
উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া। দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার অন্যতম। চোপড়ায় জয়-পরাজয় ঠিক করে দেয় সংখ্যালঘু ভোট। এখানকার মোট ভোটারের আনুমানিক ৬২% মুসলিম। ১৯৭৭ ও ১৯৮২ সালে সিপিএমের বাচ্চা মুন্সি জয়ী হয়েছিলেন। তার পর থেকে গত চার দশকে কেবল মুসলিম নেতারাই এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি জনজাতি যথাক্রমে ১৬.০৮% এবং ৫.৮৪%।
১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে এই আসন। চোপড়া মূলত গ্রামীণ এলাকা। এখানকার মাত্র ১.৬৩% ভোটার শহরে বাস করেন। শুরুর কয়েক দশকে ছিল সিপিএমের একচেটিয়া দাপট। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে, ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রথম সাতটি নির্বাচনের ছ’টিতেই ...
উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া। দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার অন্যতম। চোপড়ায় জয়-পরাজয় ঠিক করে দেয় সংখ্যালঘু ভোট। এখানকার মোট ভোটারের আনুমানিক ৬২% মুসলিম। ১৯৭৭ ও ১৯৮২ সালে সিপিএমের বাচ্চা মুন্সি জয়ী হয়েছিলেন। তার পর থেকে গত চার দশকে কেবল মুসলিম নেতারাই এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি জনজাতি যথাক্রমে ১৬.০৮% এবং ৫.৮৪%।
১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে এই আসন। চোপড়া মূলত গ্রামীণ এলাকা। এখানকার মাত্র ১.৬৩% ভোটার শহরে বাস করেন। শুরুর কয়েক দশকে ছিল সিপিএমের একচেটিয়া দাপট। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে, ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রথম সাতটি নির্বাচনের ছ’টিতেই জিতেছিল বামেরা।
বামেদের জয়ে কাঁটা হন নির্দল নেতা হামিদুল রহমান। ২০০১ এবং ২০১১ সালে জেতেন। পরবর্তীকালে হামিদুল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৬ ও ২০২১ সালে চোপড়ায় ঘাসফুল ফোটান। ২০১১ সালে তিনি সিপিএমের আনোয়ারুল হককে ৬,৫৭০ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। সেবার তৃণমূল ও বিজেপি যথাক্রমে ৪.৮২% ও ৪.০৩% ভোট পেয়েছিল। ২০১৬ সালে হামিদুল তৃণমূলের টিকিটে আকরামুল হককে ১৬,৮৬০ ভোটে হারিয়ে আসনটি ধরে রাখেন। সেবার বিজেপি ৮.৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। ২০২১ সালে হামিদুলের জয়ের ব্যবধান একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪,৯০৫। হারান বিজেপির মহম্মদ শাহিন আখতারকে। এই নির্বাচনে বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৯.৪০%। সিপিএমের কমে হয় ৬.০২%।
লোকসভা নির্বাচনের ফলেও একই প্রতিফলন। ২০০৯ সাল থেকে দার্জিলিং লোকসভা আসনটি বিজেপির দখলে থাকলেও, চোপড়া বিধানসভা ক্ষেত্রে ফল উল্টো। ২০১৯ সালে বাম-কংগ্রেস জোটকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও তৃণমূল সেই বছর ৪৪,৭৭৭ ভোটের লিড পায়। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে তৃণমূলের লিড দাঁড়ায় ৯২,১৩১ ভোট। ২০২৪ সালের হিসেব অনুযায়ী চোপড়া কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ২,৬৩,৬৫৮। ২০২১ সালে যা ছিল ২,৪৭,৭৬৪ এবং ২০১৯-এ ২,২৯,৬৪০ জন। ভোটদানের হার এখানে বরাবরই বেশি। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৮৪.৭৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। ২০২৪-এ সামান্য কমে হয় ৭৯.৬৭%।
পরিকাঠামোর দিক থেকে চোপড়া খুব একটা উন্নত নয়। ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে গিয়েছে। শিলিগুড়ি ও কিষাণগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। বিদ্যুৎ পরিষেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছলেও পানীয় জলের জন্য মানুষ এখনও মূলত টিউবওয়েল ও হ্যান্ড পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য পরিষেবাও উন্নত নয়।
ইতিহাস বলছে, ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত চোপড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলি বিহারের অংশ ছিল। রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ভৌগোলিক যোগাযোগের কারণে এই অঞ্চলটিকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিকটবর্তী শহরগুলির মধ্যে রয়েছে মহকুমা সদর ইসলামপুর (২২ কিমি), ডালখোলা (৩০ কিমি), রায়গঞ্জ (৬৫ কিমি) এবং শিলিগুড়ি (৯০ কিমি)।
তৃণমূল কংগ্রেসের টানা জয়। লোকসভা নির্বাচনে বিপুল লিড। স্বাভাবিকভাবেই ২০২৬ সালের নির্বাচনেও চোপড়ায় অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল কংগ্রেস। তারাই ফেভারিট। কোনও অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তন না ঘটলে এই মুসলিম প্রধান আসনে বিজেপির সুযোগ নেই বললেই চলে।
Md. shahin akhter
BJP
Anwarul haque
CPI(M)
Ajoy kumar sinha
AMB
Surojit kisku
IND
Nota
NOTA
Akramul hoque
CPM
Sajen ram singha
BJP
Ashok roy
IND
Sarkar murmu
JDP
Naseer ahmed khan
GOJAM
Dr md tabibur rahman
IND
Nota
NOTA
Ruhidas uraw
BSP