব মিলিয়ে সেচের ব্যবস্থা চলে। চাষ হয় মূলত, ধান, পাট, সর্ষে। শিল্প নেই। ২০২৬ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই ২০২৬ বিধানসভা ভোটে শীতলকুচিতে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট। তৃণমূল বনাম বিজেপি, মূল দুই শক্তি। সিপিএম ও কংগ্রেস যদি জোট বাঁধে, তাহলে চেষ্টা করবে ফেরার।
Partha pratim ray
AITC
Sudhangshu pramanik
CPI(M)
Nota
NOTA
Hare krishna sarkar
IND
Manik chandra barman
KPPU
Kamal barman
AMB
Jagadish adhikari
SUCI
Namadipti adhikary
CPM
Baren chandra barman
BJP
Premananda barman
KPPU
Jagadish adhikari
SUCI
Girindra nath barman
BSP
Nota
NOTA
Subodh barman
AMB
Fulkumar barman
IND