
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ব্লক শহর রামনগর নিজেও একটি বিধানসভা কেন্দ্র। জেনারেল ক্য়াটাগরির এই আসনটি রামনগর এক ও দুই নম্বর ব্লক নিয়ে তৈরি। কাঁথি লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে রামনগরও অন্যতম। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আসনে এখনও পর্যন্ত সাতবার বিধানসভা ভোট হয়েছে। তবে এর সীমানা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০০৬ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশ মেনে বর্তমান রূপরেখা তৈরি হয় এই বিধানসভাক্ষেত্রের। ২০০৯ ও ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকে এই সীমানা মোতাবেকই ভোট হয়ে আসছে রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাতটি বিধানসভা ভোটের মধ্যে চারবার জিতেছিল কংগ্রেস দল। বাকি তিনবারের মধ্যে একবার করে কংগ্রেস (সংগঠন), প্রজা সমাজতান্ত্রিক দল ও নির্দল প্র...
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ব্লক শহর রামনগর নিজেও একটি বিধানসভা কেন্দ্র। জেনারেল ক্য়াটাগরির এই আসনটি রামনগর এক ও দুই নম্বর ব্লক নিয়ে তৈরি। কাঁথি লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্যে রামনগরও অন্যতম। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আসনে এখনও পর্যন্ত সাতবার বিধানসভা ভোট হয়েছে। তবে এর সীমানা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ২০০৬ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশ মেনে বর্তমান রূপরেখা তৈরি হয় এই বিধানসভাক্ষেত্রের। ২০০৯ ও ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকে এই সীমানা মোতাবেকই ভোট হয়ে আসছে রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাতটি বিধানসভা ভোটের মধ্যে চারবার জিতেছিল কংগ্রেস দল। বাকি তিনবারের মধ্যে একবার করে কংগ্রেস (সংগঠন), প্রজা সমাজতান্ত্রিক দল ও নির্দল প্রার্থীরা জেতেন। তবে ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। এই সময়কালের মধ্যে সিপিআইএম জেতে চারবার। বাকি তিনবার জয়ী হন কংগ্রেস, জনতা পার্টি ও তৃণমূলের প্রার্থীরা। ২০০১ সাল থেকে এই আসনটিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করে আসছে অখিল গিরিকে। সেবারই তিনি প্রথমবারের মতো পরাজিত করেন সিপিআইএম প্রার্থী সমরেশ দাসকে, ৬৫৫১ ভোটে। তবে ২০০৬ সালে তিনি হেরে যান। সেবার বাম প্রার্থী স্বদেশ রঞ্জন নায়ক তাঁকে ৮৮২৭ ভোটে পরাজিত করেন। তারপর থেকে যদিও টানা এই আসনে জিতে আসছেন গিরি। ২০১১ সালে নায়েককে ১৬,৫৫৯ ভোটে এবং ২০১৬ সালে তাপস সিনহাকে পর্যদুস্ত করেন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবে বদল এলেও আসন ধরে রাখেন গিরি। সেবছর সিপিআইএম মাত্র ৩.০৪ শতাংশ ভোট পায়। ফলে তারা তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। যদিও সেবার বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন স্বদেশ রঞ্জন নায়ক। তিনি দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন। নায়কের বিজেপিতে যোগদানের কারণ ছিল ২০১৯ সালে রামনগর কেন্দ্রে গেরুয়া শিবিরের উত্থান। সেই লোকসভা নির্বাচনে ৪৪.৬০ শতাংশ ভোট পান গেরুয়া প্রার্থী। ২০২১ সালেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। বিজেপির ভোট বেড়েছিল ৩৯.০৫ শতাংশ, সেখানে সিপিআই(এম)-এর ভোট কমেছিল ৩৫.৯৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভায় এই আসন থেকে চমকপ্রদ ফল করে পদ্মশিবির। তৃণমূল কংগ্রেসকে ছাড়িয়ে যায়। লিড দেয় ৯,১৬৮ ভোটে। ২০২৪ সালে রামনগরে ২৭৪,২৩৭ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। ২০২১ সালে ২৬৪,৯০০ এবং ২০১৯ সালে ২৫৪,৭৮৮ জন। মোট ভোটারের মধ্যে তপসিলি জাতিগোষ্ঠীর ভোটার সংখ্যা ১৩.৫৫ শতাংশ, যেখানে মুসলিমদের সংখ্যা ৯.৯০ শতাংশ। এই নির্বাচনী এলাকাটি মূলত গ্রামীণ। ভোটারদের উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে ৮০ শতাংশের উপরে থাকে। ২০১১ সালে ৮৭.৬১ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.১২ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮১.৭১ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৩.৮৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮০.৪৯ শতাংশ। রামনগর বঙ্গোপসাগর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। দক্ষিণ বাংলার উপকূলীয় এবং নদীমাতৃক সমভূমিতে অবস্থিত রামনগর। এর পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে সুবর্ণরেখা নদী। ফলে ভালো ফসল উৎপাদিত হয়। মাৎস্যচাষ এখানকার অন্যতম জীবীকা। প্রধান উৎপাদিত ফসল হল ধান, পান, ডাল, সবজি। এর কাছাকাছি বড় শহরের মধ্যে রয়েছে খড়গপুর। সড়ক ও রেলপথের সঙ্গে শহরটি যুক্ত। রামনগরের মাত্র ২২ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত কাঁথি। ৫৬ কিলোমিটার দূরে তমলুক। পূর্ব মেদিনীপুরের একটি সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্ট শহর দিঘা, রামনগর থেকে মাত্র ১৬ কিমি দূরে। হলদিয়া বন্দর প্রায় ৭৩ কিমি দূরে এবং রাজ্যের রাজধানী কলকাতা প্রায় ১৮৩ কিমি দূরে অবস্থিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছ। কারণ, ২০২৪ সালে বিজেপি এই আসন থেকে লিড পেয়েছিল। আবার এটাও ঠিক যে, এই বিধানসভা আসনে লাগাতার জিতে আসছে তৃণমূল। ফলে দ্বিমুখী প্রতিযোগিতা হবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
Swadesh ranjan nayak
BJP
Sabyasachi jana
CPI(M)
Nota
NOTA
Arati pahari
SUCI
Trayee pradhan
RTORP
Tapas sinha
CPM
Tapan kar
BJP
Nota
NOTA
Prodorshi ghosh
LJP
Prabir kumar misra
BHNP
Dhananjoy dalai
IND