
রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রটি বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণাংশের অরণ্য ও টিলাময় অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত আসন। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। রানিবাঁধ, হিরাবাঁধ ও খাতড়া উন্নয়ন ব্লক নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রের চরিত্র সম্পূর্ণ গ্রামীণ ও আদিবাসী প্রধান। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রানিবাঁধে এ পর্যন্ত ১৫ বার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এখানে CPIM সবচেয়ে সফল দল, মোট ৯ বার জিতেছে তারা। অবিভক্ত CPI জিতেছে একবার। কংগ্রেস এবং তৃণমূল ২ বার করে জিতেছে। একবার জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী।
২০১১ সালে CPIM-এর দেবলীনা হেমব্রম তৃণমূল কংগ্রেসের ফাল্গুনী হেমব্রমকে ৬ হাজার ৮৫৯ ভোটে পরাজিত করে আসনটি ধরে রাখেন। ২০১৬ সালে তৃণমূলের জ্যোৎস্না মান্ডি CPIM-এর দেবলিনা হে...
রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রটি বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণাংশের অরণ্য ও টিলাময় অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত আসন। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। রানিবাঁধ, হিরাবাঁধ ও খাতড়া উন্নয়ন ব্লক নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রের চরিত্র সম্পূর্ণ গ্রামীণ ও আদিবাসী প্রধান। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রানিবাঁধে এ পর্যন্ত ১৫ বার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এখানে CPIM সবচেয়ে সফল দল, মোট ৯ বার জিতেছে তারা। অবিভক্ত CPI জিতেছে একবার। কংগ্রেস এবং তৃণমূল ২ বার করে জিতেছে। একবার জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী।
২০১১ সালে CPIM-এর দেবলীনা হেমব্রম তৃণমূল কংগ্রেসের ফাল্গুনী হেমব্রমকে ৬ হাজার ৮৫৯ ভোটে পরাজিত করে আসনটি ধরে রাখেন। ২০১৬ সালে তৃণমূলের জ্যোৎস্না মান্ডি CPIM-এর দেবলিনা হেমব্রমকে ২৩ হাজার ৩১৩ ভোটে হারিয়ে আসনটি দখল করেন। ২০২১ সালে জ্যোৎস্না মান্ডি আবার জয়ী হন, তবে অনেক কমে ব্যবধান। BJP-র খুদিরাম টুডুকে ৩ হাজার ৯৩৯ ভোটে পরাজিত করেন তিনি। এই নির্বাচনে BJP দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।
২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে CPIM কংগ্রেসকে ৩১ হাজার ৬১৩ ভোটে পিছনে ফেলে। ২০১৪ সালে তৃণমূল CPIM-কে ১৯ হাজার ১৭১ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে BJP তৃণমূলকে ১৫ হাজার ৮১৪ ভোটে পিছনে ফেলে। তবে ২০২৪ সালে তৃণমূল আবার এগিয়ে যায়। BJP-কে ৫ হাজার ৭৫২ ভোটে পিছনে ফেলে দেয়।
SIR শেষে রানিবাঁধের খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৪১, যা ২০২৪ সালের ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭১৬ থেকে ১০ হাজার ৫৭৫ কম। এর আগে ২০২১ সালে ভোটার ছিল ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩৫৯; ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৩৩। ২০১৬ সালে ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৮৭ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৯১ হাজার ৬৬৪। মোট ভোটারের মধ্যে তফসিলি উপজাতি ৩৩.০১% এবং তফসিলি জাতি ২১.০৭% । মুসলিম ভোটারের উপস্থিতি খুবই নগণ্য। প্রায় ৯৬.১১% ভোটার গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন, শহুরে অংশ মাত্র ৩.৮৯%। ভোটদানের হারও ধারাবাহিকভাবে বেশি। ২০১১ সালে ৮০.৮০%, ২০১৬ সালে ৮৩.৯৩%, ২০১৯ সালে ৮৩.২৫%, ২০২১ সালে ৮৩.৫১% এবং ২০২৪ সালে ৮১.৩০%।
রানিবাঁধ খাতড়া মহকুমার অন্তর্গত। ঐতিহাসিকভাবে এটি বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের শাসনে ছিল। বিষ্ণুপুর কেন্দ্রিক মল্লরাজাদের উত্থান-পতনের ইতিহাস এই অঞ্চলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৮ শতকে মারাঠা আক্রমণ ও বর্ধমানের কাছে ভূখণ্ড হারানোর ফলে তাদের শক্তি ক্ষয় হয়। বর্তমানে এলাকা ছোটনাগপুর মালভূমির অরণ্যঘেরা প্রান্তভাগে অবস্থিত, যেখানে সাঁওতাল সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস।
ভূপ্রকৃতি পূর্ব বর্ধমানের পলিমাটির সমভূমি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে লাল ও ল্যাটেরাইট মাটি, টিলাময় উঁচুনিচু জমি এবং ক্ষয়প্রবণ ভূমি বেশি। জেলাজুড়ে কংসাবতী, দামোদর ও দ্বারকেশ্বর সহ বিভিন্ন নদী প্রবাহিত হলেও এই অংশে কৃষি মূলত বর্ষার উপর নির্ভরশীল। অরণ্য, উঁচু জমির ধানক্ষেত ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা এই অঞ্চল কৃষি ও বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় অর্থনীতি মূলত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষি, বনজ পণ্য সংগ্রহ, দিনমজুরি এবং ভিনরাজ্যে বা শহরের নানা কাজের উপর নির্ভরশীল। পরিকাঠামো, আয় ও পরিষেবা প্রাপ্তির বিচারে রানিবাঁধ ব্লক জেলার তুলনায় পিছিয়ে।
সড়কপথে রানিবাঁধের সঙ্গে জেলা সদর বাঁকুড়ার যোগাযোগ রয়েছে, দূরত্ব প্রায় ৬০–৭০ কিলোমিটার। রেল সংযোগ অপেক্ষাকৃত কম। সাধারণত বাঁকুড়া বা বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে দূরপাল্লার ট্রেনে চাপতে হয়। কলকাতা সড়কপথে প্রায় ২০০–২২০ কিলোমিটার দূরে।
SIR-এর পর ১০ হাজার ৫৭৫ ভোটার বাদ পড়া একটি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মুসলিম ভোটার খুব কম হওয়ায় কোন দলের ভোটব্যাঙ্ক কতটা প্রভাবিত হতে পারে তা স্পষ্ট নয়। জয়ের চাবিকাঠি থাকবে ST ও SC সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের উপর। যাঁরা মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি। ২০১৯ লোকসভায় BJP এগিয়েছিল এবং ২০২১ ও ২০২৪-এ তৃণমূল। ২০২১-এ প্রায় ১.৯০% এবং ২০২৪-এ ২.৭০% ভোটের ব্যবধান ছিল দুই দলের মধ্যে।
বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের ঝুলিতে ১০%-এর কম ভোট এসেছিল। এবার আলাদা আলাদা লড়াইয়ের সিদ্ধান্তের জেরে তাদের ভোট বৃদ্ধি হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। সব মিলিয়ে রানিবাঁধে ২০২৬-এর লড়াই জমজমাট হতে চলেছে বলেই আশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
Kshudiram tudu
BJP
Deblina hembram
CPI(M)
Biswanath sardar
IND
Nota
NOTA
Goutam kumar mudi
SUCI
Sudhir kumar murmu
CPI(ML)(L)
Fulchand hansda
BMUP
Deblina hembram
CPM
Kshudiram tudu
BJP
Nota
NOTA
Goutam kumar mudi
SUCI
Sudhir kumar murmu
CPI(ML)(L)
Jagannath tudu
JHAP
Biswanath tudu
JDP