
এককালে বাম দুর্গ ছিল হাবিবপুর। এখান সেখানেই গেরুয়া ঝড়। তৃণমূল এই কেন্দ্রে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। এখন দেখার ২৬-এর ইলেকশনে নতুন কোনও খেলা শুরু হয় কি না। হাবিবপুর হল পশ্চিমবঙ্গের মালদার জেলার একটি বিধানসভা কেন্দ্র। এটি মালদা উত্তর লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। এটি তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। এই আসনটির পথ চলা শুরু ১৯৬২ সালে। সমগ্র বামনগোলা ব্লক ও হবিবপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র।
মাথায় রাখতে হবে, হাবিবপুরে ১৬টি বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার মধ্যে ২০১৯ সালের একটি উপ-নির্বাচনও রয়েছে। এখানে প্রাথমিকভাবে বামদের আধিপত্য ছিল। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এখানে প্রথম তিনবারের ভোটে জেতে। তারপর ...
এককালে বাম দুর্গ ছিল হাবিবপুর। এখান সেখানেই গেরুয়া ঝড়। তৃণমূল এই কেন্দ্রে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। এখন দেখার ২৬-এর ইলেকশনে নতুন কোনও খেলা শুরু হয় কি না। হাবিবপুর হল পশ্চিমবঙ্গের মালদার জেলার একটি বিধানসভা কেন্দ্র। এটি মালদা উত্তর লোকসভা আসনের অধীনে সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে একটি। এটি তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। এই আসনটির পথ চলা শুরু ১৯৬২ সালে। সমগ্র বামনগোলা ব্লক ও হবিবপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র।
মাথায় রাখতে হবে, হাবিবপুরে ১৬টি বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার মধ্যে ২০১৯ সালের একটি উপ-নির্বাচনও রয়েছে। এখানে প্রাথমিকভাবে বামদের আধিপত্য ছিল। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এখানে প্রথম তিনবারের ভোটে জেতে। তারপর ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ১৯৭৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা ৯ বার জয়লাভ করে। এই আসনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নাম হলেন সরকার মুর্মু। তিনি ১৯৭১ সালে ইন্ডিপেন্টেন্ট হিসাবে প্রথম জয়ী হন। তারপর ১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ান এবং জয়লাভ করেন।
যদিও সেই লাল দুর্গ এখন অতীত। গত কয়েক বছরে এখানে শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। তারা ২০১৯ উপনির্বাচন এবং ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন, দুইই জিতেছে। বিশেষত, সিপিআইএম-এর চারবারের বিধায়ক খগেন মুর্মু দল বদল করার পর থেকেই এখানে বিজেপির রমরমা। তিনি ২০০১ থেকে ২০১৬ টানা চারবার বিধায়ক ছিলেন। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন এবং বিধায়ক হিসাবে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২৪ সালে তিনি মালদা উত্তর লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই ভোটেও জিতেছেন৷
২০১৯ সালের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়েল মুর্মু তৃণমূল কংগ্রেসের অমল কিস্কুর চেয়ে ৩০,৬১৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই নির্বাচনে মাত্র ৫.৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সিপিআই(এম) প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থানে চলে গিয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনেও সেখানে জিতে যান জয়েল মুর্মু। তিনি ১৯,৫১৭ ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদীপ বাস্কিকে পরাজিত করেন। এই ভোটেও তৃতীয় স্থানে ছিল সিপিআই(এম)। তারা ৬.৯৭ শতাংশ ভোট হয়।
আর শুধু বিধানসভা নয়, লোকসভা ভোটেও বিজেপির উত্থান এবং সিপিআই(এম) এর পতন দেখা গেছে। সিপিআই(এম) ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে এই অংশে লিড পেয়েছিল। কিন্তু খগেন মুর্মুর বিজেপিতে যোগদানের পরে দলটি ২০১৯ সালে ৫৩,৮৩৬ ভোটে এবং ২০২৪ সালে ৩৬,৯৫২ ভোটে এই বিধানসভা বিভাগে এগিয়ে ছিল। মাথায় রাখতে হবে, তৃণমূল কংগ্রেস হাবিবপুরে কখনও জেতেনি। তারা এখানে সব সময়ই দ্বিতীয় স্থানে ছিল। ২০২৪ সালে হাবিবপুরের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৫৮,৫২১। ২০২১ সালে ২৪৯,৯৫৭ এবং ২০১৯ সালে ২৪০,০৭১ ভোটার ছিল। তফসিলি উপজাতিদের জন্য আসন সংরক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তফসিলি জাতি ভোটারদের সংখ্যাও এখান কম নয়। এখানে তফসিলি জাতি ৪৮.৯ শতাংশ ভোটার রয়েছে। আর এসটি ভোটার রয়েছে ২৭.১৮ শতাংশ। এখানকার ভোটারদের প্রায় ৬ শতাংশ মুসলিম।
এখানকার নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশই গ্রামীণ। মাত্র ৩.৯৭ শতাংশ শহুরে ভোটার। ভোটারদের ভোটের হার সাধারণত বেশির দিকে থাকে। তবে গত দশকে তা অনেকটাই কমেছে। ২০১৬-তে ৮২.৬৯ শতাংশ থেকে ২০১৯-এ ৮১.৩০ শতাংশ, ২০২১-এ ৭৯.৮৩ শতাংশ এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ৭৬.৮৩ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ভৌগোলিকভাবে হাবিবপুর হল উত্তর মালদার উর্বর সমভূমির একটি অংশ। এই এলাকার মধ্য দিয়ে পাগলা, টাঙ্গন সহ বেশ কয়েকটি ছোট নদী প্রবাহিত হয়েছে। যার ফলে এখানকার জমি কৃষিকাজের জন্য উপযুক্ত। বেশিরভাগ বাসিন্দাই চাষাবাদ করেন। ধান, গম ও পাট এখানকার প্রধান ফসল। এছাড়া এখানে আমের বাগানও রয়েছে।
ব্লক সদর দফতর মালদা হাবিবপুর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বামনগোলা আবার হাবিবপুরের ১২ কিমি দূরে অবস্থিত। এর সবথেকে কাছের শহর হল মালদা টাউন। এটা রয়েছে প্রায় ২৫ কিমি দূরে। শুধু তাই নয়, গাজোল ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত। এছাড়া উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ অবলস্থিত ৬৫ কমি উত্তরে। এখান থেকে খুবই কাছে বাংলাদেশ বর্ডার। ফুলবাড়ি চেকপয়েন্ট এবং বাংলাবাধা বর্ডার মাত্র ৫০ কিমি দূরে। বিহারের কাটিহার এখান থেকে ৯০ কিমি দূরে। কলকাতা রয়েছে ৩৫০ কিমি দূরে।
মাথায় রাখতে হবে, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জেতার আশা খুবই কম। আবার বাম-কংগ্রেসও এখানে ভাল জায়গায় নেই। সেই দিক থেকে দেখলে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তবে এখনও শেষ কথা বলার সময় আসেনি। একটু এদিক-ওদিক হলেই ফলাফল বদলে যেতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Prodip baskey
AITC
Thakur tudu
CPI(M)
Baburam kisku
BMUP
Nota
NOTA
Pratap koramudi
APoI
Provat kisku
IND
Shrinath tudu
BSP
Murmu joy
IND
Biswanath mardi
KPPU
Nirmal soren
IND
Amal kisku
AITC
Prodip baskey
BJP
Nota
NOTA
Mandal mardi
IND
Subin hansda
BMUP
Mandal soren
IND
Lakshiram baske
SP
Pradeep murmu
BSP
Shibananda saren
SUCI