
কুশমণ্ডি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এমন একটি বিধানসভা কেন্দ্র যেটি একসময় ছিল RSP-এর শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু ২০২১ সালের পর খেলা ঘুরে যায়। রাজ্যের অন্য একাধিক বিধানসভার মতো কুশমণ্ডিও দখলে আনে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে গত ১০ বছরে কুশমণ্ডির রাজনৈতিক চিত্রে বদল এসেছে। RSP-এর শক্ত ঘাঁটি তৃণমূলের দখলে, আর সেখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। বলা চলে তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে মোদী-অমিত শাহের দল। কুশমন্ডি আসলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের শহর। উল্লেখযোগ্য হল এটি একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র এবং সম্পূর্ণ গ্রামীণ আসন। এটি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কুশমণ্ডি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট...
কুশমণ্ডি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এমন একটি বিধানসভা কেন্দ্র যেটি একসময় ছিল RSP-এর শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু ২০২১ সালের পর খেলা ঘুরে যায়। রাজ্যের অন্য একাধিক বিধানসভার মতো কুশমণ্ডিও দখলে আনে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে গত ১০ বছরে কুশমণ্ডির রাজনৈতিক চিত্রে বদল এসেছে। RSP-এর শক্ত ঘাঁটি তৃণমূলের দখলে, আর সেখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। বলা চলে তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে মোদী-অমিত শাহের দল। কুশমন্ডি আসলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমার একটি ব্লক-স্তরের শহর। উল্লেখযোগ্য হল এটি একটি তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র এবং সম্পূর্ণ গ্রামীণ আসন। এটি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে একটি। কুশমণ্ডি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, সঙ্গে গঙ্গারামপুর ব্লকের বেলবাড়ি–II, জাহাঙ্গীরপুর ও শুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত—মিলে এই বিধানসভা গঠিত। ১৯৬২ সালে পৃথক কেন্দ্র হিসেবে গঠনের পর থেকে কুশমণ্ডিতে হয়েছে মোট ১৫টি বিধানসভা নির্বাচন। এই কেন্দ্রের ভোটাররা বছরের পর বছর একই দলের রাজনৈতিক আনুগত্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। যেমন - ১৯৬৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত টানা ছয়বার কংগ্রেস জেতে এবং ১৯৮৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি (আরএসপি) টানা সাতবার জয় পায়। এই কেন্দ্রের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন (১৯৬২) অবশ্য জিতেছিল সিপিআই। তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে প্রথমবার জেতে ২০২১ সালে। ওই বছরই দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপিও। বিশেষ বিষয় হল, এই কেন্দ্রের ভোটাররা অনেক সময় রাজ্য রাজনীতির বৃহত্তর প্রবণতার বিপরীতে গিয়েছেন। ১৯৭৭ সালে রাজ্যজুড়ে বামফ্রন্ট ঝড় তুললেও কুশমণ্ডিতে কংগ্রেস জিতেছিল। আবার ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে সরকার গঠন করলেও কুশমণ্ডিতে আরএসপি ২০১৬ পর্যন্ত শক্ত অবস্থান ধরে রাখে। ২০২১ সালে প্রথম জেতে তৃণমূল। আরএসপি নেতা নর্মদা চন্দ্র রায় এই আসনে সবচেয়ে সফল নেতা। তিনি দলের হয়ে সাতটি জয়ের ক্ষেত্রেই প্রার্থী ছিলেন। অপরদিকে কংগ্রেসের যতীন্দ্র মোহন রায় টানা চারবার জিতেছিলেন। নর্মদা চন্দ্র রায় ২০১১ সালে কংগ্রেসের পার্থসারথি সরকারকে ৩,৬৪৩ ভোটে হারান এবং ২০১৬ সালে তৃণমূলের রেখা রায়কে ৩,৫২৯ ভোটে পরাজিত করেন। তবে ২০২১ নির্বাচনে দুই দশকের ধারা ভেঙে তৃণমূল প্রথমবার জেতে এবং বিজেপিও প্রথমবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। তৃণমূলের রেখা রায় ১২,৫৮৪ ভোটে বিজেপি প্রার্থী রঞ্জিত কুমার রায়কে হারান, আর নর্মদা রায় সেবার মাত্র ৬.৮৩% ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তৃণমূল ও বিজেপির উত্থান একইভাবে স্পষ্ট। ২০০৯ সালে এই সেগমেন্টে আরএসপি তৃণমূলকে ১৪,৪৭০ ভোটে পিছনে ফেলেছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে উল্টো চিত্র—তৃণমূল আরএসপিকে ৯,৭৪০ ভোটে এগিয়ে যায়। বিজেপি তখনও দূর্বল—২০০৯-এ ৭.৫৪% এবং ২০১৪-তে ১৬.৪৫% ভোট। কিন্তু ২০১৯ সালে বিজেপি তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠে—তৃণমূল তখন মাত্র ৭৪০ ভোটে এগোয়, এবং ২০২৪ লোকসভায় সেই ব্যবধান বেড়ে হয় ৪,৫২৩ ভোট। ২০২৪ সালে কুশমণ্ডিতে মোট রেজিস্টার ভোটার ছিল ২,২৯,৯০৮। ২০২১-এর ২,১৯,৯২১ এবং ২০১৯-এ তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২,০৯,৪৪৩। পুরো আসনেই কোনও শহরাঞ্চল নেই। জনসংখ্যার হিসেবে তফসিলি জাতির (SC) হার প্রায় ৪৪.৫৭%, তফসিলি উপজাতি (ST) প্রায় ৯.৬৫% এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ৩৩.৭০%। ভোটদানের ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রের ভোটাররা দারুণ সক্রিয়। ২০১১-তে ৮৯.৭০%, ২০১৬-তে ৮৫.৪৪%, ২০১৯-এ ৮৩.৭০%, ২০২১-এ ৮৩.৭৯% এবং ২০২৪-এ ৭৯.৭৩% ভোট পড়ে। ভৌগলিক ভাবে কুশমণ্ডি দক্ষিণ দিনাজপুরের পলিমাটি সমৃদ্ধ সমতলে অবস্থিত। পুনর্ভবা, আত্রেয়ী ও যমুনার মতো নদী এই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই নদীগুলি জমিকে উর্বর করলেও বর্ষায় জলবন্ধ দশা ও বন্যার আশঙ্কা থেকেই যায়। কৃষিই স্থানীয় অর্থনীতির মূলভিত্তি—ধানসহ নানা শস্য উৎপাদন, ছোট ব্যবসা, হাটবাজার এবং নদীপথভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এ বাংলাদেশের জন্মের পর পূর্ব পাকিস্তান ও পরের বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন এই জেলায় হিন্দু তফসিলি জাতি, আদিবাসী এবং মুসলিম জনবসতির ভারসাম্য ধীরে ধীরে বদলে দিয়েছে। কুশমণ্ডি থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাট ৪৫–৫৫ কিমি দূরে। কলকাতার দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ৪৩০–৪৮০ কিমি। গঙ্গারামপুর (৩০ কিমি), হিলি (৮৫–৯০ কিমি), কুমারগঞ্জ (৬০–৬৫ কিমি) এবং মালদা শহর (৭০–৯০ কিমি)—সবই সড়কপথে সংযুক্ত। দক্ষিণ দিনাজপুর বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা জেলা; কুশমণ্ডি সীমান্ত থেকে ৪০–৬০ কিমি দূরে হলেও সীমান্তবর্তী বাজার ও অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনচলাচলে প্রভাব ফেলে। এলাকার রাজনৈতিক চিত্র ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হিসেবে কাগজে-কলমে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান এতটাই কম যে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বিজেপি ইতিমধ্যেই আরএসপিকে কোণঠাসা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে বাম–কংগ্রেস জোট সামান্য হলেও যদি মুসলিম ভোটে ভাঙন ঘটাতে পারে, তবে বিজেপির পক্ষে সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে কুশমণ্ডি থেকে অপ্রত্যাশিত ফল বেরোনোর সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতায় তৃণমূলই সামান্য হলেও এগিয়ে থেকে ২০২৬-এ লড়াই শুরু করবে।
Ranjit kumar roy
BJP
Narmada chandra roy
RSP
Nota
NOTA
Biswanath sarkar
BSP
Bhimnal sarkar
IND
Rekha roy
AITC
Ranjit kumar roy
BJP
Nota
NOTA
Jaydeb mondal
BSP
Anil kumar singha
IND
Jagannath roy
IND