
ভগবানপুর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মহকুমার ব্লক-স্তরের একটি জনপদ। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ এবং সাধারণ (জেনারেল) শ্রেণির আসন। দীর্ঘদিন ধরে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি স্থায়ী সমর্থন না দেওয়ার জন্য ভগবানপুর পরিচিত। একসময় এখানে কংগ্রেস ও সিপিএমের আধিপত্য ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজনৈতিক লড়াই কার্যত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে।
ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ভগবানপুর-১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত, ভগবানপুর-২ ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পটাশপুর-২ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের একটি। ১৯৫৭ সালে তৈরির পর ভগবানপুরে এখনও পর্যন্ত ১৬ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রথম নির্...
ভগবানপুর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মহকুমার ব্লক-স্তরের একটি জনপদ। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত গ্রামীণ এবং সাধারণ (জেনারেল) শ্রেণির আসন। দীর্ঘদিন ধরে কোনও একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি স্থায়ী সমর্থন না দেওয়ার জন্য ভগবানপুর পরিচিত। একসময় এখানে কংগ্রেস ও সিপিএমের আধিপত্য ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজনৈতিক লড়াই কার্যত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে।
ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ভগবানপুর-১ ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত, ভগবানপুর-২ ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পটাশপুর-২ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এটি কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের একটি। ১৯৫৭ সালে তৈরির পর ভগবানপুরে এখনও পর্যন্ত ১৬ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। প্রথম নির্বাচনে (১৯৫৭) এটি ছিল দুই সদস্যের আসন, যেখানে কংগ্রেস ও প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি একটি করে আসন জেতে। ১৯৬২ সালের পর থেকে কংগ্রেস এই কেন্দ্রে পাঁচবার জয়লাভ করেছে। সিপিএম ও তৃণমূল চারবার করে জয় পেয়েছে। জনতা পার্টি এবং বিজেপি একবার করে এই আসনে জয়ী হয়েছে।
তৃণমূলের অর্ধেন্দু মাইতি ২০০১ ও ২০০৬ সালে জয়ী হওয়ার পর ২০১১ সালে সমাজবাদী পার্টির রঞ্জিত মান্নাকে ৮,৯৯৭ ভোটে হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেন। ২০১৬ সালে তিনি কংগ্রেসের হেমাংশু শেখর মহাপাত্রকে ৩১,৯৪৩ ভোটে হারিয়ে ফের জয় পান। তবে ২০২১ সালে চমকপ্রদ ফলাফলে বিজেপি প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ মাইতির কাছে ২৭,৫৪৯ ভোটে পরাজিত হন অর্ধেন্দু মাইতি। এই কেন্দ্রে বিজেপির উত্থান ছিল অত্যন্ত দ্রুত। ২০১১ সালে বিজেপির ভোট শতাংশ ছিল মাত্র ২.৫৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা সামান্য বেড়ে হয় ৩.৮০ শতাংশ। কিন্তু ২০২১ সালে হঠাৎ করেই বিজেপির ভোট শতাংশ ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৫৪.৫৬ শতাংশে পৌঁছয় এবং তারা তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে দেখা গেলে, ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে ভগবানপুর বিধানসভা এলাকায় এগিয়ে ছিল তৃণমূল। ২০০৯ সালে সিপিএমের ওপর তৃণমূলের লিড ছিল ১২,৮১৩ ভোট এবং ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬,৪২৬। ২০১৯ সালে বিজেপির উপর তৃণমূলের লিড ছিল ৩৭,৩৯১ ভোট। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ছবিটা বদলে যায়। বিজেপি তৃণমূলকে মাত্র ৫৮৫ ভোটে এগিয়ে যায়। ভগবানপুরে ভোটারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে ভোটার ছিল ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৯৫২ জন। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ২ লক্ষ ৩২ হাজার ৬৪০। ২০১৯ সালে ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৭ এবং ২০২১ সালে ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৮৪। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪৬০। এর মধ্যে তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটার ১৫.৫২ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৭.১০ শতাংশ। ভগবানপুর প্রায় সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকা-মাত্র ১.৪৬ শতাংশ ভোটার শহুরে অঞ্চলে বাস করেন।
এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ভোটদানের হার ছিল ৯২.৩১ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৮৮.২৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে ছিল ৮৬.৮৩ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৭.৮৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৪.৬৫ শতাংশ। ভৌগোলিকভাবে ভগবানপুর উপকূলীয় পূর্ব মেদিনীপুরের সমতল পলিমাটির অঞ্চলে অবস্থিত। পশ্চিম ও দক্ষিণে কংসাবতী-হলদি নদী ব্যবস্থা এবং পূর্ব দিকে রাসুলপুর সহ একাধিক ছোট নদী ও খাল এই অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। নিচু জমি, ধানখেত, পুকুর, খাল এবং বসতবাড়ির বাগান, এই এলাকার চেনা ছবি। স্থানীয় অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। আমন ও বোরো ধান প্রধান ফসল। পাশাপাশি পাট, আলু, ডাল ও তেলবীজ চাষ হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু অংশে পান চাষ ও কাজুবাদাম উৎপাদনও ভগবানপুরের বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।
ভগবানপুর জেলা সদর তমলুক থেকে সড়কপথে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দূরে। এগরা মহকুমা সদর থেকে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। কাঁথি প্রায় ৪৫–৫০ কিলোমিটার এবং কলকাতা প্রায় ৮৫-৯০ কিলোমিটার দূরে। নিকটবর্তী রেলস্টেশন হিসেবে তমলুক ও পানস্কুরা গুরুত্বপূর্ণ, যেখান থেকে হাওড়া, খড়গপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করা হয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভগবানপুর দাঁড়িয়ে রয়েছে এক উত্তেজনাপূর্ণ দ্বন্দ্বের মুখে, বিজেপি বনাম তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ব্যবধান অনেকটাই কমাতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোট এই এলাকায় কার্যত প্রভাবহীন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভগবানপুরে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
Ardhendu maity
AITC
Shiu maiti
INC
Nota
NOTA
Asoktaru pradhan
SUCI
Hemangshu shekhar mahapatra
INC
Prasanta panda
BJP
Priyabrata dutta
IND
Ansar ali sk
BSP
Ashoktaru pradhan
SUCI
Nota
NOTA
Goutam pradhan
BHNP
Thakurdas mandal
ABHM