
আইআইটি ও বিশ্বের দীর্ঘতম রেল প্ল্যাটফর্মের শহর খড়গপুর। সেই খড়গপুর সদরই এখন বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম এপিসেন্টার। বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের। আর সেই কারণেই সবার নজর খড়্গপুর সদরে ২০২৬ এর ভোটের দিকে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর সদর একটি জেনারেল শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। খড়্গপুর সদর জাতীয় স্তরে মূলত দু’টি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আইআইটি খড়্গপুর, ভারতের প্রথম আইআইটি। যেখান থেকে গুগলের সিইও পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। দ্বিতীয়ত, খড়্গপুর রেল জংশন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন। বিশ্বের দীর্ঘতম রেল প্ল্যাটফর্ম। পূর্ব ভারতের পাশাপাশি সারা দেশে মানুষ ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত...
আইআইটি ও বিশ্বের দীর্ঘতম রেল প্ল্যাটফর্মের শহর খড়গপুর। সেই খড়গপুর সদরই এখন বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম এপিসেন্টার। বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের। আর সেই কারণেই সবার নজর খড়্গপুর সদরে ২০২৬ এর ভোটের দিকে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর সদর একটি জেনারেল শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এটি মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। খড়্গপুর সদর জাতীয় স্তরে মূলত দু’টি কারণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আইআইটি খড়্গপুর, ভারতের প্রথম আইআইটি। যেখান থেকে গুগলের সিইও পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। দ্বিতীয়ত, খড়্গপুর রেল জংশন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন। বিশ্বের দীর্ঘতম রেল প্ল্যাটফর্ম। পূর্ব ভারতের পাশাপাশি সারা দেশে মানুষ ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই রেল জংশনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, খড়্গপুর সদরের নাম ও সীমানা বহুবার পরিবর্তন হয়েছে। প্রথম বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে ‘খড়্গপুর’ নামে গঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে এটি ‘খড়্গপুর লোকাল’ নামে দ্বৈত আসনে পরিণত হয়। ১৯৬২ সালে আবার এটি একক আসনে ফিরে আসে এবং ১৯৭২ পর্যন্ত সেই অবস্থাই বজায় ছিল। ১৯৭৭ সালে খড়্গপুর লোকাল ভেঙে খড়্গপুর গ্রামীণ এবং খড়্গপুর শহর নামে দুটি নতুন কেন্দ্র তৈরি হয়। ২০০৬ সালে পুনরায় সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে এই দুটি কেন্দ্র বিলুপ্ত হয়। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে বর্তমান খড়্গপুর এবং খড়্গপুর সদর কেন্দ্রের অস্তিত্ব শুরু হয়। খড়্গপুর সদর মূলত শহরভিত্তিক কেন্দ্র, যেখানে সমস্ত ভোটার খড়্গপুর পুরসভা এবং খড়্গপুর–১ ব্লকের রেল বসতি এলাকায় বসবাস করেন।
প্রথম পর্যায়ে, যখন কেন্দ্রটির নাম ছিল খড়্গপুর বা খড়্গপুর লোকাল, তখন এখানে কংগ্রেসের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে কংগ্রেস চারবার জয়ী হয়। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া তিনবার জয় পায়। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত, যখন কেন্দ্রটির নাম ছিল খড়্গপুর টাউন, তখন কংগ্রেস ছয়বার জয়ী হয়। ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টি একবার জয় পায়।
২০১১ সালের পর থেকে খড়্গপুর সদরের ভোটের ফলাফল উল্লেখযোগ্য ভাবে পরিবর্তনশীল হয়েছে। চারটি ধারাবাহিক নির্বাচনে, যার মধ্যে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে, কোনও দলই পরপর দুইবার এই আসন ধরে রাখতে পারেনি। কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহনপাল, যিনি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ, ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর অনিল কুমার দাসকে ৩২,৩৬৯ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। সে সময় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস জোটবদ্ধ ছিল।
২০১৬ সালে বিজেপি বড় সাফল্য পায়। দিলীপ ঘোষ কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক সোহনপালকে ৬,৩০৯ ভোটে পরাজিত করেন। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে ছিল। তবে ২০১৯ সালে দিলীপ ঘোষ লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ায় উপনির্বাচন হয়। সেই উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদীপ সরকার বিজেপির প্রেমচন্দ্র ঝাকে ২০,৮৫৩ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ২০২১ সালে আবার বিজেপি আসনটি পুনর্দখল করে। বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রদীপ সরকারকে ৩,৭৭১ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখলে বোঝা যায়, ২০১৪ সাল থেকে এই কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিজেপি তৃণমূলের থেকে ২১,৯০৬ ভোটে এগিয়ে ছিল, যদিও ২০১৯ সালের ৪৫,১৩২ ভোটের লিডের তুলনায় এই ব্যবধান কমেছে। বামফ্রন্টের ভোটের উপস্থিতি সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রায় ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালে খড়্গপুর সদরে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৩৯,৭১০। ২০২১ সালে ছিল ২,৩৪,৬৭২ এবং ২০১৯ সালে ছিল ২,২৫,২৬৩। এই কেন্দ্রে কোনও
একক সম্প্রদায়ের প্রাধান্য নেই। মুসলিম ভোটার ১২.৩০ শতাংশ, তফসিলি জাতি ভোটার ১০.৬৬ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ভোটার ৩.২০ শতাংশ। ভোটদানের হার তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও আশপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় কিছুটা কম। ২০২৪ সালে ভোটদানের হার ছিল ৬৯.৭২ শতাংশ। ২০২১ সালে ছিল ৭৩.০৬ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭২.৩৯ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৭১.৭১ শতাংশ।
খড়গপুরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি রেল এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প। আইআইটি খড়্গপুরের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসা এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। খড়্গপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন। কলকাতা ও হাওড়ার পাশাপাশি মেদিনীপুর (১৪ কিমি), ঝাড়গ্রাম (৪৫ কিমি), বিষ্ণুপুর (৭০ কিমি) এবং বাঁকুড়ার (৮০ কিমি) সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। জেলা সদর মেদিনীপুর সহজেই পৌঁছনো যায়। কলকাতা প্রায় ১২০ কিমি দূরে। ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর প্রায় ১০০ কিমি পশ্চিমে এবং ওড়িশার বারিপদা প্রায় ১২০ কিমি দূরে। জাতীয় সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে এই অঞ্চল পূর্ব ও মধ্য ভারতের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র।
পরিকাঠামোর দিক থেকে খড়্গপুর সদর অনেকটাই উন্নত বলা যেতে পারে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ বেশ নির্ভরযোগ্য। বিদ্যুৎ, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র রয়েছে। মূলত এই পরিবহণ ব্যবস্থার কারণেই এই অঞ্চলকে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি স্পষ্টতই লিড নিয়ে এই কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। শহরাঞ্চল চরিত্র এবং হিন্দু ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিজেপির শক্তি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মেন চ্যালেঞ্জ হল প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার, যারা ভোট দেননি, তাঁদের সক্রিয় করা এবং নিজেদের সমর্থকদের একত্রিত করা। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের উপস্থিতি এখন প্রান্তিক পর্যায়ে। ফলে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের লড়াই যত এগোবে, ততই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
Pradip sarkar
AITC
Reeta sharma
INC
Nota
NOTA
D. madhusudan rao
HUMP
Suranjan mahapatra
SUCI
Gyan singh sohanpal
INC
Tewary rama prasad
AITC
Nota
NOTA
Suranjan mahapatra
SUCI
Sk asgar ali
BSP
Mata prasad gupta
IND