
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র
অজয় ঝা
উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এক তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। ২০০৮ সালের ডিলিমিটেশনের পরেই এই কেন্দ্রের জন্ম। এখনও পর্যন্ত ৩টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে হেমতাবাদ। প্রথম দু'বারই জিতেছিল সিপিএম। ২০১১ সালে সিপিএম এর খগেন্দ্রনাথ সিন্হা তৃণমূল কংগ্রেসের শেখরচন্দ্র রায়কে ৩৫,৮৪৯ ভোটে হারান। কংগ্রেসের অন্তর্কলহ সেই ফলাফলে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। সেই সময় কংগ্রেস তৃণমূলের শরিক হলেও রায়গঞ্জের সাংসদ দীপা দাসমুন্সির নেতৃত্বে একাংশ বিদ্রোহ করে। তারা নির্দল প্রার্থী চিত্তরঞ্জন রায়কে সমর্থন করেন। বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগির সেই সুবিধাতেই সিপিএম বিশাল অ্যাডভান্টেজ পা...
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র
অজয় ঝা
উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এক তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। ২০০৮ সালের ডিলিমিটেশনের পরেই এই কেন্দ্রের জন্ম। এখনও পর্যন্ত ৩টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে হেমতাবাদ। প্রথম দু'বারই জিতেছিল সিপিএম। ২০১১ সালে সিপিএম এর খগেন্দ্রনাথ সিন্হা তৃণমূল কংগ্রেসের শেখরচন্দ্র রায়কে ৩৫,৮৪৯ ভোটে হারান। কংগ্রেসের অন্তর্কলহ সেই ফলাফলে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। সেই সময় কংগ্রেস তৃণমূলের শরিক হলেও রায়গঞ্জের সাংসদ দীপা দাসমুন্সির নেতৃত্বে একাংশ বিদ্রোহ করে। তারা নির্দল প্রার্থী চিত্তরঞ্জন রায়কে সমর্থন করেন। বিরোধীদের ভোট ভাগাভাগির সেই সুবিধাতেই সিপিএম বিশাল অ্যাডভান্টেজ পায়। ২০১৬ এ সেই ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১৩,১৩৬ ভোটে। সিপিএম এর দেবেন্দ্রনাথ রায় তৃণমূলের সবিতা ক্ষেত্রীকে হারিয়ে দেন। ২০১৯ এ দেবেন্দ্রনাথ রায় বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু ২০২০ তে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ২০২১ এ তাঁর স্ত্রী চন্দ্রিমা রায় বিজেপির প্রার্থী হন। তবে তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ওই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সত্যজিৎ বর্মন ২৭,২১৫ ভোটে জেতেন।
দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুর পর সমবেদনার জোয়ারেই কি বিজেপির উত্থান? সেটাও ঠিক বলা যায় না। কারণ এর আগেই হেমতাবাদে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছিল বিজেপি। ২০১৯ লোকসভা ভোটে বিজেপি এই বিধানসভা সেগমেন্টে ৬,১৭৬ ভোটে এগিয়ে ছিল। সিপিএম ছিল তৃতীয় স্থানে। সম্ভবত সেখান থেকেই দেবেন্দ্রনাথ রায়ের দলবদলের বেস তৈরি হয়। ২০২৪ লোকসভাতেও বিজেপি এই কেন্দ্রে সামান্য লিড ধরে রাখে;তৃণমূলকে ৫,৭৯৫ ভোটে পিছিয়ে দিয়ে।
২০২৪ সালে হেমতাবাদে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৭৯,৮৬২। ২০২১ এ যেখানে ছিল ২,৬৫,৩১৮ এবং ২০১৯ এ ২,৫২,৪১৬। ২০২১ সালে মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ছিলেন প্রায় ৪৪.৩ শতাংশ, তফসিলি জাতি ৩৫.২১ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ৭.০২ শতাংশ। সম্পূর্ণ গ্রামাঞ্চল এই কেন্দ্র;একটিও শহুরে ভোটার নেই। ভোটদান হার বরাবরই উঁচু। ২০১৬ য় ছিল সর্বোচ্চ ৮৫.০৪ শতাংশ, ২০২৪ এ সর্বনিম্ন ৮০.৬৫ শতাংশ। ২০২১ এর শেষ বিধানসভা নির্বাচনে ৮৩.২৩ শতাংশ ভোট পড়ে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ এর মধ্যে ভোটার বেড়েছে ২৭ হাজারেরও বেশি;হেমতাবাদ ব্লকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুবই বেশি। এর কারণ হিসেবে প্রায়শই উঠে আসে বাংলাদেশ সীমান্তের ছিদ্রযুক্ত অংশ এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত অভিযোগ।
ঐতিহাসিকভাবে হেমতাবাদ অঞ্চল ছিল প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধনের অংশ। ব্রিটিশ আমলে এটি দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়;১৭৮৬ সালে দিনাজপুর রাজ এস্টেট থেকে এই জেলার গঠন। ১৯৪৭ এর ভাগের পরে র্যাডক্লিফ লাইন দিনাজপুর জেলার বড় অংশ পূর্ব পাকিস্তানে ফেলে দেয়। বালুরঘাট মহকুমা থাকে পশ্চিমবঙ্গে;পশ্চিম দিনাজপুর জেলার অংশ হিসেবে। ১৯৫৬ সালে স্টেটস রি অর্গানাইজেশন কমিশন পূর্ব বিহারের কিছু অংশকে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রায়গঞ্জ মহকুমার সঙ্গে জুড়ে দেয়, উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করার জন্য। সেখান থেকেই হেমতাবাদ তার বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো পায়;এবং অভিবাসনের ইতিহাস, যা এখনও এর সমাজগঠনে প্রভাব ফেলে।
হেমতাবাদের ভৌগোলিক গঠন মূলত সমতল। উত্তর থেকে দক্ষিণে হালকা ঢাল;উত্তর দিনাজপুর জেলার আদর্শ ভূপ্রকৃতি। বহু নদী এই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়;মহানন্দা, কুলিক, নাগর, গামারি, টাঙ্গন এবং ছিরামতি। বর্ষায় ফুলে ওঠে, শুকনো মরসুমে সঙ্কুচিত হয়। অ্যালুভিয়াল মাটি অত্যন্ত উর্বর। ধান ও পাট প্রধান ফসল। তার পরে গম ও আলু। কৃষিই এই অঞ্চলের মেরুদণ্ড। অধিকাংশ বাসিন্দাই চাষের সঙ্গে যুক্ত। অ কৃষি কর্মসংস্থান খুবই সীমিত।
হেমতাবাদের পরিকাঠামো পশ্চিমবঙ্গের অন্য গ্রামীণ কেন্দ্রগুলির মতোই। উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। একটি গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা মেলে। বারসই-রাধিকাপুর শাখা রেলপথ;বামনগ্রাম স্টেশন সবচেয়ে কাছাকাছি;হেমতাবাদকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করে। রাজ্য সড়ক বুনিয়াদপুর ও রায়গঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। রায়গঞ্জই মহকুমা ও জেলা সদর। সব থেকে কাছের বড় বিমানবন্দর বাগডোগরা;সিলিগুড়ির কাছে;রায়গঞ্জ থেকে প্রায় ১৬০ কিমি দূরে। কলকাতা, রাজ্যের রাজধানী, সড়কপথে প্রায় ৩৪৫ কিমি।
হেমতাবাদ রায়গঞ্জ থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে। আশপাশের শহরগুলির মধ্যে রয়েছে কালিয়াগঞ্জ (১৮ কিমি), ইটাহার (১৩ কিমি) এবং করণদিঘি (৩০ কিমি)। মালদহ জেলার প্রধান শহর ইংরেজবাজার ও কালিয়াচক হেমতাবাদ থেকে যথাক্রমে প্রায় ৮৫ কিমি ও ৯৭ কিমি দূরে। বিহারের কিশনগঞ্জ ৫০ কিমির মধ্যে। কাটিহার প্রায় ৮৫ কিমি দূরে। বাংলাদেশের দিকে সীমান্ত পেরোলেই নিকটতম উপজেলা ঠাকুরগাঁও। রাধিকাপুর-বিরল রেল চেকপোস্ট ৪০ কিমির মধ্যে।
হেমতাবাদে যে বিজেপির প্রভাব ক্রমবর্ধমান, তা একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমানে সমানেই টক্কর হতে চলেছে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের ভোট শেয়ার ২০২১ এ ৪.২৪ শতাংশ থেকে ২০২৪ এ বেড়ে হয়েছে ১৪.৬৮ শতাংশ। তারাও বড় ‘স্পয়লার’ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের ভোট আরও বাড়লে তৃণমূলের ভোট কাটবে। আর সেক্ষেত্রে শাসকদলের পক্ষে হেমতাবাদ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
Chandima roy
BJP
Bhupen barman
CPI(M)
Nota
NOTA
Manindra barman
AMB
Jyotirmay barman
SUCI
Binay kumar roy
BSP
Sankar barman
IND
Dipu barman
IND
Sabita kshetry
AITC
Bhanu ram barman
BJP
Nota
NOTA
Alakesh barman
BSP
Jyotirmay barman
SUCI
Beshila barman
IND
Kanai lal biswas
IND