
নন্দকুমার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র, যা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সম্পূর্ণ গ্রামীণ চরিত্রের এই আসনটি ২০১১ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর গঠিত হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত হওয়া তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিবারই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নন্দকুমারকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। তবে সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
২০১১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সুকুমার দে প্রায় ১১,৮৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ২০১৬ সালে তিনি আবার জিতলেও ব্যবধান কমে দাঁড়ায় প্রায় ১০,৮৬৬ ভোটে। ২০২১ সালের নির্বাচনে সেই ব্যবধান আরও কমে প্রায় ৫,৪০৬ ভোট...
নন্দকুমার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র, যা তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। সম্পূর্ণ গ্রামীণ চরিত্রের এই আসনটি ২০১১ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর গঠিত হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত হওয়া তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিবারই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নন্দকুমারকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। তবে সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
২০১১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সুকুমার দে প্রায় ১১,৮৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ২০১৬ সালে তিনি আবার জিতলেও ব্যবধান কমে দাঁড়ায় প্রায় ১০,৮৬৬ ভোটে। ২০২১ সালের নির্বাচনে সেই ব্যবধান আরও কমে প্রায় ৫,৪০৬ ভোটে নেমে আসে। এই ধারাবাহিক পতন দেখাচ্ছে, তৃণমূলের প্রভাব বজায় থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে বিজেপির উত্থান এই আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে নন্দকুমার অঞ্চলে তৃণমূল যথাক্রমে সিপিএমের বিরুদ্ধে ১৯ হাজার ও ২৩ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে এবং তৃণমূলের ব্যবধান কমিয়ে দেয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়, যখন বিজেপি প্রায় ৭,৯৪৩ ভোটে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। এই ফলাফল নিঃসন্দেহে তৃণমূলের জন্য সতর্কবার্তা এবং বিজেপির জন্য বড় উৎসাহের জায়গা।
ভোটার তালিকার দিক থেকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর খসড়া তালিকা অনুযায়ী নন্দকুমারে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৬৩,৬০৭। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩,৭১২ জন ভোটার কমেছে। যদিও এই সংখ্যা খুব বড় নয়, কিন্তু যখন লড়াই খুব কাছাকাছি হয়, তখন এমন সামান্য পরিবর্তনও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেমোগ্রাফির দিক থেকে এই আসনটি ভারসাম্যপূর্ণ। এখানে তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় ১২.৭৮ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ১৩.৫০ শতাংশ। কোনও একটি সম্প্রদায়ের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নেই। ফলে সব সম্প্রদায়ের ভোটই এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দলগুলিকে তাই প্রতিটি স্তরের ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর কৌশল নিতে হয়।
ভোটদানের প্রবণতাও এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। নন্দকুমারে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার সাধারণত বেশি থাকে, যেখানে লোকসভা নির্বাচনে তা কিছুটা কমে যায়। ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল যথাক্রমে ৯১.৬৮%, ৮৯.৬৪% এবং ৮৯.৮৭%। অন্যদিকে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা নেমে আসে প্রায় ৮৬ শতাংশে। এই প্রবণতা দেখাচ্ছে, স্থানীয় ইস্যুতে ভোটারদের আগ্রহ বেশি।
ভৌগোলিকভাবে নন্দকুমার দক্ষিণবঙ্গের সমতল অলুভিয়াল অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে উর্বর মাটি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ধান চাষ এখানে প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। পাশাপাশি মাছ ধরা, সবজি চাষ এবং ছোটখাটো ব্যবসাও স্থানীয় অর্থনীতিকে সমর্থন করে। জাতীয় সড়ক ১১৬ এই এলাকার উপর দিয়ে গিয়েছে, যা কোলাঘাট ও হলদিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। এছাড়া তমলুক-দীঘা রেললাইনও যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নন্দকুমার এখন আর একতরফা আসন নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের দখল থাকলেও বিজেপির উত্থান এবং কমতে থাকা জয়ের ব্যবধান এই কেন্দ্রকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনে পরিণত হয়েছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করবে সংগঠন, প্রার্থী এবং ভোটারদের মন জয় করার উপর।
Adhikary nilanjan
BJP
Karuna sankar bhowmik
CPI(M)
Nota
NOTA
Saumitra pattanayak
SUCI
Marphat ali khan
IND
Siraj khan
IND
Adhikary nilanjan
BJP
Nota
NOTA
Marphat ali khan
IND
Praksh chandra bera
SP
Mirja rabiul islam
WPOI
Md. sahalam molla
LJP
Saumitra pattanayak
SUCI