
কাশীপুর পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমার একটি সাধারণ বা জেনারেল শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের চরিত্র মূলত গ্রামীণ। দীর্ঘদিন কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর আধিপত্যের পর এই কেন্দ্র এখন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনে পরিণত হয়েছে।
কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে পুরো কাশীপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং হুড়া ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। ১৯৫৭ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটি প্রথম নির্বাচনে যুগ্ম আসন ছিল—এই ব্যবস্থা শুধু ওই একবারই প্রয়োগ করা হয়েছিল। তারপর থেকে মোট ১৬ বার এখানে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। সিপিআই(এম) সাতবার এই আসন জিতেছে, সবক’টিই টানা ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। কংগ্রেস...
কাশীপুর পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমার একটি সাধারণ বা জেনারেল শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের চরিত্র মূলত গ্রামীণ। দীর্ঘদিন কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর আধিপত্যের পর এই কেন্দ্র এখন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনে পরিণত হয়েছে।
কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে পুরো কাশীপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং হুড়া ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। ১৯৫৭ সালে গঠিত এই কেন্দ্রটি প্রথম নির্বাচনে যুগ্ম আসন ছিল—এই ব্যবস্থা শুধু ওই একবারই প্রয়োগ করা হয়েছিল। তারপর থেকে মোট ১৬ বার এখানে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। সিপিআই(এম) সাতবার এই আসন জিতেছে, সবক’টিই টানা ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। কংগ্রেস পাঁচবার জয় পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দু’বার আসনটি দখল করেছে, আর সিপিআই ও বিজেপি একবার করে জিতেছে। ১৯৫৭ সালে, যুগ্ম আসনের সময়, লোক সেবক সংঘ কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে জয়ী হয়েছিল।
২০০১ ও ২০০৬ সালে খাতা খুলতে না পারলেও, তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সালে শেষ পর্যন্ত সিপিআই(এম)-এর টানা সাত দফার শাসনের অবসান ঘটায়। তৃণমূল প্রার্থী স্বপন কুমার বেলথারিয়া সিপিআই(এম)-এর সুভাষচন্দ্র মাহাতোকে ৩,৭২১ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে তিনি আবারও জয়ী হন; সে বার সিপিআই(এম) প্রার্থী সুদিন কিস্কুকে হারিয়ে তাঁর জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১৯,৫৭৮ ভোটে। তবে ২০২১ সালে বিজেপির উত্থানের সামনে তিনি টিকতে পারেননি। বিজেপির ভোট শতাংশ ২০১১ সালে ২.৫৩ শতাংশ ও ২০১৬ সালে ৬.৩৯ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ২০২১ সালে ৪৭.৬৯ শতাংশে পৌঁছে যায়। সেই নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী কমলাকান্ত হাঁসদা বেলথারিয়াকে ৭,৩৮৭ ভোটে হারিয়ে দেন।
কাশীপুর বিধানসভা অংশে লোকসভা ভোটের ফলাফলও ভোটারদের বদলে যাওয়া মনোভাব স্পষ্ট করে। ২০০৯ সালে ফরোয়ার্ড ব্লক কংগ্রেসের থেকে ১২,৪৮৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল ফরোয়ার্ড ব্লকের উপর ২৭,৬৯৮ ভোটের লিড নেয়। এরপর ২০১৯ সালে হাওয়া ঘুরে যায় বিজেপির দিকে। বিজেপি ১৬,১৫৪ ভোটের লিড নিয়ে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে তৃণমূল আবার অল্প ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বিজেপি মাত্র ১,৮৬৬টি ভোটে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে কাশীপুরে মোট ভোটার ছিলেন ২,৪৭,২৪৮ জন। এই সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ২,৩৮,৮৭১ জন, ২০১৯ সালে ২,২৭,৩৯৭ জন, ২০১৬ সালে ছিল ২,১৬,৯৫৩ জন এবং ২০১১ সালে ১,৮৮,৩৫২ জন। তফসিলি জাতি ভোটাররাই এখানে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী—মোট ভোটারের ২৬.৪৬ শতাংশ। খুব কাছাকাছি রয়েছে তফসিলি উপজাতিরা, যাদের অংশ ২৪.৩৬ শতাংশ। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা এখানে খুবই কম। এই কেন্দ্রটি প্রবলভাবে গ্রামীণ, ৯১.৪৫ শতাংশ ভোটার গ্রামে থাকেন, শহরাঞ্চলে থাকেন মাত্র ৮.৫৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ভোটদানের হার বরাবরই বেশ রয়েছে। ২০১১ সালে ৮২.৪৯ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮২.৮৩ শতাংশ, ২০১৯ ও ২০২১ সালে ৮২.১৭ শতাংশ। তবে ২০২৪ সালে প্রথমবার তা নেমে দাঁড়ায় ৭৭.৫৭ শতাংশে।
কাশীপুরের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা পাঞ্চকোট রাজবংশের সঙ্গে জড়িত। এই অঞ্চল একসময় পাঞ্চকোট এস্টেটের অংশ ছিল। বারবার মারাঠা বর্গি আক্রমণে গড় পাঞ্চকোট ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর, অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পাঞ্চকোটের শাসকেরা তাঁদের রাজধানী এখানে সরিয়ে নিয়ে আসে। মহারাজা নীলমণি সিং দেও নির্মিত এবং পরে তাঁর নাতি মহারাজা জ্যোতিপ্রসাদ সিংদেও দ্বারা সংস্কার করা কাশীপুর রাজবাড়ি আজও এই বংশের দীর্ঘ শাসনের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এক সময়কার মানভূম অঞ্চলের এই অংশই পরে পুনর্গঠিত হয়ে বর্তমান পুরুলিয়া জেলা গঠিত হয়।
কাশীপুর পুরুলিয়া জেলার উত্তর অংশে, ছোটনাগপুর মালভূমির সর্বনিম্ন ধাপে অবস্থিত। এখানকার ভূপ্রকৃতি ঢেউখেলানো জমি, ছোট ছোট পাহাড় ও ল্যাটেরাইট উঁচু জমিতে ভরা—সমতল পলিমাটির সমভূমি নয়। পুরো জেলা আধা-শুষ্ক অঞ্চলের মধ্যে পড়ে, যেখানে বৃষ্টিপাত মাঝারি এবং মাটি প্রায়ই কঙ্করময় ও জলধারণ ক্ষমতা কম। এই এলাকা দামোদর, কংসাবতী, কুমারী, দ্বারকেশ্বর ও সুবর্ণরেখা নদী ব্যবস্থাসহ একাধিক নদী ও উপনদীতে জালের মতো ছেয়ে আছে, যা কৃষিকাজকে প্রভাবিত করে। কৃষিই কাশীপুর অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ধান প্রধান ফসল; পাশাপাশি ডাল, তেলবীজ ও কিছু মোটা শস্য চাষ হয়। তবে কঠিন ভূপ্রকৃতি ও ঘন ঘন খরার কারণে সেচ সীমিত, ফলে কৃষিজ আয় তুলনামূলকভাবে কম থাকে। পুরুলিয়া জেলায় কালো পাথরসহ বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি খনির কাজ হয়, যার কিছু কাশীপুর ব্লকের মধ্যেও পড়ে। এই খনি ও পাথর ভাঙার ইউনিটগুলো কিছু স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং নির্মাণ শিল্পে যোগান দেয়, কিন্তু কাশীপুরকে বড় খনিশিল্প কেন্দ্র করে তুলতে পারেনি। কৃষি এবং খনি ও অন্যান্য দৈহিক শ্রম থেকে পাওয়া মজুরির উপর ভর করেই এখানকার অধিকাংশ গ্রামের জীবন-জীবিকা চলে।
কাশীপুর সড়কপথে রঘুনাথপুর ও পুরুলিয়া শহরের সঙ্গে যুক্ত, এবং সেখান থেকে বিস্তৃত অঞ্চলের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। রঘুনাথপুর মহকুমা সদর সড়কপথে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দূরে, আর জেলা সদর পুরুলিয়া শহর প্রায় ৫৫–৬০ কিলোমিটার দূরে। নিকটতম বড় রেল যোগাযোগ কেন্দ্র আদ্রা জংশন, যা কাশীপুর থেকে প্রায় ৮–১০ কিলোমিটার দূরে এবং পুরুলিয়া, আসানসোল, বোকারো, ধানবাদ, রাঁচি ও হাওড়ার সঙ্গে রেল সংযোগ দেয়।
কাশীপুর থেকে রাঁচি সড়কপথে প্রায় ১৫০–১৬০ কিলোমিটার দূরে, ধানবাদ প্রায় ৫০–৬০ কিলোমিটার এবং বাঁকুড়া প্রায় ৫০–৫৫ কিলোমিটার দূরে। ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের এই শহরগুলো কাজের সুযোগ ও বাজারকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা আরও অনেকটা দূরে—সড়কপথে প্রায় ২২০–২৩০ কিলোমিটার।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাশীপুরে এক তীব্র ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে রয়েছে তাদের সাম্প্রতিক দু’টি বিধানসভা জয় এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে আবার লিড ফিরিয়ে আনার সাফল্য। অন্যদিকে, বিজেপির ঝুলিতে রয়েছে ২০২১ সালের বিধানসভা জয়ের গতি ও আত্মবিশ্বাস, এবং কাশীপুরকে প্রকৃত লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত করার কৃতিত্ব। কাগজে-কলমে দুই দলই প্রায় সমান জায়গা থেকে শুরু করছে, আর বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট এক অঙ্কের ভোট শতাংশে নেমে যাওয়ায় কার্যত প্রতীকী ভূমিকায় সীমাবদ্ধ। এই পুরনো রাজকীয় ইতিহাসবাহী পুরুলিয়ার কেন্দ্রে বড় তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ভোটারদের মন জয় করে শেষ ভোটার পর্যন্ত পৌঁছাতে যে দল সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বয়ান তুলে ধরতে পারবে, শেষ পর্যন্ত জয় তাদেরই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
Swapan kumar beltharia
AITC
Mallika mahata
CPI(M)
Nota
NOTA
Dipak mahato
SUCI
Narendra nath mahata
AMB
Sudin kisku
CPM
Kamalakanta hansda
BJP
Dipendu mahato (dipu)
JMM
Dipak mahato
SUCI
Nota
NOTA
Baidyanath hasda
JDP
Bauri rajesh
BSP