
কেশিয়ারি পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামীণ এবং তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। যেখানে একসময় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র লড়াই হলেও সাম্প্রতিক অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস শক্ত ভীত তৈরি করেছে। কেশিয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর মহকুমার অন্তর্গত একটি ব্লকস্তরের জনপদ এবং বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ কেশিয়ারি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং দাঁতন–১ ব্লকের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা ৭টি বিধানসভা অংশের একটি।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৬৭ সালে গঠিত হয় এবং এখনও পর্যন্ত এখানে ১৪ বার নির্বাচন হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে CPIM-এর দাপট ছিল এখানে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৮টি নির্বাচনে জয...
কেশিয়ারি পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামীণ এবং তফসিলি উপজাতি (ST) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। যেখানে একসময় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র লড়াই হলেও সাম্প্রতিক অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস শক্ত ভীত তৈরি করেছে। কেশিয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর মহকুমার অন্তর্গত একটি ব্লকস্তরের জনপদ এবং বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ কেশিয়ারি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং দাঁতন–১ ব্লকের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা ৭টি বিধানসভা অংশের একটি।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৬৭ সালে গঠিত হয় এবং এখনও পর্যন্ত এখানে ১৪ বার নির্বাচন হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে CPIM-এর দাপট ছিল এখানে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৮টি নির্বাচনে জয়ী হয় বামেরা। তার আগে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে প্রথম ৪টি নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। ২০১৬ ও ২০২১, এই শেষ দুই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আসনটি দখল করে।
২০০১, ২০০৬ এবং ২০১১, এই ৩টি নির্বাচনে CPIM-এর কাছে পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল। ২০১৬ সালে পরিস্থিতি বদলায়। সেবার তৃণমূল প্রার্থী পরেশ মুর্মু তৎকালীন CPIM বিধায়ক বিরাম মান্ডিকে ৪০, হাজার ৭৪৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারান। ২০২১ সালেও পরেশ মুর্মু আসনটি ধরে রাখেন। যদিও ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৩৩০। সেবার BJP প্রার্থী সোনালি মুর্মু সোরেন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে BJP-র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাবের ইঙ্গিত দেয়।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও কেশিয়ারি বিধানসভায় দোলাচল স্পষ্ট ছিল। ২০০৯ সালে CPIM তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে ১৪ হাজার ২৩০ ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে তৃণমূল পাল্টা ঘুরে দাঁড়িয়ে CPIM-এর থেকে ৪০ হাজার ১২১ ভোটের লিড নেয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে BJP দু’দলকেই পিছনে ফেলে তৃণমূলের থেকে ১০ হাজার ৮৭৪ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালে আবার তৃণমূল কংগ্রেস লিড ফিরে পায়। BJP-র থেকে ৭ হাজার ৭৮২ ভোটে এগিয়ে যায়।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও কেশিয়ারিতে ধারাবাহিক বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে ভোটার ছিল ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৫৪৯ জন। সেখানে ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৭৫। ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ৩১ হাজার ০৯৮। ২০২১ সালে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮৩৫ এবং ২০২৪ সালে ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭০৫ জন। সামাজিক গঠনে তফসিলি উপজাতিভুক্ত ভোটাররা এখানে সবচেয়ে বড় অংশ, মোট ভোটারের ২৫.৬৮ শতাংশ। তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটার প্রায় ২০.৩২ শতাংশ। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা খুবই কম এবং তাঁরা এই কেন্দ্রের রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন না। কেশিয়ারি কার্যত সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকা, ৯৭.৯৩ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন। শহুরে এলাকার ভোটার মাত্র ২.০৭ শতাংশ। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি, ২০১১ সালে ৯১.৭০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৮.৪৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৮.৬৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৯.১২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৫.১৮ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে কেশিয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে, ওড়িশা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি ছিল উচ্চভূমি মেদিনীপুরের অংশ, যেখানে আদিবাসী সমাজের প্রভাব স্থানীয় জীবন ও অর্থনীতিতে স্পষ্ট। এই ব্লকের মধ্যেই গগনেশ্বর গ্রামে অবস্থিত কুরুম্বেরা দুর্গ, একটি প্রাচীন পাথরের দুর্গ, যার খিলানযুক্ত প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণ রয়েছে। দুর্গটি পঞ্চদশ শতকে ওড়িশার গজপতি রাজাদের আমলে নির্মিত হয় এবং পরে আওরঙ্গজেবের শাসনকালে এতে পরিবর্তন আনা হয়।
কেশিয়ারির ভৌগোলিক চরিত্র ছোটনাগপুর মালভূমির প্রান্তভাগ থেকে উপকূলীয় সমভূমির দিকে রূপান্তরের প্রতিফলন ঘটায়। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে ঢেউখেলানো ল্যাটেরাইট উঁচু জমি। চাষের বড় অংশ লাল ও কাঁকরমিশ্রিত ল্যাটেরাইট মাটিতে হয়। ছোট ছোট টিলা, অনুর্বর জমি ও ক্ষয়িষ্ণু বনভূমি ছড়িয়ে রয়েছে। পূর্ব দিকে নারায়ণগড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে যেতে যেতে ভূমি ক্রমে সমতল ও উর্বর হয়ে ওঠে। ছোট খাল ও মৌসুমি ঝিরি দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সুবর্ণরেখা নদী ও তার উপনদীগুলিতে মিশে যায়।
কেশিয়ারির অর্থনীতির প্রধান ভরসা এখনও কৃষি। ধান প্রধান ফসল, তার সঙ্গে ডাল, তেলবীজ এবং কিছু সবজির চাষ হয়। বিশেষত যেখানে সেচ সুবিধা ভাল। ল্যাটেরাইট অঞ্চলের জমি তুলনামূলক কম উর্বর এবং অনেক ক্ষেত্রেই এক ফসলি, ফলে জীবিকা অনিশ্চিত হয় এবং বহু পরিবারকে মজুরি কাজ ও পরিযায়ী শ্রমের উপর নির্ভর করতে হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন ছোট কৃষিকাজ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ, পশুপালন ও দৈনিক শ্রমের সমন্বয়ে জীবনধারণ করেন। গ্রামীণ সড়কগুলি গ্রামকে স্থানীয় হাটবাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে, এবং বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো পরিকাঠামো প্রায় সর্বত্র পৌঁছালেও স্বাস্থ্য পরিষেবা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখনও সীমিত।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে কেশিয়ারি সড়কপথে পশ্চিম মেদিনীপুরের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সঙ্গে যুক্ত। নিকটতম বড় রেল ও শিল্পকেন্দ্র খড়গপুর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে। জেলা সদর মেদিনীপুর শহর আরও উত্তরে। খড়গপুর হয়ে বা অন্যান্য সড়কপথে পৌঁছানো যায় সেখানে। দূরত্ব প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার। উত্তর-পশ্চিমে ঝাড়গ্রামও প্রায় একই দূরত্বে সড়কপথে পৌঁছানো যায়। যা পশ্চিমবঙ্গ–ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী বনভূমি ও আদিবাসী অঞ্চলের অংশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে দাঁতন ও নারায়ণগড় ব্লক হয়ে সুবর্ণরেখা অববাহিকা ও উপকূলীয় জেলাগুলির দিকে যাওয়া যায়।
কেশিয়ারি থেকে কলকাতা প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে। প্রতিবেশী রাজ্যগুলির মধ্যে ওড়িশার বারিপদা এবং ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর ও ঘাটশিলা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে পড়ে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কেশিয়ারি নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। ২০১৬ সালে বড় জয় এবং ২০২১ সালে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ ব্যবধানে জয়ের পর তারা টানা ৩টি নির্বাচনে (২০১৬, ২০২১ ও ২০২৪ লোকসভায় লিড) ভাল অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে BJP-ও ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে লিড নেওয়া এবং ২০২৪ সালে মাত্র ৩.৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার ভিত্তিতে এই ব্যবধান ঘোচানোর আশা দেখছে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছে এবং বড় কোনও পুনরুত্থান না হলে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারবে না। ফলে ২০২৬ সালে কেশিয়ারিতে লড়াই মূলত তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
Sonali murmu soren
BJP
Dr. pulin bihari baske
CPI(M)
Nota
NOTA
Mithun mandi
BSP
Jhareswar routh
SUCI
Biram mandi
CPM
Binod bihari murmu
BJP
Nota
NOTA
Shyamsundar singh
SUCI
Balai chandra nayek
IND
Gopen sing
IND