
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্র মেদিনীপুর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এই আসনটির দীর্ঘ নির্বাচনী ইতিহাস রয়েছে। খড়গপুরের নাম এবং সীমানাও একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত ১৯৫১ সালে একক আসনের নির্বাচনী এলাকা হিসেবে তৈরি হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে, এর নামকরণ করা হয় খড়গপুর লোকাল এবং এটি ডুয়েল সিট নির্বাচনী এলাকা হয়ে ওঠে। ১৯৬২ সালে ফের একক আসনে ফিরে আসে এবং ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এমনটাই ছিল। ১৯৭৭ সালে, খড়গপুর লোকাল বিলুপ্ত হয় এবং এটি দুটি আসনে পুনর্গঠিত হয়, খড়গপুর গ্রামীণ এবং খড়গপুর শহরাঞ্চল। ২০০৬ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশন এই দুটিকে বিলুপ্ত করে এবং এর জায়গায়, খড়গপুর এবং খড়গপুর সদর নির্বাচনী এলাকা গঠিত হয়। খ...
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্র মেদিনীপুর লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্যে একটি। এই আসনটির দীর্ঘ নির্বাচনী ইতিহাস রয়েছে। খড়গপুরের নাম এবং সীমানাও একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি মূলত ১৯৫১ সালে একক আসনের নির্বাচনী এলাকা হিসেবে তৈরি হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে, এর নামকরণ করা হয় খড়গপুর লোকাল এবং এটি ডুয়েল সিট নির্বাচনী এলাকা হয়ে ওঠে। ১৯৬২ সালে ফের একক আসনে ফিরে আসে এবং ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এমনটাই ছিল। ১৯৭৭ সালে, খড়গপুর লোকাল বিলুপ্ত হয় এবং এটি দুটি আসনে পুনর্গঠিত হয়, খড়গপুর গ্রামীণ এবং খড়গপুর শহরাঞ্চল। ২০০৬ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশন এই দুটিকে বিলুপ্ত করে এবং এর জায়গায়, খড়গপুর এবং খড়গপুর সদর নির্বাচনী এলাকা গঠিত হয়। খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্র নামেই ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয় । বর্তমানে, খড়গপুর নির্বাচনী এলাকা খড়গপুর ১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। এই নির্বাচনী এলাকাটি মূলত গ্রামীণ, যেখানে ৯৬.৮১ শতাংশ ভোটার গ্রামে বাস করেন। প্রথম দিকে কংগ্রেস দলই এই সিটে নেতৃত্ব দেয়। ১৯৫১ সালে এই আসনটি জিতেছিল কংগ্রেস এবং ১৯৭২ সাল পর্যন্ত আরও চারবার জয়লাভ করে। অন্যদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এই সময়কালে দু'বার জয়লাভ করে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট এই অঞ্চলের প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট আরও একবার আসনটি ধরে রাখে, যখন খড়গপুর গ্রামীণ থেকে পাঁচবারের বিধায়ক শেখ নাজমুল হক নবগঠিত খড়গপুর আসনটিতে জয়লাভ করেন। তৃণমূলের বিলকিস খানমকে মাত্র ২,৫০৪ ভোটে পরাজিত করেন তিনি। পরবর্তী দুটি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে। ২০১৬ সালে তৃণমূলের দীনেন রায় সিপিআই(এম)-এর শাহজাহান আলীকে ১৯,০৯৯ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে এই ব্যবধান আরও বেড়ে যায়, যখন দীনেন রায় বিজেপির তপন ভূঁইয়াকে ৩৬,২৩০ ভোটে পরাজিত করেন। সেই বছর তৃণমূল ৫৪.৮৫ শতাংশ, বিজেপি ৩৬.৭৪ শতাংশ এবং সিপিআই(এম) মাত্র ৫.৬২ শতাংশ পায়। এই ফলাফল লোকসভা ভোটেও দেখা যায়, গত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে ছিল। বিজেপি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে, ২০১৯ সালে ব্যবধান কমিয়ে আনে, তারপর অবশ্য ২০২৪ সালে ১৫.৮০ শতাংশে পিছিয়ে পড়ে। বামফ্রন্টের ভোটের ভাগ ২০১৯ সালে ছিল ৫.৪০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪.৯৭ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৪ সালে খড়গপুর আসনে ২৩৮,৮৭৬ জন রেজিস্ট্রেড ভোটার ছিলেন। ২০২১ সালে ২,২৭,০৮১ জন এবং ২০১৯ সালে ২,১৫,৫৬৪ জন ভোটার এই কেন্দ্রে ছিলেন। তফসিলি উপজাতি ভোটারদের সংখ্যা ২১.৫৩ শতাংশ, তফসিলি জাতির ভোটারের সংখ্যা ১৮.২৮ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার রয়েছে ১৯.৪০ শতাংশ। মাত্র ৩.১৯ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলে বাস করেন। ভোটাদানের হার উল্লেখযোগ্য এবং নিয়মিতভাবে ৮৫ শতাংশের উপরে রয়েছে। ২০২৪ সালে ৮৫.৫৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৮.৩২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৭.৬০ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৮৮.৯৪ শতাংশ ভোটদান হয় এই কেন্দ্রে। খড়গপুর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ প্রান্তের ল্যাটেরাইটিক সমভূমিতে অবস্থিত, যেখানে ঢালু জমি এবং খামার ও বসতি রয়েছে। সুবর্ণরেখা এবং কংসাবতী নদী কাছাকাছি প্রবাহিত। অর্থনীতি কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প এবং বাণিজ্যের উপর নির্ভর করে। এই অঞ্চলের যাতায়াতের মাধ্যম খড়গপুর জংশন। এই রেলস্টেশনটি খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে কলকাতা, হাওড়া (১১৫ কিমি দূরে), মেদিনীপুর শহর (প্রায় ১৪ কিমি দূরে) এবং অন্যান্য গন্তব্যস্থলের সঙ্গে সংযুক্ত করে। রাজ্যের রাজধানী কলকাতা সড়কপথে ১২০ কিমি দূরে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর প্রায় ৭০ কিমি দূরে, ঝাড়গ্রাম ৪৫ কিমি দূরে। ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া ৬৫ কিমি দূরে, জামশেদপুর প্রায় ১০০ কিমি দূরে এবং ওড়িশার বারিপদ প্রায় ১২০ কিমি দূরে। খড়গপুরের পরিকাঠামোর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল, স্থানীয় বাজার, সড়ক ও রেল যোগাযোগ। গ্রামীণ প্রোফাইল সত্ত্বেও, প্রধান শহরগুলির সঙ্গে সংযোগ বাণিজ্যে অংশগ্রহণ এবং পরিষেবাগুলির অ্যাক্সেসকে সহজতর করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ক্রমেই আসছে। আপাতভাবে খড়গপুরে তৃণমূল কংগ্রেস তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে। তবে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে বিজেপিকে হিন্দু ভোটারদের এককাট্টা করতে হবে এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে হবে। বামফ্রন্টের ভোট ক্রমেই এই আসনে কমছে।
Tapan bhuya
BJP
Syed saddam ali
CPI(M)
Nota
NOTA
Sekh abdur rahaman
HUMP
Manik chandra paria
SUCI
Barsha mahapatra
AMB
Sk sajahan ali
CPM
Goutam bhattacharjee
BJP
Nota
NOTA
Manik chandra poria
SUCI
Sekh anuwar
IND