
পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রটি তপশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। ঝাড়গ্রাম লোকসভার এই বিধানসভা বান্দোয়ান, মানবাজার ও বড়বাজার ব্লক নিয়ে গঠিত।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত ১৬ বার বিধানসভা ভোট হয়েছে। এই আসনকে কোনও দলের ঘাঁটি বলা যায় না। কারণ, এক এক সময় এক একটি দল জিতে এসেছে। লোকসেবক সংঘ ১৯৬২ এবং ১৯৬৭ সালে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়লাভ করে। এরপর তাদের জায়গা দখল করে কংগ্রেস প্রার্থীরা জেতেন টানা তিনবার। যথা ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ১৯৭২ সালে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরপর আটবার এখানে জেতে কংগ্রেস। তবে ২০১৬ থেকে দুবার জিতেছে তৃণমূল।
২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজীব লোচন সোরেন আগের বারের বিধায়ক তথা সিপিআইএম প্রার্থী সুশান...
পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান বিধানসভা কেন্দ্রটি তপশিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। ঝাড়গ্রাম লোকসভার এই বিধানসভা বান্দোয়ান, মানবাজার ও বড়বাজার ব্লক নিয়ে গঠিত।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত ১৬ বার বিধানসভা ভোট হয়েছে। এই আসনকে কোনও দলের ঘাঁটি বলা যায় না। কারণ, এক এক সময় এক একটি দল জিতে এসেছে। লোকসেবক সংঘ ১৯৬২ এবং ১৯৬৭ সালে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়লাভ করে। এরপর তাদের জায়গা দখল করে কংগ্রেস প্রার্থীরা জেতেন টানা তিনবার। যথা ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ১৯৭২ সালে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পরপর আটবার এখানে জেতে কংগ্রেস। তবে ২০১৬ থেকে দুবার জিতেছে তৃণমূল।
২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজীব লোচন সোরেন আগের বারের বিধায়ক তথা সিপিআইএম প্রার্থী সুশান্ত বেসরা ২০.৩০৭ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালেও তিনি আসনটি ধরে রাখেন। যদিও এই আসনে জিতে আসা বামেরা তৃতীয় স্থানে চলে আসে সেই বছর। বিজেপির পার্সি মুর্মু ১৮.৮৩১ ভোটে পরাজিত হন। সুশান্ত বেসরা পান মাত্র ৯.২২ শতাংশ ভোট। বিজেপি ৩৯.২১ শতাংশ ও তৃণমূল ৪৭ শতাংশের সামান্য বেশি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা আসনে।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও এই আসন থেকে এগিয়েছিল তৃণমূল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীর থেকে প্রায় ২৭ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০১৯ সালে তৃণমূলের থেকে বিজেপি এগিয়ে ছিল প্রায় ৩ হাজার ভোটে। এদিকে ২০১৬ সালের পর থেকে এই আসনে ক্রমাগত ভোটের সংখ্যা কমেছে বামেদের।
২০২৪ সালে বান্দোয়ানে ২,৯৭,৯০৩ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। ২০২১ ও ১০০১৯ সালে যথাক্রমে ২,৮৪,৮৪০ এবং ২,৭২,৬০৯। ২০২১ সালে, তপসিলি উপজাতি ভোটার ছিল ৩৫.৮২ শতাংশ। আসনটি মূলত গ্রামীণ। মোট ভোটারের মাত্র ৩.৮৬ শতাংশ শহুরে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোট পড়েছিল ৮৫.০৬ এবং ২০১৬ সালে ৮৫.১৬ শতাংশ। তবে লোকসভা ভোটে ভোট তুলনামূলকভাবে কম পড়েছিল। ২০২৪ সালে ৮১.২৪ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ৮৩.৫৭ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে বান্দোয়ান ছোটো নাগপুর মালভূমি ভূখণ্ডে অবস্থিত। এখানে রয়েছে বিক্ষিপ্ত পাহাড়, বনভূমি ও লাল ল্যাটেরাইট মাটি। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কংসাবতী ও শীলাবতী নদী। ধান, ভুট্টা ও ডাল এখানকাপর প্রধান সবজি। বনজ সম্পদ সংগ্রহ, পশুপালন এবং পাথর খনন এখানকার প্রধান জীবিকা। অঞ্চলটি শাল এবং মহুয়া গাছে সমৃদ্ধ।
বান্দোয়ানের অবকাঠামো এখনও তেমন উন্নত নয়। এই এলাকার সঙ্গে বড়বাজার, মানবাজার এবং বলরামপুরের সংযোগকারী রাস্তাগুলি কার্যকর থাকলেও বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘন ঘন ঘটে। জল সরবরাহ মূলত টিউবওয়েল এবং হ্যান্ড পাম্পের উপর নির্ভরশীল। নির্বাচিত কিছু এলাকায় পাইপের মাধ্যমে জল পাওয়া যায়। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ব্লক-স্তরের হাসপাতালগুলি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। তবে গুরুতর রোগীদের পুরুলিয়া শহরে পাঠানো হয়।
বান্দোয়ান জেলা সদর পুরুলিয়া থেকে প্রায় ৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বড়বাজার থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখান থেকে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটার, ওড়িশার রায়রঙ্গপুর প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
বান্দোয়ান এবং এর আশপাশের অঞ্চলগুলি প্রাচীন মল্লভূম রাজ্যের অংশ ছিল। পোড়ামাটির মন্দির এবং উপজাতি ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত ছিল এই এলাকা। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলা, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে এসেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বান্দোয়ান দখল করতে পারে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদল এমনটা ভাবলেও বিজেপি হাল ছাড়বে না। কারণ, এই আসনেই দ্বিতীয়তে থাকা বামেদের ভোট নিজেদের পকেটে পুরেছে তারা। বাম ও কংগ্রেস জোট করে ভোটে লড়লে ফলাফল কী হবে তা এখন থেকেই ববলা কঠিন।
Parcy murmu
BJP
Besra susanta kumar
CPI(M)
Sib sankar singh
IND
Tikaram hembram
BSP
Nota
NOTA
Besra susanta
CPM
Labsen baskey
BJP
Kamalakanta baskey
JMM
Nota
NOTA
Bharat singh
IND
Manohar tudu
AMB
Jalim chandra saren
AJSUP
Prakash mandi
IND
Sukumar tudu
SUCI
Sadhuram saren
AKBJHP