
দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সদর বালুরঘাট। বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্র। আবার বালুরঘাট লোকসভা আসনও রয়েছে। একটা সময় এখানে আরএসপি-র দাপট ছিল। তবে কালের নিয়মে আরএসপি জমি হারিয়েছে। উঠে এসেছে বিজেপি। বালুরঘাটের লোকসভা নির্বাচনেরও একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। তৃণমূল এবং বিজেপিই এখানে প্রধান শক্তি। আরএসপি কার্যত সাইনবোর্ড।
বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়েছিল। তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৫১ এবং ১৯৫৭ সালে দ্বৈত-আসন কেন্দ্র ছিল। প্রথম নির্বাচনে কংগ্রেস দুটি আসনেই জেতে। ১৯৫৭ সালে কংগ্রেস ও আরএসপি একটি করে আসন পায়। ১৯৬২ সালে বালুরঘাট একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। তারপর থেকে কয়েক দশক ধরে এখানে আরএসপি-র আধিপত্য। ১৫টি নির্বাচনের মধ্...
দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সদর বালুরঘাট। বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্র। আবার বালুরঘাট লোকসভা আসনও রয়েছে। একটা সময় এখানে আরএসপি-র দাপট ছিল। তবে কালের নিয়মে আরএসপি জমি হারিয়েছে। উঠে এসেছে বিজেপি। বালুরঘাটের লোকসভা নির্বাচনেরও একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। তৃণমূল এবং বিজেপিই এখানে প্রধান শক্তি। আরএসপি কার্যত সাইনবোর্ড।
বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫১ সালে গঠিত হয়েছিল। তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৫১ এবং ১৯৫৭ সালে দ্বৈত-আসন কেন্দ্র ছিল। প্রথম নির্বাচনে কংগ্রেস দুটি আসনেই জেতে। ১৯৫৭ সালে কংগ্রেস ও আরএসপি একটি করে আসন পায়। ১৯৬২ সালে বালুরঘাট একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। তারপর থেকে কয়েক দশক ধরে এখানে আরএসপি-র আধিপত্য। ১৫টি নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতেই তারা জিতেছিল। কংগ্রেস জিতেছিল তিনবার। এ ছাড়া নির্দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি এখানে একবার করে জয়লাভ করেছে।
১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিশ্বনাথ চৌধুরী টানা সাতবার জয়ী হন। প্রায় ২৫ বছর রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১১ সালে বালুরঘাটে ভাঙে সেই রীতি। বিশ্বনাথ চৌধুরীকে ৪৯,২০৪ ভোটে হারিয়ে তৃণমূলের শঙ্কর চক্রবর্তী এই আসনটি ছিনিয়ে নেন। তবে ২০১৬ সালে শঙ্কর চক্রবর্তীকে ১,৪৫০ ভোটে পরাজিত করেন বিশ্বনাথ চৌধুরী। ২০২১ সালে তৃণমূল, আরএসপি এবং বিজেপি- তিনটি প্রধান দলই এখানে নতুন মুখকে প্রার্থী করে। এর সুবিধা পায় বিজেপি। অশোককুমার লাহিড়ী তৃণমূলের শেখর দাশগুপ্তকে ১৩,৪৩৬ ভোটে হারিয়ে এই আসনটি দখল করেন। অন্যদিকে, আরএসপি প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থানে নেমে আসে। তৃণমূলের ভোটের হার ছিল ৩৮.৬০ শতাংশ। বিজেপি ৪৭.৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আরএসপি পেয়েছিল মাত্র ১০.৬৩ শতাংশ।
২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল আরএসপি-র থেকে ৩,০৯৬ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে বিজেপি শক্তিশালী হয়ে উঠলেও তৃণমূল কোনওক্রমে ২,১৯৩ ভোটের লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তবে ২০১৯ সালে বিজেপি ৩৯,০১৬ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪২,৩৫৭-তে।
আত্রেয়ী নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর। নদীর বালিমাটির কারণে শহরের এহেন নামকরণ। বালি ও নদীর পার ঘাট- বালুরঘাট। এই শহরের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন বলছে, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে এটি প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের অংশ ছিল। পরবর্তীকালে বালুরঘাট ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল পাল ও সেন রাজবংশের শাসনাধীন ছিল। গুপ্ত যুগের অসংখ্য নিদর্শন ইঙ্গিত দেয় যে, এটি তৎকালীন সময়ে বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। মধ্যযুগে বৃহত্তর বাংলা অঞ্চলে মুসলিম শাসক থাকায় ইসলামের প্রভাবও দেখা যায়। ব্রিটিশ আমমলে বালুরঘাট একটি প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই অঞ্চলের জনবিন্যাসে বড় পরিবর্তন আনে। সীমানা পেরিয়ে আসেন প্রচুর হিন্দু শরণার্থী।
২০২৪ সালে বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল ১,৮৬,৪৩০ জন। যা ২০২১ সালে ছিল ১,৮০,৩৯০। ২০১৯ সালে ১,৭১,৯৯০ জন। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে তফসিলি জাতির ভোটার ২১.২১ শতাংশ। তফসিলি জনজাতির ১২.৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটার খুবই কম। বালুরঘাটের জনসংখ্যা গ্রাম ও শহরের মধ্যে প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। গ্রামীণ অংশে ৫০.৭০ শতাংশ এবং শহরে ৪৯.৩০ শতাংশ ভোটার। ভোটদানের হারে সময়ের সঙ্গে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে সর্বোচ্চ ৮৮.৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০১৬-তে তা কমে হয় ৮৮.১৭ শতাংশ। ২০১৯-এ ৮৫.১০ শতাংশ। ২০২১-এ ৮৪.৫৭ শতাংশ এবং ২০২৪-এ তা দাঁড়ায় ৮০.৪৩ শতাংশে।
বালুরঘাট শহরটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মধ্যস্থলে এক উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ সমতল ভূমি। ধান ও পাট চাষ হয়। মরসুমি সবজির খেত, আম বাগানও রয়েছে। মালদহ ও কলকাতার সঙ্গে বালুরঘাট রেলপথে যুক্ত। সড়কপথে কলকাতা থেকে বালুরঘাটের দূরত্ব প্রায় ৪৪৫ কিমি। জেলার অন্য শহর গঙ্গারামপুর এখান থেকে ৩৩ কিমি দূরে। অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ প্রায় ১০০ কিমি এবং মালদহ ১২০ কিমি দূরে অবস্থিত। বালুরঘাট পুরসভার ঠিক ৩ কিমি দক্ষিণে হিলি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত। অন্যান্য সীমান্ত সংলগ্ন জেলার মতো এখানে অনুপ্রবেশের সমস্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এর প্রধানত দু’টি কারণ- কাঁটাতারের বেড়া এবং সীমান্তে কড়া প্রহরা।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিজেপি। ২০২১ বিধানসভা ভোটে জয়। ২০১৯ ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে জিতেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু তৃণমূলও সংগঠনের বিস্তার ঘটিয়েছে। ফলে কড়া টক্কর হতে চলেছে।
Sekhar dasgupta
AITC
Sucheta biswas
RSP
Nota
NOTA
Jogesh chandra murmu
BSP
Narottam saha
AMB
Birendra nath mahanta
SUCI
Dulal barman
BMUP
Anup barman
KPPU
Chakravorti shankar
AITC
Gautam chakraborty
BJP
Nota
NOTA
Samar kumar mahato
BSP
Biren mahanta
SUCI