
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র হল খেজুরি। কাঁথি লোকসভা আসনের অধীনস্ত ৭টি বিভাগের মধ্যে একটি হল খেজুরি। এখানে ভোটারদের ৩৩.৬০ শতাংশ তফসিলি জাতি শ্রেণির। খেজুরি কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও ১৯৫৭ সালে এটি নির্বাচনী মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে ১৯৬২ সালে ফিরে আসে। ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এই আসনটিতে ১৩ বার ভোট হয়। কংগ্রেস চারবার, সিপিআই(এম) তিনবার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক দল দু'বার করে, আর বাংলা কংগ্রেস ও জনতা পার্টি একবার করে ভোটে জয়লাভ করেছে। সুনির্মল পাইক চারবার এই আসনে জয়ী হন। তিনি ১৯৮২ এবং ১৯৮৭ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসাবে দু'বার জিতেছিলেন। এছাড়া একবার ১৯৯১ সালে সি...
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র হল খেজুরি। কাঁথি লোকসভা আসনের অধীনস্ত ৭টি বিভাগের মধ্যে একটি হল খেজুরি। এখানে ভোটারদের ৩৩.৬০ শতাংশ তফসিলি জাতি শ্রেণির। খেজুরি কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও ১৯৫৭ সালে এটি নির্বাচনী মানচিত্র থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে ১৯৬২ সালে ফিরে আসে। ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এই আসনটিতে ১৩ বার ভোট হয়। কংগ্রেস চারবার, সিপিআই(এম) তিনবার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক দল দু'বার করে, আর বাংলা কংগ্রেস ও জনতা পার্টি একবার করে ভোটে জয়লাভ করেছে। সুনির্মল পাইক চারবার এই আসনে জয়ী হন। তিনি ১৯৮২ এবং ১৯৮৭ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসাবে দু'বার জিতেছিলেন। এছাড়া একবার ১৯৯১ সালে সিপিআই(এম) এর হয়ে এবং একবার ২০০১ সালে সোসালিস্ট পার্টির হয়ে তিনি ভোটে জেতেন। ডিলিমিটেশন কমিশন ২০০৮ সালে খেজুরির সীমানা ব্যাপকভাবে বদলে দেয়। আসনটি এখন ভগবানপুর ২ ব্লকের গড়বারি ১ এবং গড়বারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং খেজুরি ১ এবং খেজুরি ২ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। এই আসনটি নতুন রূপ পাওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দুটি নির্বাচনে জিতেছে। ২০১১ সালে রণজিৎ মন্ডল সমাজবাদী পার্টির অসীম কুমার মন্ডলকে ১৬১৬০ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। আসলে উত্তর প্রদেশের একটি আঞ্চলিক দল সমাজবাদী পার্টির বাংলায় প্রকৃত উপস্থিতি ছিল না। তবে সিপিআইএম তাদের অনেক আসনে লড়তে দিয়েছিল বাংলায়। ২০১৬ সালে মন্ডল একই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে আসনটি ধরে রেখেছিলেন। সেবার তিনি ৪২,৪৮৫ ভোটে ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই ভোটে সমাজবাদী পার্টি মাত্র ১.৮২ শতাংশ ভোট নিয়ে চতুর্থ স্থানে চলে যায়। ৮.৯৪ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছিল বিজেপি। তবে ২০২১ সালে বিজেপি আসনটি জিতে অনেককে অবাক করেছিল। শান্তনু প্রামাণিক ৫১.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূলের পার্থ প্রতিম দাসকে পরাজিত করেছিলেন। তিনি ৪৩.৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। জয়ের ব্যবধান ছিল ১৭,৯৬৫ ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। খেজুরিতে ২০২৮৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছে তারা। ২০২১ সালে খেজুরির ২৩৮,৬৩০ জন ভোটার ছিল। আবার ২০১৯ সালে ২২৭৭৪৮ ভোটার ছিল৷ এই কেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে বেশি মানুষ ভোট দিয়ে এসেছেন। হিসেব বলছে ২০১৬ সালে ৮৯.৪৮ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন। তবে ২০১৯ সালে তা কিছুটা কমে ৮৭.৪৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। ২০২১ সালে আবার ৮৯.০৪ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের প্রথম দিকে খেজুরি ছিল একটি ব্যস্ত বন্দর শহর। কলকাতায় বন্দর থাকার আগে বড় বড় জাহাজ খেজুরিতে নোঙর করত পণ্য লোড-আনলোড করার জন্য। শহরটি একটি পোর্ট অফিস এবং একটি এজেন্ট হাউসের আয়োজন করেছিল। পরবর্তী সময়ে তা বিদেশি নাবিকদের জন্য একটি মিটিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। আজ সেই যুগের কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। পাশাপাশি একটি কবরস্থান রয়ে গিছে। বর্তমান খেজুরি হল কন্টাই মহকুমার অংশ। যেখানে জনসংখ্যার ৯৩.৫৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় বাস করে। বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে ভূখণ্ডটি সমতল। এখানকার মাটি উর্বর। এই অঞ্চলটি রসুলপুর এবং বাগুই নদী সহ নদী এবং খালের দ্বারা ঘেরা। ধান, পান এবং শাকসবজি হল এখানকার প্রধান ফসল। এছাড়া এখানকার মাছ এবং চিংড়ি চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে। খেজুরির পরিকাঠামো পরিমিত। ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত মহকুমা সদর দপ্তর কন্টাই। তমলুকের জেলা সদর দফতর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। আর কলকাতা উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে ২০ কিলোমিটারে মারিশদা, ৩৫ কিলোমিটারে রামনগর এবং ৫০ কিলোমিটারে দীঘা। নির্বাচনী এলাকাটি দক্ষিণ-পশ্চিমে ওড়িশার সীমানা এবং মন্দারমণির মতো উপকূলীয় কেন্দ্রগুলির কাছাকাছি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এখানে অ্যাডভান্টেজে বিজেপি। কিন্তু তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট উঠে না আসলে লড়াই আদতে দ্বিমুখী।
Partha pratim das
AITC
Himangshu das
CPI(M)
Nota
NOTA
Somnath mandal
SUCI
Asim kumar mandal
IND
Patra swadesh ranjan
BJP
Raghunath das
SP
Tapas maiti
SUCI
Nota
NOTA