
তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্র। এক সময় বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি ছিল বাঁকুড়ার এই গ্রামীণ অঞ্চল। আপাতত এখানে লড়াই বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। তবে ভোটার তালিকায় বদল, রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রীতিমতো অনিশ্চয়তার আবহ তালডাংরায়। বাঁকুড়া জেলার একটি ব্লক-স্তরের শহর তালডাংরা। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। সিমলাপাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, তালডাংরা ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ইন্দপুর ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র।
১৯৫১ সালে এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালে। ১৯৫৭ সালে এই কেন্দ্রের অস্তিত্ব ছিল না। পরে ১৯৬২ সালের নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রক...
তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্র। এক সময় বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি ছিল বাঁকুড়ার এই গ্রামীণ অঞ্চল। আপাতত এখানে লড়াই বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। তবে ভোটার তালিকায় বদল, রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রীতিমতো অনিশ্চয়তার আবহ তালডাংরায়। বাঁকুড়া জেলার একটি ব্লক-স্তরের শহর তালডাংরা। এটি বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। সিমলাপাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, তালডাংরা ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ইন্দপুর ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র।
১৯৫১ সালে এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালে। ১৯৫৭ সালে এই কেন্দ্রের অস্তিত্ব ছিল না। পরে ১৯৬২ সালের নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৪ সালের উপনির্বাচন সহ তালডাংরায় মোট ১৭ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে সিপিএম ১০ বার, কংগ্রেস চার বার এবং তৃণমূল কংগ্রেস ৩ বার জিতেছে।
২০১১ সালে সিপিএম টানা অষ্টমবারের জন্য এই আসনে জেতে। মনোরঞ্জন পাত্র পরপর ৪ বার জিতেছিলেন। শেষবার কংগ্রেসের অরুণ কুমার পাঠককে ৭,১৬৫ ভোটে হারান। তৃণমূল কংগ্রেস ২০০১ ও ২০০৬ সালে এখানে সিপিএমের কাছে হেরে গিয়েছিল। তারপর ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। অবশেষে ২০১৬ সালে তৃণমূল এখানে প্রথমবার জেতে। সমীর চক্রবর্তী সিপিএমের অমিয় পাত্রকে ১৩,৬৬৯ ভোটে হারান।
২০২১ সালে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে সমীর চক্রবর্তীর জায়গায় অরূপ চক্রবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১২,৩৭৭ ভোটে জয় ধরে রাখেন। বিজেপির শ্যামল কুমার সরকার রানার-আপ হন। পরে অরূপ চক্রবর্তী লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ায় ২০২৪ সালে উপনির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল্গুনি সিংহবাবু বিজেপির অনন্যা রায় চক্রবর্তীকে ৩৪,০৮২ ভোটে হারান।
লোকসভা নির্বাচনের ফলের প্রবণতাও এই কেন্দ্রে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ২০০৯ সালে সিপিএম কংগ্রেসকে ২৮,৭৯৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমকে ১,৫০৯ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে বিজেপি ১৭,২৬৮ ভোটে তৃণমূলকে ছাপিয়ে যায়। পরে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আবার ৮,৪৮৩ ভোটে এগিয়ে যায়।
২০২৫ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের পরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০৭,৩১১। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৪২,৩২০। অর্থাৎ ৩৫,০০৯ ভোটার কমেছে। এর আগে ভোটার সংখ্যা ছিল ২০২১ সালে ২,৩৩,২৯১, ২০১৯ সালে ২,৩২,৯২৭, ২০১৬ সালে ২,০৬,৯১৯ এবং ২০১১ সালে ১,৭৯,৬৯৩। ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জাতি ২৯.১৪ শতাংশ, তফসিলি জনজাতি ১৩.২৭ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ৭.২০ শতাংশ। মোট ভোটারের ৯৭.৫২ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন, শহুরে ভোটার মাত্র ২.৪৮ শতাংশ। ভোটদানের হারও ধারাবাহিকভাবে বেশি। ২০১১ সালে ৮৭.৪০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.৭৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৭৩ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৭.২৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৩.১০ শতাংশ।
ভোটার তালিকার সংশোধন বা এসআইআর তালডাংরায় অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। মুসলিম ভোটার তুলনামূলক কম হলেও মোট ৩৫,০০৯ নাম বাদ পড়েছে। মৃত্যু, পুনরাবৃত্তি বা স্থানান্তরের মতো কারণ দেখানো হলেও জাতি বা সম্প্রদায়ভিত্তিক কোনও তথ্য প্রকাশ হয়নি। ফলে কোন সামাজিক গোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে এই অংশে বিজেপি এগিয়ে ছিল এবং তারপর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিচ্ছে। ২০২৪-এ তৃণমূল আবার এগিয়ে যায় এবং বিধানসভা আসনটি তাদের দখলেই রয়েছে।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারত। ২০১৯-এর পরে সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু এসআইআর খসড়া তালিকা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলে বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়া ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে বুথে বুথে ব্যবধান কমে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৬ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ বেশ অনিশ্চিত। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট ও ছোট দলগুলি প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই টিকে থাকার সম্ভাবনা। মূল লড়াই সেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যেই। ভোটার তালিকার পরিবর্তন সেই লড়াইয়ে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
Shyamal kumar sarkar (benu)
BJP
Manoranjan patra
CPI(M)
Nota
NOTA
Sandip kumar dey
IND
Sunil murmu
IND
Subhendu mahata
SUCI
Ramkrishna maji
IND
Sanjay bauri
BMUP
Amiya patra
CPM
Mahadeb khan
BJP
Nota
NOTA
Tapas kumar ray
JMM
Sanjay bauri
BMUP
Radhakanta banerjee
JHAP
Pandab saren
IND
Sisir baran ghosh
SUCI