
শালতোড়া বাঁকুড়া জেলার একটি ব্লক স্তরের শহর এবং তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। মাত্র ১৫ বছর আগে গঠিত এই কেন্দ্রটি শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শালতোড়া ও মেজিয়া ব্লক এবং গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর শালতোড়ায় এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রথম দু’টি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সহজ জয় পায়। ২০১১ সালে স্বপন বাউরি CPIM-এর ষষ্ঠীচরণ বাউরিকে ১২ হাজার ৬৯৭ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ১২ হাজার ৫২৩ ভোটে পরাজিত করেন। দীর্ঘদিন প্রান্তিক শক্তি হিসেবে থাকা BJP ২০২১ সালে আসনটি দখল কর...
শালতোড়া বাঁকুড়া জেলার একটি ব্লক স্তরের শহর এবং তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। মাত্র ১৫ বছর আগে গঠিত এই কেন্দ্রটি শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শালতোড়া ও মেজিয়া ব্লক এবং গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর শালতোড়ায় এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রথম দু’টি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সহজ জয় পায়। ২০১১ সালে স্বপন বাউরি CPIM-এর ষষ্ঠীচরণ বাউরিকে ১২ হাজার ৬৯৭ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ১২ হাজার ৫২৩ ভোটে পরাজিত করেন। দীর্ঘদিন প্রান্তিক শক্তি হিসেবে থাকা BJP ২০২১ সালে আসনটি দখল করে। চন্দনা বাউরি তৃণমূলের সন্তোষ কুমার মণ্ডলকে ৪ হাজার ১৪৫ ভোটে হারান। সেই নির্বাচনে CPIM অনেক পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। এর আগে শালতোড়ায় BJP-র উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। ২০০৯ সালে তাদের ভোটের হার ছিল ৬.৫৮ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৮.১৬ শতাংশ। ২০২১ সালে বিধায়ক স্বপন বাউরিকে বাদ দিয়ে সন্তোষ মণ্ডলকে প্রার্থী করে তৃণমূল। সেই পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে BJP প্রান্তিক অবস্থা থেকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে উঠে আসে।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও শালতোড়া অংশে তৃণমূল ও BJP-র মধ্যে হিসেবের অদলবদল ঘটিয়েছে। ২০০৯ সালে তৃণমূল CPIM-এর কাছে ১০ হাজার ৩৪৫ ভোটে পিছিয়ে পড়লেও ২০১৪ সালে ছবিটা বদলে যায়। তৃণমূল CPIM-কে ১৩ হাজার ২৫৬ ভোটে পিছনে ফেলে দেয়। ২০১৯ সালে BJP উত্থান ঘটিয়ে এই অংশে তৃণমূলের থেকে ১৫ হাজার ৫৬ ভোটে এগিয়ে যায়। তবে ২০২৪ সালে তৃণমূল আবার পাল্টা ঘুরে দাঁড়িয়ে BJP-র বিরুদ্ধে ১১ হাজার ১০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
শালতোড়ায় ভোটারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬০৬, ২০১৬ সালে ২ লক্ষ ১২ হাজার ৯৫৫, ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ২৪ হাজার ১৫০, ২০২১ সালে ২ লক্ষ ৩২ হাজার ৫১৭ এবং ২০২৪ সালে ২ লক্ষ ৪২ হাজা ৯২৪। এখানে তফসিলি জাতির ভোটাররাই সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী, মোট ভোটারের ৩৪.৭০ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার ১০.৬২ শতাংশ। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা খুবই কম এবং ফলে তাদের প্রভাব সীমিত। এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটার তালিকায় কোনও শহুরে ভোটার নেই।
ভোটদানের হার বরাবরই শালতোড়ায় বেশি। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৬.৫৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.৪০ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৫.৬৫ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৭.১০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৩.৪০ শতাংশ। ভৌগোলিকভাবে শালতোড়া বাঁকুড়া জেলার উত্তর-পশ্চিম অংশে, ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে নেমে আসা উঁচু জমির উপর অবস্থিত। ভূপ্রকৃতি অসমতল, কোথাও নিচু পাহাড় দেখা যায়। মাটি মূলত ল্যাটেরাইট বা লালচে, বহু জায়গা ঝোপঝাড় ও শাল অরণ্যে ঢাকা।
স্থানীয় অর্থনীতি কৃষি, খনি এবং পাথর খাদানের মিশ্রণের উপর দাঁড়িয়ে আছে। সীমিত চাষযোগ্য জমিতে ধান ও কিছু নগদ ফসল চাষ হয়। তবে শালতোড়া, মেজিয়া ও বড়জোড়ার কয়লা খনি এবং ব্লকের বিভিন্ন পাথর খাদান উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, যদিও এর পরিবেশগত মূল্যও রয়েছে। বিশেষ করে জমি ও জলের উপর চাপ।
শালতোড়া দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার শিল্প বলয়ের সঙ্গে যুক্ত। আশপাশের খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা বাঁকুড়া ও সংলগ্ন জেলাগুলির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বহু বাসিন্দা খনি শ্রমিক, অস্থায়ী মজুর, পরিবহণ কর্মী এবং খনি ও খাদান ঘিরে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র পরিষেবা খাতে কাজ করেন।
সড়কপথে শালতোড়া জেলা সদর বাঁকুড়া শহর থেকে প্রায় ৪৫–৫০ কিলোমিটার উত্তরে এবং আসানসোল থেকে প্রায় ৪০–৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। দুর্গাপুর প্রায় ৪৫–৫০ কিলোমিটার, আদ্রা ও রঘুনাথপুর প্রায় ২৫–৩০ কিলোমিটার এবং কুলটি প্রায় ৫৫–৬০ কিলোমিটার দূরে। এই অবস্থান শালতোড়াকে বাঁকুড়া জেলা ও আসানসোল–দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সংযোগ তৈরি করেছে।
নিকটতম বড় রেল সংযোগ রয়েছে আসানসোল জংশন ও বার্নপুরে, যা প্রায় ১৯–২১ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে হাওড়া, ধানবাদ, দিল্লি ও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ পাওয়া যায়। রাজ্য রাজধানী কলকাতা সড়কপথে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে।
অন্যান্য নিকটবর্তী জেলা সদরগুলির মধ্যে পুরুলিয়া প্রায় ৭০–৮০ কিলোমিটার দূরে। ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ওপারে জামতাড়া ও ধানবাদ প্রায় ৮০–১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত, যা শালতোড়াকে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা ও সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের বৃহত্তর কয়লা ও শিল্প বলয়ের সঙ্গে যুক্ত করে।
রাজনৈতিকভাবে শালতোড়ার কাহিনি বর্তমান গ্রামীণ বাঁকুড়ার পরিচিত ছবি তুলে ধরে। প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য, পরে BJP-র প্রান্তিক অবস্থা থেকে উঠে এসে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা, আর বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়া। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে BJP-র কাছে ৭.৯০ শতাংশে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। তবে ২০২৪ সালে এই অংশে ১১ হাজার ১০০ ভোটের লিড পুনরুদ্ধার করার পর ২০২৬ সালে আসন পুনর্দখলের ব্যাপারে দলটির নতুন করে আশাবাদী হয়েছে।
অন্যদিকে BJP ২০১৯ ও ২০২১ সালের শক্তিশালী ফলাফলের উপর ভরসা রাখবে এবং ২০২৪ সালের ফলকে সাময়িক বিচ্যুতি হিসেবে দেখতেই পারে। ২০২৬ সালে শালতোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP-র মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। বামফ্রন্ট-কংগ্রেসও সেখানে সহায়ক ভূমিকায় থাকবে।
Sontosh kumar mondal
AITC
Nandadulal bauri
CPI(M)
Aditya kumar bauri
BMUP
Nota
NOTA
Dipen bauri
SUCI
Sasthi charan bouri
CPM
Snehasis mondal
BJP
Nota
NOTA
Dipak kumar bhuiya
BMUP
Dipen bauri
SUCI
Mahananda maji
IND