
সুতি বিধানসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার অন্তর্গত। অসংরক্ষিত ক্যাটাগরির এই কেন্দ্রটি জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনের সাতটি বিধানসভা আসনের অন্যতম। ১৯৫১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে সুতি। মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে এই কেন্দ্র। দীর্ঘ ৭৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিষয় বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে। এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র মুসলিম প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। মুসলিম অধ্যুষিত এই কেন্দ্র রাজনৈতিক বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী। সাত দশকের বেশি সময়ে মাত্র ছ’জন জনপ্রতিনিধিকে বিধানসভায় পাঠিয়েছে সুতি। তাঁদের অনেকেই একাধিক বার জয় পেয়েছেন।
রাজনৈতিক ফলাফলের নিরিখে কংগ্রেস এই কেন্দ্রে সবচেয়ে ...
সুতি বিধানসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার অন্তর্গত। অসংরক্ষিত ক্যাটাগরির এই কেন্দ্রটি জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনের সাতটি বিধানসভা আসনের অন্যতম। ১৯৫১ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে সুতি। মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন দেখেছে এই কেন্দ্র। দীর্ঘ ৭৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিষয় বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে। এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র মুসলিম প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। মুসলিম অধ্যুষিত এই কেন্দ্র রাজনৈতিক বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী। সাত দশকের বেশি সময়ে মাত্র ছ’জন জনপ্রতিনিধিকে বিধানসভায় পাঠিয়েছে সুতি। তাঁদের অনেকেই একাধিক বার জয় পেয়েছেন।
রাজনৈতিক ফলাফলের নিরিখে কংগ্রেস এই কেন্দ্রে সবচেয়ে সফল দল। আট বার জয় পেয়েছে কংগ্রেস। বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল রেভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি বা আরএসপি ছ’বার জয় পেয়েছে। দু’বার জয় এসেছে নির্দল প্রার্থীদের হাত ধরে। তৃণমূল কংগ্রেস এক বার এই আসনে জয় পেয়েছে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইতিহাসেও কিছু নাম বারবার উঠে আসে। আরএসপির শিশ মহম্মদ এবং কংগ্রেসের মহম্মদ সোহরাব; দু’জনেই চার বার করে নির্বাচিত হয়েছেন। লুৎফল হক প্রথম দিকে টানা তিন বার জেতেন। ১৯৫১ সালে নির্দল হিসেবে। পরে দু’বার কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে। আরএসপির জেন আলম মিঞা দু’বার জয় পেয়েছেন। ইমানি বিশ্বাস দু’বার জিতেছেন। এক বার কংগ্রেসের হয়ে। এক বার তৃণমূলের হয়ে। নির্দল প্রার্থী এস মহম্মদ এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধি হুমায়ুন রেজাও এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন।
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ইমানি বিশ্বাস জয়ী হন। তৎকালীন আরএসপি বিধায়ক জেন আলম মিঞাকে তিনি হারান। ব্যবধান ছিল ১৭,৪০৯ ভোট। ২০১৬ সালে দল বদল করেন ইমানি বিশ্বাস। তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। কিন্তু সেই নির্বাচনে জয় অধরা থাকে। কংগ্রেস প্রার্থী হুমায়ুন রেজার কাছে ৩,৯৫০ ভোটে পরাজিত হন। ২০২১ সালে আবার ঘুরে দাঁড়ান ইমানি বিশ্বাস। তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তিনি বিজেপির কৌশিক দাসকে হারান। ব্যবধান ছিল বড়। ৭০,৭০১ ভোট। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হুমায়ুন রেজা বামফ্রন্টের শরিক হিসেবে লড়েন। তিনি তৃতীয় স্থানে নেমে যান। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল ৮.৮০ শতাংশ।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সুতির রাজনৈতিক চিত্রে বদল স্পষ্ট হয়। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি; এই দুই দল মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। কংগ্রেস এবং সিপিএম পিছিয়ে পড়ে। সুতি বিধানসভা অংশে বিজেপির থেকে ৪৩,৯৫৪ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে এবং সিপিএম চতুর্থ স্থানে নেমে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে ফিরে আসে। তবে তৃণমূলের লিড বজায় থাকে। ব্যবধান ছিল ১৯,৯২৩ ভোট।
ভোটার সংখ্যাও ক্রমশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে সুতি বিধানসভা কেন্দ্রে নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ১৪৭ জন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪১৮। ২০১৯ সালে ছিল ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৬২। ভোটারদের মধ্যে মুসলিম ভোটারই সবচেয়ে বড় অংশ। মোট ভোটারের ৬৪.৭০ শতাংশ মুসলিম। তফসিলি জাতির ভোটার ৮.৪০ শতাংশ। গ্রামীণ এবং শহুরে ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। গ্রামীণ ভোটার ৫৩.২৫ শতাংশ। শহুরে ভোটার ৪৬.৭৫ শতাংশ। পুরো সুতি-২ ব্লক এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। সঙ্গে রয়েছে সুতি–১ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত।
ভোটদানের হার বরাবরই বেশি ছিল। তবে ধীরে ধীরে কিছুটা কমছে। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৫.৯৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা হয় ৮৪.৯১ শতাংশ। ২০১৯ সালে নেমে আসে ৮১.৬৬ শতাংশে। ২০২১ সালে ভোট পড়ে ৮১.৫০ শতাংশ।
‘সুতি’ নামের উৎস নিয়েও নানা মত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, হিন্দি ও বাংলার ‘সুতি’ বা তুলো শব্দ থেকেই নামটি এসেছে। তবে ঐতিহাসিক ভাবে এই এলাকার বস্ত্র ও রেশম শিল্পই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মুর্শিদাবাদ জেলা বহু দিন ধরেই রেশম ও তুলো বস্ত্রের জন্য পরিচিত। মুঘল এবং ঔপনিবেশিক আমলে এই অঞ্চলে বস্ত্র ব্যবসার রমরমা ছিল। ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর ধারে গড়ে উঠেছিল বাণিজ্যকুঠি ও নদীবন্দর। সুতি এলাকার আশপাশেও তার প্রভাব পড়ে।
ভৌগোলিকভাবে সুতি ভাগীরথীর পূর্ব দিকের উর্বর সমতলে অবস্থিত। মুর্শিদাবাদের স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতি এখানে দেখা যায়। পলিমাটির জমি। চাষের উপযোগী। তবে বর্ষায় বন্যার আশঙ্কাও থাকে। ভাগীরথী প্রধান নদী। পাশাপাশি রয়েছে একাধিক ছোট খাল ও শাখা নদী। সেগুলি সেচে সাহায্য করে। কৃষিই এখানকার মূল জীবিকা। ধান, পাট, সরষে এবং সব্জি চাষ হয়। নদীভিত্তিক ব্যবসা রয়েছে। ছোট বাজার রয়েছে। রেশম বয়ন শিল্প এখনও টিকে আছে। ইটভাটা রয়েছে। ছোট শিল্পও আছে। স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামীণ রাস্তা এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় সরকারি বিনিয়োগ হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গিপুর মহকুমা সদর থেকে সুতি প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে। মুর্শিদাবাদ জেলা সদর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। ধুলিয়ান ১৯ কিলোমিটার। রঘুনাথগঞ্জ ১৫ কিলোমিটার। ঐতিহাসিক লালবাগ রয়েছে ৫৮ কিলোমিটার দক্ষিণে। পাকুরের কাছে বিহার সীমান্ত মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে। ফারাক্কা ও লালগোলা হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। সুজনীপাড়া এবং আহিরান; এই দু’টি রেল স্টেশন সুতি শহরের ৬ কিলোমিটারের মধ্যেই। যাতায়াত এবং বাণিজ্যের জন্য এই রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জটিল হচ্ছে অঙ্ক। সাম্প্রতিক দু’টি নির্বাচনের ফল বলছে, সুতি হতে পারে ত্রিমুখী লড়াইয়ের মঞ্চ। আপাতত সামান্য এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে কংগ্রেস-বামফ্রন্টের ভোট আরও বাড়লে তৃণমূলের সমীকরণ বদলাতে পারে। সেই পরিস্থিতির দিকেই তাকিয়ে থাকবে বিজেপি। কারণ মুসলিম ভোটে বড়সড় ভাঙন না ধরলে এই কেন্দ্রে বিজেপির জয় সহজ নয়। মুসলিম অধ্যুষিত এই আসনে অপ্রত্যাশিত ফলের জন্য অপেক্ষা এখন ২০২৬-এর ভোটের।
Koushik das
BJP
Humayun reza
INC
Maidul islam
IND
Nota
NOTA
Md. hasan jahangir
IND
Anup singha
SUCI
Mahfujur rahaman
WPOI
Enamul haque
IND
Emani biswas
AITC
Samrat ghosh
BJP
Nezamuddin
RSP
Mahfujur rahaman
WPOI
Nota
NOTA
Samiruddin
SUCI
Badirul islam
IND