
কাঁথি দক্ষিণ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং এটি কাঁথি লোকসভা আসনের ৭টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে ‘কন্টাই সাউথ’ নামে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি ২০০৮ সালে সীমা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশে পুনর্গঠিত হয়ে ‘কাঁথি দক্ষিণ’ নামে পরিচিত হয়। এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত পুরো কাঁথি পুরসভা, কাঁথি–১ ব্লক এবং কাঁথি–৩ ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত।
কন্টাই সাউথ নাম থাকাকালীন এই আসনে ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন (২০০৯-এর উপনির্বাচন সহ) হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল প্রাধান্য পেয়েছে। সমাজবাদী শক্তি ৬ বার জিতেছিল। তার মধ্যে প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি ১৯৬২ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত টানা ৫ বার এবং কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টি ১৯৫১ সালে একবার। কংগ্রেস ৪ বার জয়ী হয়...
কাঁথি দক্ষিণ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরি বিধানসভা কেন্দ্র এবং এটি কাঁথি লোকসভা আসনের ৭টি বিধানসভার একটি। ১৯৫১ সালে ‘কন্টাই সাউথ’ নামে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি ২০০৮ সালে সীমা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশে পুনর্গঠিত হয়ে ‘কাঁথি দক্ষিণ’ নামে পরিচিত হয়। এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত পুরো কাঁথি পুরসভা, কাঁথি–১ ব্লক এবং কাঁথি–৩ ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত।
কন্টাই সাউথ নাম থাকাকালীন এই আসনে ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন (২০০৯-এর উপনির্বাচন সহ) হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল প্রাধান্য পেয়েছে। সমাজবাদী শক্তি ৬ বার জিতেছিল। তার মধ্যে প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি ১৯৬২ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত টানা ৫ বার এবং কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টি ১৯৫১ সালে একবার। কংগ্রেস ৪ বার জয়ী হয়। তৃণমূল কংগ্রেস ৩ বার (২০০৯-এর উপনির্বাচন সহ) জেতে। জনতা পার্টি এবং CPI একবার করে জয়ী হয়।
২০১১ সালের পর কাঁথি দক্ষিণ নাম হওয়ার পর ৪টি বিধানসভা নির্বাচনে (২০১৭ উপনির্বাচন সহ) তৃণমূল কংগ্রেস ৩ বার এবং BJP একবার জিতেছে। ২০১১ ও ২০১৬ সালে তৃণমূলের দিব্যেন্দু অধিকারী যথাক্রমে CPI প্রার্থী উত্তম কুমার প্রধানকে ২৮ হাজার ৬৩৭ ভোট এবং ৩৩ হাজার ৮৯০ ভোটে পরাজিত করেন। পরে তাঁর লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার ফলে ২০১৭ সালে উপনির্বাচন হয়, যেখানে তৃণমূলের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য BJP-র সৌরিন্দ্র মোহন জানাকে ৪২ হাজার ৫২৬ ভোটে হারান। ২০২১ সালে BJP-র প্রার্থী অরূপ কুমার দাস তৃণমূলের জ্যোতির্ময় করকে ১০ হাজার ২৯৩ ভোটে পরাজিত করে আসনটি দখল করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফলেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ২০০৯ সালে তৃণমূল CPIM-কে ৩০ হাজার ১২ ভোটে এবং ২০১৪ সালে ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৯ সালে BJP এবং তৃণমূলের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৫ ভোট। ২০২৪ সালে চিত্র পাল্টে যায়। BJP তৃণমূলকে ১৮ হাজার ৭৭৪ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। SIR প্রক্রিয়ার ফলে কাঁথি দক্ষিণে ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ৭৯৯ কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি খসড়া তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৩৫, যা ২০২৪ সালের ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩৩৪ থেকে কম। এর আগে ২০২১ সালে ছিল ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৬৫৭; ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৮; ২০১৬ সালে ২ লক্ষ ৪ হাজার ৬৯১ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ১০৫।
এই কেন্দ্রে তফসিলি জাতি ও মুসলিম ভোটার প্রায় সমসংখ্যক। SC ১১.৪৯% এবং মুসলিম ১১.৬০%। এটি একটি অর্ধ-শহুরে কেন্দ্র, যেখানে ৬৯.১৫% গ্রামীণ এবং ৩০.৮৫% শহুরে ভোটার। ভোটদানের হারও ধারাবাহিকভাবে বেশি। ২০১১ সালে ৮৬.৯০%, ২০১৬ সালে ৮৪.৯১%, ২০১৯ সালে ৮৪.২১%, ২০২১ সালে ৮৬.৭৪% এবং ২০২৪ সালে ৮৩.৩৫%। ঐতিহাসিকভাবে কাঁথি উপনিবেশিক আমলে উপকূলীয় বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং স্বাধীনতা আন্দোলনেরও এক উল্লেখযোগ্য স্থান। কাঁথি মহকুমা আদালত ভবনের মতো স্থান স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বহন করে।
ভৌগোলিকভাবে কাঁথি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী দক্ষিণ উপকূলীয় সমভূমিতে অবস্থিত। ভূমি সমতল ও বালুকাময়, নিম্নাঞ্চল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ। রাসুলপুর ও পিচাবনি নদী সাগরে মিশেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে লবণাক্ততা দেখা যায়। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান, পান, কাজু ও সবজি প্রধান ফসল। পাশাপাশি মৎস্যচাষ, মাছ ধরা ও সমুদ্রতট-নির্ভর পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ। কাঁথি শহরে ক্ষুদ্র বাণিজ্য ও পোশাক শিল্পও রয়েছে। NH–১১৬বি ও রাজ্য সড়ক যোগাযোগকে শক্তিশালী করেছে। কাঁথি রোড রেলস্টেশন (তমলুক–দিঘা লাইনে) হাওড়া ও কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত।
নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে রয়েছে তমলুক (৬০–৭০ কিমি), দিঘা (১০–১৫ কিমি), হলদিয়া (৮০ কিমি), রামনগর (২০ কিমি), এগরা (২৫ কিমি) এবং কলকাতা (১৪০–১৫০ কিমি)। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর ও সংলগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যান্য শহরের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে।
খসড়া তালিকায় বাদ পড়া ৭ হাজার ৭৯৯ ভোটার চূড়ান্ত তালিকা থেকেও বাদ পড়লে কোন পার্টির পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে, তা নিয়ে হিসেবনিকেশ চলছে। বিশেষত যদি বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশ মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত হন, সেক্ষেত্রে তৃণমূল না BJP, কে ফায়দা তুলবে, সেটাই এখন দেখার। অধিকারী পরিবারের BJP-তে যোগদানের একটা প্রভাব রয়েছে এই এলাকায়। তবে SIR ছাড়াও ২০২৬ সালের কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল-BJP সরাসরি লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকে, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
Jyotirmoy kar
AITC
Anurup panda
CPI
Shrabani pahari
SUCI
Nota
NOTA
Uttam pradhan
CPI
Kamales mishra
BJP
Nota
NOTA
Sridhar dash
WPOI
Manas pradhan
SUCI
Jahangir mahammad sk.
BHNP
Dr. arun kumar giri
ABHM