
২০১১ সালের পর বারবার রাজনৈতিক রং বদল করেছে ছাতরা বিধানসভা। আর সেটাই তৃণমূল এবং বিজেপির মাথা ব্যথার কারণ। এখন দেখার আগামী ভোটে কোন দলের পতাকা ওড়ে এই কেন্দ্রতে? প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত একটি জেনারেল ক্যাটাগরির সিট হল ছাতনা। এটি বাঁকুড়া লোকসভা আসনের মধ্যে থাকা সাতটি বিভানসভা আসনের মধ্যে একটি। ১৯৫১ সালে তৈরি হয়েছিল এই বিধানসভা কেন্দ্রটি। যেই কারণে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করেছে ছাতনা।
ছাতনা ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালের নির্বাচনে দ্বৈত-আসন (ডুয়াল সিট) নির্বাচনী এলাকা হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিল। ১৯৫২ সালে এখানে কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভা জয়ী হয়। যদিও ১৯৫৭ সালে কংগ্রেস দুটি আসনেই জয় লাভ করে। ১৯৬২ সাল থেকে অবশ্য ...
২০১১ সালের পর বারবার রাজনৈতিক রং বদল করেছে ছাতরা বিধানসভা। আর সেটাই তৃণমূল এবং বিজেপির মাথা ব্যথার কারণ। এখন দেখার আগামী ভোটে কোন দলের পতাকা ওড়ে এই কেন্দ্রতে? প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত একটি জেনারেল ক্যাটাগরির সিট হল ছাতনা। এটি বাঁকুড়া লোকসভা আসনের মধ্যে থাকা সাতটি বিভানসভা আসনের মধ্যে একটি। ১৯৫১ সালে তৈরি হয়েছিল এই বিধানসভা কেন্দ্রটি। যেই কারণে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করেছে ছাতনা।
ছাতনা ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালের নির্বাচনে দ্বৈত-আসন (ডুয়াল সিট) নির্বাচনী এলাকা হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিল। ১৯৫২ সালে এখানে কংগ্রেস এবং হিন্দু মহাসভা জয়ী হয়। যদিও ১৯৫৭ সালে কংগ্রেস দুটি আসনেই জয় লাভ করে। ১৯৬২ সাল থেকে অবশ্য ছাতনা একক আসনে পরিণত হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হওয়া ১৫টি নির্বাচনে বাম জোটের আরএসপি ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পরপর সাতবার জয়লাভ করে৷ আবার কংগ্রেস চারবার এই আসনে জেতে৷ এখানে ১৯৬৯ সালে একবার জয়ী হয় সংযুক্ত সমাজতান্ত্রিক দল।
২০০৮ সালে এই নির্বাচনী কেন্দ্রটির সীমানা নতুন করে ঠিক করা হয়। এখন এই কেন্দ্রের অধীনে রয়েছে পুরো ছাতনা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং ইন্দপুর ব্লকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত। আর চরিত্র বদলের পর থেকেই ছাতনা বিধানসভার ভোটের ফলাফলও বদলে যেতে থাকে। ২০১১ সালের পর তিনটি বিধানসভা ভোট দেখেছে ছাতনা। আর প্রতিবারই এই এলাকার মানুষ ভিন্ন দলকে বেছে নিয়েছে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে নিজেদের পতাকা উড়িয়েছিল। সেই ভোটে শুভাশিস বটব্যাল RSP-এর অনন্ত বন্ধু মণ্ডলকে ৭,৭৬৪ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ২০১৬-তে আবার ফিরে আসে আরএসপি। সেই বছর আরএসপি-এর ধীরেন্দ্র নাথ লায়েক টিএমসি-এর শুভাশিস বটব্যালকে ২,৪১৭ ভোটে পরাজিত করেন।
২০২১ সালে আবার আলাদা চিত্র ধরা পড়ে। এই ভোটে বিজেপির সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ৭১৬৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তৃণমূল ছিল দ্বিতীয় স্থানে। আর এই সময়ের মধ্যেই কমে গিয়েছে আরএসপি-এর ভোট। ২০১৬ সালে তারা ৪১.১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। সেটা ২০২১ সালে মাত্র ৪.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অপরদিকে বিজেপি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এই সিটে। তারা ২০১১ সালে মাত্র ২.৭৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০১৬ সালে পেয়েছিল ৭.৪২ শতাংশ। আর ২০২১ সালে গিয়ে সেটাই দাঁড়ায় ৪৫.৮৪ শতাংশে। আর এটা সত্যিই উত্তরণ। আর বিজেপি যেখানে বড় শক্তি হতে চলেছে, সেটা ২০১৯ সালের লোকসভাতেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল। সেই ভোটে এই কেন্দ্রে তাদের লিড ছিল ৩১,১৮২ ভোটের।
তবে ২০২৪ সালে আবার বদলে গিয়েছে ভোটের গতিপথ। এই লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই অংশে ৫,৬৫৭ ভোট বা ২.৯০ শতাংশে বিজেপির থেকে এগিয়ে ছিল। আর এই ভোটেও ভয়াবহ ফল করে বামফ্রন্ট। তাদের ভোট গিয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬৩ শতাংশে। ২০২৪ এর হিসাবে এই নিবার্চনী কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৫৩, ১১৬। ২০২১-এ ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৪২৭৭০। আর ২০১৯-এ ছিল ২৩২,১৪৭। এই কেন্দ্রটিতে তফসিলি জাতির ভোটারের সংখ্যা বেশি। তাদের সংখ্যা শতাংশের হিসাবে ৩৫.১৮। এছাড়া তফসিলি উপজাতির সংখ্যাও এখানে ১৬.৭০ শতাংশ। মাথায় রাখতে হবে এই সিটের অধিকাংশ ভোটারই গ্রামীণ। শহুরে ভোটারের সংখ্যা মাত্র ১.৭৪ শতাংশ। এখানে ভোটাররা চিরকালই ভাল সংখ্যায় ভোট দিয়ে এসেছে। ২০২১ সালে এখানে ভোট দেয় ৮১.৩২ শতাংশ মানুষ। যদিও ২০২৪ সালে ভোট দানের হার কিছুটা কমে। সেই বছর ভোট দেয় ৭৭.৭৭ শতাংশ মানুষ।
প্রসঙ্গত, ছাতনা একসময় সামন্তভূম নামক প্রাচীন রাজ্যের রাজধানী ছিল। আর সেই ধ্বংসাবশেষ এখনও ছড়িয়ে রয়েছে এলাকায়। এছাড়া এই অঞ্চলটি নিচু নিচু সব পাহাড়, লাল মাটি এবং পাথুরে ক্ষেতের জন্যও পরিচিত। গন্ধেশ্বরী সহ বেশ কয়েকটি ছোট নদী ছাতরার মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে। এই নদীগুলির জলেই কৃষিকাজ হয়। এখানকার স্থানীয় অর্থনীতি মূলত কৃষি, মৃৎশিল্প, তাঁত, বনজ পণ্য এবং ছোট ব্যবসার উপর নির্ভর করে। এখানে রয়েছে একাধিক ছোট ছোট বাজার। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রও আছে। শুধু তাই নয়, এলাকায় বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলও রয়েছে।
জেলা সদর বাঁকুড়া থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছাতনা। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা এখান থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ও দিকে পুরুলিয়ার ঝালদা প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ ছাতনা থেকে ১০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দূরে।
২০২৬ সালের ভোট নিয়ে এখন থেকেই গরম হচ্ছে ছাতরার আবহাওয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখানে বারবারই ভোট সুইং হয়। যে কারণে এটা কোনও দলের কাছেই এটা নিরাপদ সিট নয়। তবে আপতত এই সিটে এগিয়ে রয়েছে টিএমসি। যদিও সেই জায়গা যে কোনও সময় দখল করে নিতে পারে বিজেপি। তাই এখন দেখার,ঠিক কোন দিকে যায় ছাতনার আবহাওয়া।
Subasish batabyal
AITC
Falguni mukherjee
RSP
Nota
NOTA
Rabindranath bouri
IND
Dinanath chatterjee
IND
Bauri dinabandhu
BMUP
Abir chandra mandal
IND
Sadananda mandal
SUCI
Anath bauri
IND
Subhasis batabyal
AITC
Swapan mukherjee
BJP
Nota
NOTA
Bankim mishra
IND
Sadananda mandal
SUCI
Manik bouri
BSP
Satyaban bauri
JMM
Uttam kundu
BMUP
Ramnibas baskey
CPI(ML)(L)
Panmani besra
JDP