
ময়না পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমার অন্তর্গত একটি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা অংশের একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ময়না ব্লক এবং তমলুক ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ময়নায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন। এর মধ্যে CPIM ৬ বার, CPI ৫ বার এবং কংগ্রেস ৩ বার জয় পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে ২ বার জিতেছে, আর BJP-র ঝুলিতে রয়েছে একবারের জয়।
২০১১ সালে ভুষণচন্দ্র দোলাই ময়নায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম জয় এনে দেন। তিনি তৎকালীন CPIM বিধায়ক এসকে মুজিবুর রহমানকে ৯ হাজার ৯৫৭ ভোটে হারান। ২০১৬ সালেও দোলাই ...
ময়না পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমার অন্তর্গত একটি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভা অংশের একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ময়না ব্লক এবং তমলুক ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ময়নায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন। এর মধ্যে CPIM ৬ বার, CPI ৫ বার এবং কংগ্রেস ৩ বার জয় পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে ২ বার জিতেছে, আর BJP-র ঝুলিতে রয়েছে একবারের জয়।
২০১১ সালে ভুষণচন্দ্র দোলাই ময়নায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম জয় এনে দেন। তিনি তৎকালীন CPIM বিধায়ক এসকে মুজিবুর রহমানকে ৯ হাজার ৯৫৭ ভোটে হারান। ২০১৬ সালেও দোলাই আসনটি ধরে রাখেন তিনি। সেবার কংগ্রেস প্রার্থী মানিক ভৌমিককে তিনি হারান ১২ হাজার ১২৪ ভোটের ব্যবধানে। BJP ২০১১ সালে মাত্র ২.৫৯ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৩.২৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০২১ সালে নাটকীয় উত্থান ঘটে। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা তৃণমূলের প্রার্থীকে ১ হাজার ২৬০ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও ময়না বিধানসভায় একই ধরনের রাজনৈতিক প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস CPIM-এর থেকে ১৬ হাজার ৯১২ ভোটে এগিয়ে ছিল এবং ২০১৪ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ৮০৩। BJP যেখানে ২০০৯ সালে মাত্র ১.৫৩ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৪.৬৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেখানে ২০১৯ সালে তারা হঠাৎ করেই ৪২.৭০ শতাংশে পৌঁছে যায়। যদিও তৃণমূল তখনও ১২ হাজার ৩৮৩ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে BJP প্রথমবারের মতো ময়না বিধানসভায় তৃণমূলকে ৯ হাজার ৯৪৮ ভোটে পিছনে ফেলে।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও ময়নায় ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে ভোটার ছিল ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯৯৯ জন, সেখানে ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ২ ক্ষ ৩০ হাজার ৯৯। ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫০৩। ২০২১ সালে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৬৪ এবং ২০২৪ সালে ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯১ জন। সামাজিক গঠনের দিক থেকে তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটাররা এখানে সবচেয়ে বড় অংশ, মোট ভোটারের ২২.১৫ শতাংশ। মুসলিম ভোটার প্রায় ১১.১০ শতাংশ। ময়না মূলত গ্রামীণ এলাকা, এখানে ৯৪.৬৯ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন। শহুরে এলাকার ভোটার মাত্র ৫.৩২ শতাংশ। ভোটদানের হার ২০১১ সালে ৯০.৬৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৭.৪০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৮.০৯ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনে এই হার কিছুটা কমে ২০১৯ সালে ৮৫.১৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৪.০৪ শতাংশ হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে ময়নার পরিচয় জড়িয়ে আছে ময়নাগড়কে কেন্দ্র করে। এটি একসময় মেদিনীপুর অঞ্চলের একটি শক্তিশালী স্থানীয় রাজ্যের দুর্গনগরী ছিল। ‘কিল্লা ময়নাচৌড়া’ নামেও পরিচিত এই দুর্গটি প্রাচীন বন্দরনগরী তাম্রলিপ্তের কাছাকাছি অবস্থিত ছিল। চারদিকে পরপর পরিখা, মাটির উঁচু বাঁধ ও ঘন জঙ্গলে ঘেরা থাকায় এটি আক্রমণ করা কঠিন ছিল। লোককথা ও ঐতিহাসিক বিবরণে ময়নাগড়কে ধর্মমঙ্গল কাব্যের কিংবদন্তি রাজা লাউসেনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরে ষোড়শ শতকে বাহুবলিন্দ্র রাজবংশ এখানে রাজধানী স্থাপন করে দুর্গ মজবুত করে এবং পার্শ্ববর্তী সামন্ত ও বাংলা সুলতানদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সময়ের সঙ্গে দুর্গের পতন ঘটলেও, মন্দির, দেবস্থান, দরগা এবং এখনও দৃশ্যমান মাটির বাঁধ ও পরিখাগুলি ময়নার অতীত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের সাক্ষ্য বহন করে।
ভৌগোলিকভাবে ময়না পূর্ব মেদিনীপুরের উপরের ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি ও পূর্ব উপকূলীয় সমতলের অংশ। হলদি, রূপনারায়ণ, রাসুলপুর, বাগুই ও কেলেঘাই নদীঘেরা এই বদ্বীপ অঞ্চলটি অত্যন্ত উর্বর হলেও জোয়ারভাটা ও ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। বাঁধ ও নিকাশি খাল জল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, আর নলকূপ ও অগভীর সেচব্যবস্থায় বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়।
এখানকার অর্থনীতির মূল ভরসা কৃষি। ধান প্রধান ফসল, পাশাপাশি ডাল, তেলবীজ ও নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। পুকুর ও খালে মৎস্যচাষ ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের জীবিকার উৎস। নদীর জল সেচে কাজে এলেও জোয়ারের সময় নোনা জলের ব্যাকফ্লো নিচু জমিতে সমস্যা সৃষ্টি করে। গ্রামীণ হাট, ছোট ব্যবসা ও দৈনিক মজুরি কাজ কৃষির পাশাপাশি আয়ের অতিরিক্ত পথ তৈরি করে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে ময়না সড়ক ও রেল পথে তমলুকের সঙ্গে যুক্ত, দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার। কোলাঘাট প্রায় ১৯ কিলোমিটার উত্তরে। কলকাতা প্রায় ৯০ থেকে ৯৬ কিলোমিটার দূরে। পাঁশকুরা ১৩ কিলোমিটার উত্তরে, হলদিয়া ৪৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং খড়গপুর ৫১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। জেলা সদর তমলুক, এগরা ও কাঁথির মতো শহরগুলি ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে।
রাজনৈতিকভাবে বর্তমানে ময়নায় বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা মাত্র ২.২৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩.০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের প্রভাব প্রায় নেই বললেই চলে। আসন্ন নির্বাচন এখন স্পষ্টতই BJP ও তৃণমূলে মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেই ফোকাস করছে। BJP ২০২১ সালে জয়ী হয় এবং ২০২৪ সালে এগিয়ে থেকে তাদের অবস্থান শক্ত করেছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস হারানো আসন পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া হচ্ছে।
Sangram kumar dolai
AITC
Manik bhaumik
INC
Subrata bag
SUCI
Nota
NOTA
Kamal bag
BSP
Mahammad ali sk
IND
Biplab barai
IND
Manik bhowmik
INC
Das sukesh ranjan
BJP
Nimai guria
BHNP
Madan samanta
SUCI
Nota
NOTA