
মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার অন্তর্গত একটি কেন্দ্র হল খড়গ্রাম। এটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন এখানে সিপিআইএম এবং কংগ্রেস লড়াই করেছে। তবে বর্তমানে এখানে ওড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা।
কবে তৈরি হয় এই কেন্দ্র?
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই কেন্দ্রটি। প্রথমে এর নাম ছিল ‘বড়ঞা–খড়গ্রাম’। এটি একটি দ্বৈত-আসনের বিধানসভা কেন্দ্র ছিল। ১৯৫৭ সালে এটি ডিলিট হয়ে যায়। তবে ১৯৬২ সালের নির্বাচনের আগে ‘খড়গ্রাম’ আবার তৈরি করা হয়। এই কেন্দ্রের অন্দরে রয়েছে খড়গ্রাম কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের পুরোটা। পাশাপাশি বড়ঞা ব্লকের কল্যাণপুর–১ ও কল্যাণপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতও এরই অংশ। মাথায় রাখতে হবে, এটি জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানস...
মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার অন্তর্গত একটি কেন্দ্র হল খড়গ্রাম। এটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘদিন এখানে সিপিআইএম এবং কংগ্রেস লড়াই করেছে। তবে বর্তমানে এখানে ওড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা।
কবে তৈরি হয় এই কেন্দ্র?
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই কেন্দ্রটি। প্রথমে এর নাম ছিল ‘বড়ঞা–খড়গ্রাম’। এটি একটি দ্বৈত-আসনের বিধানসভা কেন্দ্র ছিল। ১৯৫৭ সালে এটি ডিলিট হয়ে যায়। তবে ১৯৬২ সালের নির্বাচনের আগে ‘খড়গ্রাম’ আবার তৈরি করা হয়। এই কেন্দ্রের অন্দরে রয়েছে খড়গ্রাম কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের পুরোটা। পাশাপাশি বড়ঞা ব্লকের কল্যাণপুর–১ ও কল্যাণপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতও এরই অংশ। মাথায় রাখতে হবে, এটি জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে খড়গ্রাম ১৬টিতে অংশ নিয়েছে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত টানা সাতবার সিপিআই(এম) এই আসনে জয়ী হয়। সেই সময় রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। আবার কংগ্রেসও কিছু কম যায় না। এই আসনে কংগ্রেস পাঁচবার জিতেছে, যার মধ্যে ১৯৫১ সালের দুইটি আসনও রয়েছে। RSP ও TMC দু’বার করে এই আসনে জয় পেয়েছে।
২০১১ তে সিপিআই (এম)-এর খেলা শেষ
২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর ৩৪ বছর পর এই আসনে হারের মুখ দেখে বাম। সে বছর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কংগ্রেস এই আসন দখল করে। কংগ্রেস প্রার্থী আশিস মার্জিত সিপিআই(এম)-এর গৌতম মণ্ডলকে ৮,৯৭০ ভোটে হারান। পরে জোট ভেঙে গেলে আশিস মার্জিত তৃণমূলে যোগ দেন। তারপর তিনি দুই বিধানসভা ভোটে জেতেন। ২০১৬ সালে তিনি কংগ্রেসের মাধব চন্দ্র মার্জিতকে ৩৩,১৭৩ ভোটে এবং ২০২১ সালে বিজেপির আদিত্য মৌলিককে ৩২,৫৭৩ ভোটে পরাজিত করেন। এখানে এখন তৃণমূলই শক্তিশালী। ২০০৯ সালে কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ১১,৬৫৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। সেই ধারা বাজায় ছিল ২০১৪ সালে। সেই ভোটে এগিয়ে ছিল ৬,২৩১ ভোটে। ২০১৯ সালে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম) যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে নেমে যায়। ও দিকে তৃণমূল বিজেপির থেকে ২৯,৪৭৪ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালে তৃণমূলের লিড কিছুটা কমলেও, বিজেপির থেকে ব্যবধান ছিল ২৭,১৪৮ ভোট।
মোট ভোটার কত?
২০২৪ সালে খড়গ্রামে মোট নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ২,৪২,০৭৩ জন। এই সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ২,২৮,৯২৩, ২০১৯ সালে ২,১৮,২৯১, ২০১৬ সালে ২,০৪,১০৩ এবং ২০১১ সালে ১,৭২,৯৬১। যদিও আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এবং SC ভোটারদের হার ২২.০৬ শতাংশ। তবুও এখানে মুসলিম ভোটার এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের সংখ্যা ৫০.৩০ শতাংশ। তফসিলি উপজাতির (ST) ভোটার সংখ্যা মাত্র ১.২০ শতাংশ।
এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্র। এখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই। গত দেড় দশকে এখানে ভোটদানের হার ওঠানামা করেছে। ২০১১ সালে ৮৫.৭৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭৯.৩৬ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৯.৯৪ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮১.২২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭.০৩ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। খড়গ্রাম মুর্শিদাবাদ জেলার পশ্চিম দিকে কান্দি মহকুমায় অবস্থিত। এটি ভাগীরথীর পশ্চিমের সামান্য উঁচু রাঢ় অঞ্চলে অবস্থিত। এই এলাকা ছোটনাগপুর মালভূমির পূর্ব প্রান্তের অংশ, যেখানে হালকা ঢেউখেলানো উঁচু জমি ও নিচু চাষের জমির মেলবন্ধন দেখা যায়। এখানে অসংখ্য পুকুর ও ছোট খাল রয়েছে।
এখানকার প্রধান জীবিকা কৃষি। ধান মূল ফসল। পাশাপাশি গম, তেলবীজ, ডাল, পাট ও সবজিও ভাল চাষ হয়। এখানে ছোট চালকল, ইটভাটা, দোকান ও গ্রামীণ হাট হয়। এখনকার একটা বড় অংশের মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। সড়কপথে খড়গ্রাম কান্দি, বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যান্য অংশের সঙ্গে ভালভাবে যুক্ত। মহকুমা সদর কান্দি প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। এটিই নিকটতম বড় শহর। জেলা সদর বহরমপুর প্রায় ২৭–৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রেলযোগাযোগ রয়েছে বহরমপুর কোর্ট। সেখান থেকে কৃষ্ণনগর, রানাঘাট ও কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
রাজ্যের রাজধানী কলকাতা বহরমপুর হয়ে সড়কপথে ১৮০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। পশ্চিম দিকে খড়গ্রাম বীরভূমের রামপুরহাট ও সাঁইথিয়া দিয়ে ঘেরা। পরিশেষে বলি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস ভাল অবস্থানে রয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে তারা দু’টি বিধানসভা ভোটেই জয় পেয়েছে। এগিয়ে রয়েছে লোকসভা ভোটেও। এখন এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রায় নেই। বিজেপিই প্রধান বিরোধী। তবে মুসলিম ভোট বড় হয়ে ফ্যাক্টর থাকায় বিজেপির জেতা বেশ কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Aditya moulik
BJP
Bipad taran bagdi
INC
Nota
NOTA
Tulu bala das
CPI(ML)(L)
Manik kumar das
JD(U)
Madhab chandra marjit
AITC
Sumanta mondal
BJP
Swapan das
WPOI
Nota
NOTA
Hemanta mondal
IND
Sandip rajak
SP
Sadhan kumar marjit
CPI(ML)(L)
Ananta mondal
SHS