
বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনটি সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, মাঝেমধ্যে কংগ্রেস ও কংগ্রেস থেকে ভেঙে বেরোনো দলগুলি সেখানে সাফল্য পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। বিজেপির উত্থানের ফলে কোতুলপুর এখন কার্যত বিজেপি ও শাসক তৃণমূলের মধ্যে লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
১৯৫৭ সালে কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা। প্রথমদিকে এটি ছিল সাধারণ শ্রেণির আসন। ২০০১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ২০০৬ সাল থেকে আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত করা হয়। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে কোতুলপুর ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জয়পুর ব্লকের নয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত। কোতুলপু...
বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনটি সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, মাঝেমধ্যে কংগ্রেস ও কংগ্রেস থেকে ভেঙে বেরোনো দলগুলি সেখানে সাফল্য পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। বিজেপির উত্থানের ফলে কোতুলপুর এখন কার্যত বিজেপি ও শাসক তৃণমূলের মধ্যে লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
১৯৫৭ সালে কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা। প্রথমদিকে এটি ছিল সাধারণ শ্রেণির আসন। ২০০১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ২০০৬ সাল থেকে আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত করা হয়। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে কোতুলপুর ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জয়পুর ব্লকের নয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত। কোতুলপুর বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা আসনের একটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাতুলপুরে মোট ১৭ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালের উপনির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত। এই কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে সিপিআই(এম), মোট আটবার। এর মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতটি নির্বাচনে জয় পেয়েছিল তারা। কংগ্রেস চারবার এই আসন দখল করেছে। বর্তমানে বিলুপ্ত বাংলা কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস—উভয় দলই দু’বার করে জয় পেয়েছে। বিজেপি এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত একবারই জয়ের স্বাদ পেয়েছে।
কাতুলপুরের ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান যে ক্রমশ বদলাচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে। তিনটি আলাদা দল জয়ী হয়েছে। ২০১১ সালে কংগ্রেস প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ সিপিআই(এম)-এর পূর্ণিমা বাগদীকে মাত্র ১,৪৩৩ ভোটে হারান। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ২০১৪ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্র জেতার পর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা সিপিএমের শীতল কৈবর্ত্যকে ৪০,৩৫৭ ভোটে হারিয়ে আসনটি ধরে রাখেন। ২০১৬ সালেও তিনি জয়ী হন, যদিও কংগ্রেস প্রার্থী অক্ষয় সাঁতরার বিরুদ্ধে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২১,২৪৮ ভোটে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেয় বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী হারাকালি প্রতিহার তৃণমূলকে ১১,৭৮৫ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন, যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তোলে। প্রতিহারের দলবদল সত্ত্বেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোতুলপুর বিধানসভা এলাকায় বিজেপির আধিপত্য পুরোপুরি ভাঙেনি। ২০১৯ সালে বিজেপি তৃণমূলের উপর ৯,০৯৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে সেই লিড কিছুটা কমে ৬,৩৩১ ভোটে দাঁড়ায়। এর আগে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সিপিআই(এম) তৃণমূলের থেকে ২৮,৪৭৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে পাল্টা তৃণমূল সিপিএমকে ৪১,০৮০ ভোটে হারায়।
২০২৬ সালের খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী কাতুলপুরে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩১২। এসআইআর-এ অবৈধ অভিবাসী, মৃত, স্থানান্তরিত ও দ্বৈত নাম বাদ দিয়ে এই তালিকা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৮২। এর আগে ২০২১ সালে ছিল ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৮৫, ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৯৪, ২০১৬ সালে ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৪২ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৯০ হাজার ১৫১। এই কেন্দ্রে তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটারই সবচেয়ে বড় অংশ-৩৫.৩৯ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার ২.৮১ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ১৫.৫০ শতাংশ। কাতুলপুরে ভোটদানের হার বরাবরই অত্যন্ত বেশি। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৯২.৫০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৯০.৭০ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৯.২৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯০.৮০ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে কোতুলপুর বাঁকুড়া জেলার পূর্বাংশে অবস্থিত। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল বিষ্ণুপুরের হিন্দু রাজাদের উত্থান-পতনের সঙ্গে যুক্ত। উনিশ শতকের শেষভাগে বর্ধমান জেলা থেকে সোনামুখী, কোতুলপুর ও ইন্দাস থানা বাঁকুড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। বিষ্ণুপুর রাজ্যের মন্দির স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছাপ আজও কোতুলপুর ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পোড়ামাটির মন্দির ও প্রাচীন স্থাপনায় দেখা যায়। ভূপ্রকৃতির দিক থেকে কোতুলপুর এমন এক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বাংলার পূর্ব দিকের পলিমাটি সমতল ভূমি ধীরে ধীরে পশ্চিমের ছোটনাগপুর মালভূমির দিকে উঠেছে। জমি মূলত সমতল বা সামান্য ঢেউখেলানো। দামোদর, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী ও কংসাবতী নদী এই জেলার কৃষিকে সমর্থন করে।
স্থানীয় অর্থনীতি মূলত কৃষি, কৃষি-সহায়ক কাজ এবং গ্রামীণ বাজারের উপর নির্ভরশীল। কোতুলপুর ও আশপাশের হাট-বাজারগুলি পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে। অনেক মানুষ বাঁকুড়া শহর বা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে পরিষেবা, নির্মাণ ও ক্ষুদ্র শিল্পে কাজ করতে যাতায়াত করেন। কোতুলপুর ব্লক উন্নয়ন দফতরের সদর দফতর এই জনপদেই অবস্থিত। সড়কপথে কোতুলপুর বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়া শহরের সঙ্গে যুক্ত। বাঁকুড়া জেলা সদর প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দূরে এবং বিষ্ণুপুর মহকুমা সদর প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে। নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে রয়েছে সোনামুখী (প্রায় ৬০ কিমি), জয়পুর ও ইন্দাস (২৫–৩৫ কিমি) এবং হুগলি জেলার আরামবাগ (প্রায় ৩০ কিমি)।
নিকটবর্তী রেলস্টেশন হিসেবে ইন্দাস ও সাহসপুর রোড গুরুত্বপূর্ণ, দু’টিই প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া হুগলি জেলার আরামবাগ পি সি সেন স্টেশন প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে, যেখান থেকে হাওড়া-বর্ধমান রুটে সহজে যাতায়াত করা যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাতুলপুরে সামান্য হলেও এগিয়ে বিজেপি। পরপর তিনটি নির্বাচনে এই বিধানসভা এলাকায় বিজেপি লিড পেয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস আশা রাখছে ব্যবধান কমানোর। ২০২১ সালের বিজেপি বিধায়ক এখন তৃণমূলে থাকায় তারা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে দলের অন্দরে ধারণা। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ভোট শতাংশের ব্যবধান ছিল যথাক্রমে ৪.৩০ এবং ২.৮০ শতাংশ।
বাম-কংগ্রেস জোট যদি সামান্যও ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তাহলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে খানিকটা ভাঙন ধরতে পারে। ফলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে কোতুলপুর এমন এক বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে অল্প ব্যবধানের ফলাফল, প্রার্থী নির্বাচন, তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটারদের কাছে পৌঁছনো এবং স্থানীয় ইস্যুই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করতে পারে।
Sangeeta malik
AITC
Akshay santra
INC
Haru roy
BSP
Nota
NOTA
Mohan santra
SUCI
Akshay santra
INC
Tarun kumar kotal
BJP
Nota
NOTA
Tapas kshetrapal
BMUP