
বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত মফস্বল এলাকা সোনামুখী। এই আধা শহরকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্র। আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই কেন্দ্রের ইতিহাস বেশ জটিল। বারবার বদলেছে সীমানা। বদলেছে রাজনৈতিক গুরুত্ব। সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্র প্রথম তৈরি হয় ১৯৫২ সালে। সে সময় এটি ছিল দ্বৈত আসন। পরে সাধারণ শ্রেণির কেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিন ছিল। ১৯৫৭ এবং ১৯৬২ সালে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্র থেকে কার্যত হারিয়ে যায় এই কেন্দ্র। ১৯৬৭ সালে ফের ফিরে আসে সোনামুখী। পরে আবার বদল। ২০০৮ সালে ডিলিমিটেশনের পরে এই কেন্দ্র তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হয়। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে এই সংরক্ষণ কার্যকর হয়। বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম বা...
বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত মফস্বল এলাকা সোনামুখী। এই আধা শহরকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্র। আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই কেন্দ্রের ইতিহাস বেশ জটিল। বারবার বদলেছে সীমানা। বদলেছে রাজনৈতিক গুরুত্ব। সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্র প্রথম তৈরি হয় ১৯৫২ সালে। সে সময় এটি ছিল দ্বৈত আসন। পরে সাধারণ শ্রেণির কেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিন ছিল। ১৯৫৭ এবং ১৯৬২ সালে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্র থেকে কার্যত হারিয়ে যায় এই কেন্দ্র। ১৯৬৭ সালে ফের ফিরে আসে সোনামুখী। পরে আবার বদল। ২০০৮ সালে ডিলিমিটেশনের পরে এই কেন্দ্র তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হয়। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে এই সংরক্ষণ কার্যকর হয়। বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম বার প্রয়োগ হয় ২০১১ সালে। বর্তমানে সোনামুখী পুরসভা এলাকা, সোনামুখী ব্লক এবং পত্রসায়ের ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি সোনামুখী। সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্রের ইতিহাস এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। দীর্ঘ সময় এই অঞ্চলে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার দাপট ছিল। মোট ১০ বার এই আসনে জিতেছে তারা। শেষ বার জেতে ২০১৬ সালে। কংগ্রেস জিতেছে তিন বার। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি এক বার করে জয় পেয়েছে। সংরক্ষিত হওয়ার পরে তিনটি নির্বাচন হয়েছে। তিনটি নির্বাচনে জয় পেয়েছে তিনটি আলাদা দল। প্রতিবারই ব্যবধান ছিল বেশ কম।
২০১১ সালে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী দীপালি সাহা। সিপিএমের মনোরঞ্জন চোংড়েকে হারান তিনি। ব্যবধান ছিল ৭,২৮৯ ভোট। ২০১৬ সালে ঘুরে দাঁড়ায় সিপিএম। অজিত রায় হারান দীপালি সাহাকে। ব্যবধান ছিল ৮,৭১৯ ভোট। ২০২১ সালে বিজেপি বাজি ধরে। প্রার্থী বদলের কৌশল নেয় গেরুয়া শিবির। সেই কৌশল সফল হয়। দিবাকর ঘরামি হারান তৃণমূলের শ্যামল সাঁতরাকে। ব্যবধান ছিল ১০,৮৮৮ ভোট।
লোকসভা নির্বাচনের ফলেও সোনামুখীতে বিজেপির উত্থান স্পষ্ট। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোট শতাংশ ছিল মাত্র ৮.০৮। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ছবিটা বদলে যায়। তৃণমূলের থেকে ২৩,৮৩৫ ভোটে এগিয়ে যায় বিজেপি। শতাংশের হিসেবে লিড ছিল ১২.৩০। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই লিড কমে। ব্যবধান দাঁড়ায় ১১,৬১৪ ভোটে। শতাংশের হিসেবে ৫.৬০।
ভোটার সংখ্যাও ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্রে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৪১ হাজার ৬৫১ জন। ২০২১ সালে ছিলেন ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৯ জন। ২০১৯ সালে ছিলেন ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৮৪৪ জন। ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জাতির হার ৪২.৮৪ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার ৩.১৫ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ১০.৯০ শতাংশ। এই কেন্দ্র মূলত গ্রামীণ। মাত্র ১০.১০ শতাংশ ভোটার শহুরে এলাকায় বসবাস করেন।
ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনে। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৯১.৪৮ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কিছুটা কমে হয় ৮৯.০৫ শতাংশ। ২০২১ সালে ভোট পড়ে ৮৯.২৩ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনে হার কিছুটা কম। ২০১৯ সালে ৮৭.০৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৮৬.১৬ শতাংশ।
সোনামুখী নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস। ইংরেজিতে যার অর্থ ‘সোনার মুখ’। এক সময়ের সমৃদ্ধ সিল্ক শিল্প এবং স্থানীয় বাণিজ্যের কারণেই এই নামকরণ বলে মনে করা হয়। সোনামুখীর রেশম শাড়ি আজও পরিচিত। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন। টেরাকোটা মন্দিরও এই এলাকার গর্ব। জটিল নকশার সেই মন্দিরগুলি ধর্মীয় ও শিল্প ঐতিহ্যের সাক্ষী।
ভূপ্রকৃতি মূলত সমতল। কোথাও কোথাও সামান্য ঢেউ খেলানো। গন্ধেশ্বরী নদীর মতো ছোট নদী রয়েছে। কৃষিকাজে জল জোগান দেয় এই নদী। চাষবাসই এখানকার অর্থনীতির মূল ভরসা। সঙ্গে আছে তাঁতশিল্প। মৃৎশিল্প। রেশমশিল্প। ছোট ব্যবসা ও সাপ্তাহিক হাটও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। স্কুল রয়েছে। প্রশাসনিক দফতরও আছে। তবে বিশেষ পরিষেবার জন্য আশপাশের শহরের উপর নির্ভর করতে হয়।
বিষ্ণুপুর থেকে সোনামুখীর দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। বাঁকুড়া জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে এই শহর। বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ও পাত্রসায়ের ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটারের মধ্যে। দুর্গাপুর প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। সোনামুখীতেই রয়েছে নিকটতম রেল স্টেশন। বাঁকুড়া হয়ে কলকাতার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ রয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। সোনামুখীতে লড়াই মূলত বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। আপাতত সামান্য এগিয়ে বিজেপি। তবে হিসাব সহজ নয়। বিজেপির চোখ কংগ্রেস-সিপিএম জোটের দিকে। সেই জোট শক্ত হলে তৃণমূলের ভোট ভাগ হতে পারে। তাতে সুবিধা হতে পারে বিজেপির। বিশেষ করে ২০১১ সালের পর থেকে এই কেন্দ্র কোনও দলকে টানা দু’বার জেতায়নি। সেই ধারাই কি বজায় থাকবে? উত্তর দেবে ২০২৬-এর ভোট।
Dr. shyamal santra
AITC
Ajit ray
CPI(M)
Avranil mandal
SUCI
Nota
NOTA
Asim kumar mandal
IND
Dipali saha
AITC
Debjani roy
BJP
Nota
NOTA
Jayanta lohar
BSP