
এক সময়ের বাম গড় গড়বেতা। সেখানে এখন তারা মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পায়। বর্তমানে এই আসনে তৃণমূলেরই রমরমা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখন দেখার ২০২৬-এর ভোটে ঠিক কোন দিকে যায় গড়বেতার মানুষের রায়? আসলে জেনারেল ক্যাটাগরির একটি সিট হল গড়বেতা। এটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত। গড়বেতা কেন্দ্রটি ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। আর এই কেন্দ্রটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই একাধিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ১৯৫১ সালে তৈরি হয় এই কেন্দ্রটি। তবে ২০১১ সাল থেকেই নতুন ভাবে এই সিটটা গড়ে তোলা হয়। মাঝে ১৯৫৭ সাল এবং ১৯৬২ সালের ভোটে এই কেন্দ্রটি নির্বাচনী মানচিত্র থেকে হারিয়ে দিয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালে সিটটাকে ফিরিয়ে আনা হয়। এই সময় এর নাম ছিল গড়বেতা পূর্ব এবং গড়বেতা দক্ষিণ। ...
এক সময়ের বাম গড় গড়বেতা। সেখানে এখন তারা মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পায়। বর্তমানে এই আসনে তৃণমূলেরই রমরমা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। এখন দেখার ২০২৬-এর ভোটে ঠিক কোন দিকে যায় গড়বেতার মানুষের রায়? আসলে জেনারেল ক্যাটাগরির একটি সিট হল গড়বেতা। এটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত। গড়বেতা কেন্দ্রটি ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। আর এই কেন্দ্রটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই একাধিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। ১৯৫১ সালে তৈরি হয় এই কেন্দ্রটি। তবে ২০১১ সাল থেকেই নতুন ভাবে এই সিটটা গড়ে তোলা হয়। মাঝে ১৯৫৭ সাল এবং ১৯৬২ সালের ভোটে এই কেন্দ্রটি নির্বাচনী মানচিত্র থেকে হারিয়ে দিয়েছিল। তবে ১৯৬৭ সালে সিটটাকে ফিরিয়ে আনা হয়। এই সময় এর নাম ছিল গড়বেতা পূর্ব এবং গড়বেতা দক্ষিণ। এই দুটি সিট ছিল ২০০৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত। তারপর এই দুটি সিটকে ডিলিট করা হয়। তার জায়গায় আসে নতুন গড়বেতা। এর এলাকাও নতুন করে ঠিক করা হয়। বর্তমানে এই কেন্দ্রটি গড়বেতা ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্ল এবং গড়বেতা ২ ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত হয়েছে। এই সিটে বরাবরই দাপট ছিল বামেদের। এমনকী পরিবর্তনের ২০১১-এর ভোটেও এই আসনটি পায় বামফ্রন্ট। তাদের পক্ষ থেকে সিপিআইএম এই আসনটি দখল করে। সেই ভোটে সিপিআইএম-এর সুশান্ত ঘোষ কংগ্রেসের হেমা চৌবেকে ১৫০৭০ ভোটে হারিয়ে দেন। তারপর অবশ্য বেদখল হয়ে যায় সিপিআইএম এর সিট। তাদের জায়গা নেয় তৃণমূল। ২০১৬ সালে তৃণমূলের আশিস চক্রবর্তী সিপিএম-এর সারফারাজ খানকে ৬১,১৫৭ ভোটে হারিয়ে দেন। আবার ২০২১ সালে তৃণমূলের উত্তরা সিং বিজেপির মদন রুইদাসকে ১০৫২৭ ভোটে পরাজিত করেন এই সিটে। এই সিটে বিজেপি নিজের উপস্থিতি জানান দেয় ২০১৯ সালে। সে বারের লোকসভায় এই সিটে তারা ৬৮১১ ভোটে লিড পায় তৃণমূলের থেকে। তবে ২০২৪ সালে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি গেরুয়া শিবির। তারা এগিয়েছিল ২৩১৯৭ ভোটে। গড়বেতা বিধানসভায় ২০২৪ সালে ভোটার ছিল ২৪৩৪০৭ জন। সেখানে ২০২১ সালে ২৩২০৪৬ ভোটার ছিল। আবার ২০১৯ সালে এখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২১৮৪৯০। এই কেন্দ্রে তফসিলি জাতির সংখ্যা ২৫.০২ শতাংশ। এছাড়া তফসিলি উপজাতি এবং মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৯.৪২ শতাংশ এবং ১৪.১০ শতাংশ। এই সিটের বেশিরভাগ ভোটারই গ্রামের বাসিন্দা। মাত্র ৩.৫৭ শতাংশ ভোটার শহরে বাস করেন। গড়বেতায় ভোটদানের হার সবসময়ই বেশির দিকে থাকে। এখানে ২০১১ সালে ৯৩.১৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। তবে ২০২৪ সালে সেই হার কমে মাত্র ৮৬.৫৭ শতাংশ দাঁড়ায়। আর এই কমে যাওয়া ভোটের হারটাই চিন্তার বিষয়। গড়বেতার ছোট হলেও একটা তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস রয়েছে। এখানে রয়েছে গড়বেতা কেল্লা। এটাই এখানকার গৌরবময় ইতিহাসের পরিচয় বহন করে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় লোকগীতি এবং উৎসব খুবই বিখ্যাত। আর এগুলি গড়বেতার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। এছাড়া এই অঞ্চলে একাধিক মন্দিরও রয়েছে। গড়বেতা অঞ্চলটি মূলত সমভূমি। এই অঞ্চলের কাছ দিয়ে মধ্যে শিলাবতী এবং কংসাবতীর মতো নদীগুলি বয়ে গিয়েছে। যার ফলে এই অঞ্চলে কৃষিকাজ ভালই হয়। এই অঞ্চলে রয়েছে ঘন জঙ্গলও। সেখানে শাল, মহুয়া এবং পলাশ গাছের পাশাপাশি ছোট প্রাণী এবং পাখিদের দেখা পাওয়া যায়। এই কেন্দ্রের অর্থনীতি মূলত নির্ভর করে কৃষিকাজ, কুটির শিল্প, বনজ পণ্য সংগ্রহ এবং ছোট ব্যবসার ওপর। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্থানীয় বাজার এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ রয়েছে। গড়বেতা জেলা সদর মেদিনীপুর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কলকাতা প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে। ঝাড়গ্রাম শহর গড়বেতা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আর বাঁকুড়া প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। পার্শ্ববর্তী এলাকা যেমন বিষ্ণুপুর, চন্দ্রকোনা এবং খাতরা ২৫ থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে পড়ে। এই কেন্দ্রের নিকটতম প্রধান রেলওয়ে স্টেশন হল গড়বেতা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এখানকার মানুষের জন্য। ২০২৬ সালে গড়বেতায় হতে চলেছে টানটান হতে চলেছে গড়বেতার ভোটের লড়াই। এখানে ঠিক তৃণমূলের কাঁধে নিঃশ্বাস ছাড়ছে তৃণমূলের। ও দিকে প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার দশা বাম-কংগ্রেসের। তাদের ভোট পার্সেন্টেজ মাত্র ৪.৬ শতাংশ দাঁড়িয়েছে ২০২৪ সালে। যার ফলে এটা সহজেই বোঝা যায় যে আগামি ভোটে লড়াই মূলত বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যেই।
Madan ruidas
BJP
Ghosh kumar tapan
CPI(M)
Nota
NOTA
Tapas kumar mishra
SUCI
Kutubuddin khan
IND
Sorforaj khan
CPM
Pradip lodha
BJP
Nota
NOTA
Tapas mishra
SUCI