
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা এলাকা হল ফারাক্কা। এটি ১৯৫১ সাল থেকে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে রয়েছে। এটি পুরো ফারাক্কা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং সামসেরগঞ্জ ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত- গাজিনগর মালাঞ্চা ও কাঞ্চনতলা নিয়ে গঠিত। এই বিধানসভা এলাকাটি বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত। ২০০৯ সাল থেকে এটি মালদা দক্ষিণ লোকসভা আসনের অন্তর্গত। তার আগে ফারাক্কা জঙ্গিপুর লোকসভা সিটের অধীনে ছিল এটি। এই কেন্দ্রটি ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। এখানে কংগ্রেস আটবার জয়ী হয়েছে। অপরদিকে সিপিআই(এম) জিতেছে ছ'বার। এখানে প্রথম তিনটি নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। এরপর ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে বাংলা কংগ্রেস দু'বার জেতে ভোটে। তবে তারপরই বদলে যায় ...
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার একটি জেনারেল ক্যাটাগরির বিধানসভা এলাকা হল ফারাক্কা। এটি ১৯৫১ সাল থেকে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে রয়েছে। এটি পুরো ফারাক্কা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক এবং সামসেরগঞ্জ ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত- গাজিনগর মালাঞ্চা ও কাঞ্চনতলা নিয়ে গঠিত। এই বিধানসভা এলাকাটি বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত। ২০০৯ সাল থেকে এটি মালদা দক্ষিণ লোকসভা আসনের অন্তর্গত। তার আগে ফারাক্কা জঙ্গিপুর লোকসভা সিটের অধীনে ছিল এটি। এই কেন্দ্রটি ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে। এখানে কংগ্রেস আটবার জয়ী হয়েছে। অপরদিকে সিপিআই(এম) জিতেছে ছ'বার। এখানে প্রথম তিনটি নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। এরপর ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে বাংলা কংগ্রেস দু'বার জেতে ভোটে। তবে তারপরই বদলে যায় পরিস্থিতি। ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত সিপিআই(এম) ধারাবাহিকভাবে ৬টি বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়। তারপর আবার এখানে পাঁচবারের জন্য জয়লাভ করে কংগ্রেস। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে এখানে জেতে তৃণমূল। সেই ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের মানিরুল ইসলাম বিপুল ৫৯,৯৪৫ ভোটের ব্যবধানে বিজেপির হেমন্ত ঘোষকে পরাজিত করেন। এই ভোটে পাঁচবারের জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী মাইনুল হক তৃতীয় স্থানে ছিলেন। যদিও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এখানে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভোট বাড়ায়। তারা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। সেই ভোটে ব্যবধান ছিল ২৯,২২১ ভোটের। তবে তারপরই নিজেদের হারানো জমি খুঁজে পায় তৃণমূল। ২৪ সালের লোকসভায় ৪০,৫৩৩ ভোটে তৃণমূল লিড নেয়। ২০২১ সালে ফারাক্কায় ২,২৭,৫৪৯ জন ভোটার ছিলেন। সেটা ২০২৪ সালে বেড়ে ২,৩৬,৮৬৩ হয়েছে। মুসলিমরা এই কেন্দ্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ। মোট ভোটারের ৬৭.৩০ শতাংশ হল মুসলিম। এসসি এবং এসটি ভোটার যথাক্রমে ১০.৭৫ শতাংশ এবং ১.৬০ শতাংশ। এই এলাকায় গ্রামীণ ও শহুরে ভোটার প্রায় সমান। এক্ষেত্রে গ্রামীণ ৫৮.৪৮ শতাংশ এবং শহরের ৪১.৫২ শতাংশ ভোটার রয়েছে। মুশকিল ফারাক্কা কেন্দ্রে ধীরে ধীরে ভোটারদের ভোটদানের উৎসাহ কমছে। যেখানে ২০১৬ সালে ৮৫.০৪ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ৭৬.০৪ শতাংশ মানুষ মাত্র ভোট দেন এখানে। আসলে ফারাক্কার পরিচয় এই অঞ্চলের বাঁধ এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ২৩৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের ফারাক্কা ব্যারেজ ১৯৭৫ সালে উদ্বোধন করা হয়। এটি ভগীরথী-হুগলি নদীর দিকে ৪২ কিমি লম্বা ফিডার খালের মাধ্যমে জল প্রবাহিত করে। এর ফলেই কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখে। এই বাঁধটি বাংলাদেশ সীমান্তের মাত্র ১৮ কিমি দূরে অবস্থিত। আর এই ব্যারেজকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। মাথায় রাখতে হবে, ফারাক্কায় দু'টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলি হল ফারাক্কা সুপার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাগরদিঘী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই দু'টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রই এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পাশাপাশি এগুলির মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানও হয়। ফারাক্কার ভূপ্রকৃতি গঙ্গা, ভগীরথী এবং বাঁসলোই নদী দ্বারা গঠিত। এখনার জমি খুবই উর্বর। তবে ক্ষয়প্রবণ। এখানে বন্যার ঝুঁকি থাকে। ফারাক্কার অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক। এখানকার প্রধান ফসল হল ধান, পাট এবং সবজি। এখানে খুব একটা কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ কর্মসংস্থানই অনিয়মিত। তবে যোগাযোগের পরিকাঠামো ভালো। এটি সড়ক ও রেল লাইনের দ্বারা সংযুক্ত। ফারাক্কা জঙ্গিপুর সদর থেকে প্রায় ২৫ কিমি এবং মুর্শিদাবাদ জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত। ও দিকে এই কেন্দ্রটি কলকাতা প্রায় ২৯০ কিমি দূরে। বাংলাদেশের কাছের শহর রাজশাহী প্রায় ৫০ কিমি দূরে। অপরদিক ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ গঙ্গার ওপারে ২০ কিমি দূরে অবস্থিত। ফারাক্কার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানে ১৭টি নির্বাচনের মধ্যে জয়ী সাতজনই মুসলিম সম্প্রদায়ের। আর এটাই বিজেপির জন্য চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি মুসলিম ভোটারের সংখ্যা এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে কম না হয় বা বিজেপি যদি তাদের আস্থা অর্জন না করে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বহুগুণ এগিয়ে থাকবে। তবে এই ফলাফলে পরিবর্তন আনতে পারে কংগ্রেস-বাম জোট। তারা ফিরলে তৃণমূলের ভোট ভাগ হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিজেপি যদি অ-মুসলিম ভোট একত্রিত করতে পারে, তাহলে ফারাক্কায় অপ্রত্যাশিত ফলাফলের সম্ভাবনা থাকে। তবে এখনও পর্যন্ত অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল।
Ghosh hemanta
BJP
Mainul haque
INC
Anup kumar sinha
IND
Nota
NOTA
Md meraj sorif
RSSCMJP
Kanai ghosh
IND
Md. mustafa
AITC
Indranath upadhyay
BJP
Dr. rejaul karim
WPOI
Alam khairul
BSP
Nota
NOTA
Mir mainul haque
IND