
দাঁতন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর মহকুমার অন্তর্গত একটি ব্লক-স্তরের শহর। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি হল দাঁতন। এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত দাঁতন–২ ও মোহনপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং দাঁতন–১ ব্লকের চক ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। ফলে এটি মূলত গ্রামীণ চরিত্রের একটি কেন্দ্র। প্রথম দিকে কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত বাংলা কংগ্রেস (যা পরে আবার কংগ্রেসে মিলিত হয়) এখানে প্রভাব বিস্তার করে। পরে সিপিআই প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে আসে এবং টানা ছয়বার জিতে প্রায় ২৪ বছর ধরে আসনটি নিজেদের দখলে রাখে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস ধীরে ধীরে জমি তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত এই এলাকা নিজ...
দাঁতন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর মহকুমার অন্তর্গত একটি ব্লক-স্তরের শহর। এটি একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা কেন্দ্র। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি হল দাঁতন। এই কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত দাঁতন–২ ও মোহনপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং দাঁতন–১ ব্লকের চক ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। ফলে এটি মূলত গ্রামীণ চরিত্রের একটি কেন্দ্র। প্রথম দিকে কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত বাংলা কংগ্রেস (যা পরে আবার কংগ্রেসে মিলিত হয়) এখানে প্রভাব বিস্তার করে। পরে সিপিআই প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে আসে এবং টানা ছয়বার জিতে প্রায় ২৪ বছর ধরে আসনটি নিজেদের দখলে রাখে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস ধীরে ধীরে জমি তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত এই এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে।
দাঁতনের রাজনৈতিক যাত্রাপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। প্রথমে চরম ডানপন্থার প্রতি সমর্থন, পরে মধ্যপন্থা, তারপর বামপন্থার দিকে ঝোঁক এবং সাম্প্রতিককালে আবার ডানপন্থার দিকে ঝোঁকার ইঙ্গিত।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত সবকটি অর্থাৎ ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে। ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ (বর্তমান বিজেপির পূর্বসূরি) এখানে প্রথম নির্বাচন জেতে। এরপর কংগ্রেস ও বাংলা কংগ্রেস দুটি করে জয় পায়। ১৯৭১ সালে সিপিআই তাদের প্রথম জয় পায়। ১৯৭৪ সালে প্রদ্যুৎ কুমার মাহান্তি কংগ্রেস (অর্গানাইজেশন)-এর হয়ে এবং ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির হয়ে জয়ী হন। ১৯৮১ সাল থেকে সিপিআই টানা ছয়বার জিতে দীর্ঘ আধিপত্য কায়েম করে, যা তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙতে সক্ষম হয়।
২০১১ সালে সিপিআই প্রার্থী অরুণ মহাপাত্র তৃণমূলের শৈবাল গিরিকে ৪,৬৫০ ভোটে হারিয়ে বামফ্রন্টের দখল বজায় রাখেন। যদিও এতে তাদের প্রভাব কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছিল। ২০১৬ সালে তিন দলই নতুন প্রার্থী দেয়। তৃণমূলের বিক্রম চন্দ্র প্রধান সিপিআই-এর শিশির কুমার পাত্রকে ২৯,২৬০ ভোটে হারান, বিজেপি তৃতীয় স্থানে থাকে। ২০২১ সালে একই প্রার্থীরা আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রধান পুনরায় জয়ী হলেও ব্যবধান নেমে আসে মাত্র ৬২৩ ভোটে, এবং বিজেপি সিপিআই-কে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।
লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দাঁতন অংশে ওঠানামা স্পষ্ট। ২০০৯ সালে সিপিআই তৃণমূলকে ২০,৫১৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল সিপিআই-কে ৩০,৪২৪ ভোটে হারায়। ২০১৯ সালে বিজেপি তৃণমূলকে ৬,৬৮৯ ভোটে এগিয়ে যায় এবং ২০২৪ সালে তৃণমূল আবার ৬,৩৩৪ ভোটে বিজেপির উপর লিড ফিরে পায়।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী দাঁতন বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২,৩৬,৫০৩ জন। এটি ২০২৪ সালের ২,৪৩,১৬৬ জনের থেকে ৬,৬৬৩ কম। এর আগে ২০২১ সালে ছিল ২,৩৩,৮৪১ জন, ২০১৯ সালে ২,২৪,৬৭৫ জন ২০১৬ সালে ২,১১,৬১৪ জন এবং ২০১১ সালে ১,৭৯,৪৯৯ জন ভোটার ছিল।
এখানে কোনও একক সম্প্রদায় প্রাধান্য বিস্তার করে নেই। ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ছড়ানো। তফসিলি জাতি ৯.৭০ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ৬.৬৮ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ১১.৯০ শতাংশ। এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ আসন। ভোটদানের হার বরাবরই এই এলাকায় বেশি। যদিও সময়ের সঙ্গে প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে ভোটদানের হার। ২০১১ সালে ৮৯.৩১%, ২০১৬ সালে ৮৪.৬৪%, ২০১৯ সালে ৮৪.৫০%, ২০২১ সালে ৮৪.৬৮% এবং ২০২৪ সালে ৮০.৪৯%।
ভৌগোলিকভাবে দাঁতন দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় সমভূমির সমতল গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত। উর্বর পলিমাটি ধান চাষের জন্য উপযোগী, পাশাপাশি কিছু সবজি চাষ ও ছোটখাটো ব্যবসা অর্থনীতির অংশ। ন্যাশনাল হাইওয়ে ১৬ কাছ দিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ভালো। দাঁতন রেলস্টেশন হাওড়া-খড়গপুর লাইনে অবস্থিত। খড়গপুর প্রায় ৫৫ কিমি, মেদিনীপুর শহর ৭০ কিমি, কলকাতা প্রায় ১৮০ কিমি দূরে। বেলদা ১৫ কিমি, এগরা ২৫ কিমি, ঝাড়গ্রাম প্রায় ৯০ কিমি এবং ওড়িশার বালেশ্বর প্রায় ৫০ কিমি দূরে।
বর্তমানে দাঁতনে স্পষ্ট রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। একসময়ের শক্তিশালী বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট গত তিন নির্বাচনে তিন শতাংশেরও কম ভোট পেয়ে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য আসনটি ধরে রাখা এখন কঠিন হতে পারে। খসড়া ভোটার তালিকায় ৬,৬৬৩ নাম বাদ পড়া সামান্য মনে হলেও ২০১৯-পরবর্তী সময়ে অল্প ব্যবধানের প্রেক্ষিতে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও বাদ পড়া ভোটারদের সম্প্রদায়ভিত্তিক তথ্য এখনও জানা যায়নি, তবে যদি অধিকাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত হন, তাহলে তা তৃণমূলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের বিশ্বাস।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী ওঠানামা এবং এসআইআর-এর প্রভাব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন দাঁতনে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চলতে পারে।
Saktipada nayak
BJP
Sisir kumar patra
CPI
Nota
NOTA
Subhas das
SUCI
Sisir kumar patra
CPI
Shaktipada nayak
BJP
Balaram das
SUCI
Nota
NOTA