
রায়পুর বা স্থানীয়দের ভাষায় রায়পুর বাজার, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র। তফসিলি উপজাতি (এসটি) সংরক্ষিত এই কেন্দ্রটি বাঁকুড়া লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। পুরো রায়পুর ও সারেঙ্গা ব্লক নিয়ে এই নির্বাচনী এলাকা গঠিত।
ইতিহাস ও রাজনৈতিক পটভূমি
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রায়পুর মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে যদুনাথ মুর্মু প্রথমে নির্দল, পরে কংগ্রেসের হয়ে টানা দু’বার জয়ী হন। ১৯৬২ ও ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসের উত্থান ঘটে। ১৯৭১ সালে ঝাড়খণ্ড পার্টি এখানে শক্ত অবস্থান গড়ে। ১৯৭২ সালে সিপিআই জয়লাভ করলে রায়পুরে বামফ্রন্টের আধিপত্য শুরু হয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ প্রায় তিন দশক এই ...
রায়পুর বা স্থানীয়দের ভাষায় রায়পুর বাজার, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র। তফসিলি উপজাতি (এসটি) সংরক্ষিত এই কেন্দ্রটি বাঁকুড়া লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। পুরো রায়পুর ও সারেঙ্গা ব্লক নিয়ে এই নির্বাচনী এলাকা গঠিত।
ইতিহাস ও রাজনৈতিক পটভূমি
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রায়পুর মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে যদুনাথ মুর্মু প্রথমে নির্দল, পরে কংগ্রেসের হয়ে টানা দু’বার জয়ী হন। ১৯৬২ ও ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসের উত্থান ঘটে। ১৯৭১ সালে ঝাড়খণ্ড পার্টি এখানে শক্ত অবস্থান গড়ে। ১৯৭২ সালে সিপিআই জয়লাভ করলে রায়পুরে বামফ্রন্টের আধিপত্য শুরু হয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ প্রায় তিন দশক এই আসনে সিপিআই(এম)-এর নিরঙ্কুশ দাপট। এর মধ্যে উপেন কিস্কু ১৯৮২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার জিতে রায়পুরের রাজনীতিতে কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন।
বামজমানা ভাঙতে শুরু করে ২০১১ সালে, যখন কিস্কুকে মাত্র ১৮২ ভোটে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রমিলা মুর্মু জয়ী হন। ২০১৬ সালে তৃণমূল আরও শক্তভাবে আসন দখল করে। বীরেন্দ্র নাথ টুডু সিপিআই(এম)-কে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু বিজেপির সুধাংশু হাঁসদাকে ১৯,৩৯৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আসন ধরে রাখেন। ২০২৪ লোকসভাতেও তৃণমূল রায়পুর এলাকায় ১৭,৪৯৪ ভোটে এগিয়ে ছিল, যা বাঁকুড়া কেন্দ্র বিজেপির কাছ থেকে কেড়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভোটার প্রোফাইল ও সংখ্যা
২০২১ সালে রায়পুরে মোট ভোটার ছিলেন ২,২৪,৬০৪ জন। যদিও আসনটি এসটি সংরক্ষিত, এখানে, এসসি ভোটার: ২৪.৬৮%। এসটি ভোটার: ২৪.৩৭%। এই অনুপাত রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ভারসাম্য তৈরি করে। এলাকাটি প্রায় সম্পূর্ণ গ্রামীণ। শহুরে ভোটারের সংখ্যা মাত্র ২.২৬%। ভোটদানের হার অত্যন্ত উচ্চ। ২০২১ সালে ৮৯.৩০%, ২০১৬ সালে ৮৬.৭৪%।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: তুঙ্গভূমের স্মৃতি
বর্তমান রায়পুর একসময় বৃহত্তর তুঙ্গভূম অঞ্চলের অংশ ছিল। জনশ্রুতি অনুযায়ী, পুরী থেকে আগত তুং-দেব বংশের বংশধর নুকুর তুং প্রায় ১৪৪৮ সালের দিকে এই অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলেন এবং ডাকাত দমন করে ছত্র নারায়ণ দেব নামে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম দেন জগন্নাথপুর। তুঙ্গভূমের ঐ ঐতিহ্য আজও রায়পুরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ছাপ রেখে গেছে।
ভূগোল, জীবন ও অর্থনীতি
রায়পুর রাঢ়বঙ্গের অংশ। লাল মাটি, ঢেউখেলানো ভূপ্রকৃতি ও শালবন এর পরিচয়। কংসাবতী নদী এখানে কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রধান ফসল, ধান, ডাল, সবজি
উপজাতীয় জীবিকা: বনজ সম্পদ, কৃষিশ্রম, মৌসুমী শ্রম-অভিবাসন
এখানে শিল্প তেমন নেই, অবকাঠামোও সীমিত, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাব-হেলথ সেন্টার ও গ্রামীণ সড়কই প্রধান ভরসা। রায়পুর শহর স্থানীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র। এখান থেকে বাঁকুড়া শহর: ৪৫ কিমি। কলকাতা: ১৮০ কিমি। সারেঙ্গা: ১৫ কিমি। গোয়ালতোড়: ২৫ কিমি। খাতড়া: ৩০ কিমি। রেল যোগাযোগ সীমিত, মূলত বাঁকুড়া বা মেদিনীপুরের ওপর নির্ভরশীল।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: কোন দিকে হাওয়া?
রায়পুরে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান শক্তিশালী। বিজেপি তবে মরিয়া চেষ্টা করছে। তাদের কৌশল, বামফ্রন্টের ভোট কাটার সম্ভাবনা কাজে লাগানো দ্রৌপদী মুর্মুর রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়টিকে উপজাতি ভোটারদের কাছে তুলে ধরা। ছত্তিশগড় ও ওড়িশায় নিজেদের শাসন রেকর্ড প্রচার করা। সব মিলিয়ে রায়পুরে ২০২৬ নির্বাচন হতে চলেছে তিনদিকেই টানাপোড়েনের, তৃণমূল বনাম বিজেপি বনাম বামফ্রন্ট। এখানে প্রতিটি ভোটই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
Sudhanshu hansda
BJP
Milan mandi
RSSCMJP
Nota
NOTA
Sukchand saren
IND
Shyamapada mudi
SUCI
Dilip kumar hansda
CPM
Shudhanshu hansda
BJP
Nota
NOTA
Chunaram saren
JMM
Dulal saren
IND
Kandan mandi
CPIM
Kalipada hembram
BMUP