
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মহকুমা স্তরের শহর গঙ্গারামপুর একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দলবদলের রাজনীতির জেরে ঘনঘন শিবির পরিবর্তনের কারণে এই কেন্দ্রে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলেই শেষ ৩টি নির্বাচনে ৩টি ভিন্ন দল জয় পেয়েছে। যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়েছে। গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে গঙ্গারামপুর পুরসভা, গঙ্গারামপুর ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং তপন ব্লকের ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এর ফলে কেন্দ্রটির চরিত্র মূলত গ্রামীণ। এটি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার একটি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গঙ্গারামপুর পশ্চিমবঙ্গের সবক'টি অর্থাৎ ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেস ও ...
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মহকুমা স্তরের শহর গঙ্গারামপুর একটি তফসিলি জাতি (SC) সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দলবদলের রাজনীতির জেরে ঘনঘন শিবির পরিবর্তনের কারণে এই কেন্দ্রে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলেই শেষ ৩টি নির্বাচনে ৩টি ভিন্ন দল জয় পেয়েছে। যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়েছে। গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে গঙ্গারামপুর পুরসভা, গঙ্গারামপুর ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং তপন ব্লকের ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত। এর ফলে কেন্দ্রটির চরিত্র মূলত গ্রামীণ। এটি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভার একটি।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গঙ্গারামপুর পশ্চিমবঙ্গের সবক'টি অর্থাৎ ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেস ও CPIM ছিল এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। দু’দলই ৬ বার করে এই আসনে জয় পেয়েছে। CPI দু’বার জয়ী হয়েছে। ইন্ডিয়ান কংগ্রেস (সোশ্যালিস্ট), তৃণমূল কংগ্রেস ও BJP একবার করে এই আসন দখলে রেখেছে।
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সত্যেন্দ্রনাথ রায় অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে CPIM-এর নন্দলাল হাজরাকে মাত্র ৬৬৮ ভোটে পরাজিত করেন। ফলে ২৪ বছর পর এই কেন্দ্রে CPIM-এর পরাজয় ঘটে। এর আগে দলটি টানা ৫টি মেয়াদে আসনটি ধরে রেখেছিল। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের গৌতম দাস তৃণমূলের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে ১০ হাজার ৭৩৩ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। ২০২১ সালের নির্বাচন কার্যত দলবদলকারী নেতাদের লড়াইয়ে পরিণত হয়। সত্যেন্দ্রনাথ রায় তৃণমূল ছেড়ে BJP-তে যোগদান করেন এবং এই কেন্দ্রের পদ্ম চিহ্নের প্রার্থী হন। আর গৌতম দাস কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যান। সেই নির্বাচনে সত্যেন্দ্রনাথ রায় গৌতম দাসকে ৪ হাজার ৫৯২ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও গঙ্গারামপুরে রাজনৈতিক রদবদলের ছবি দেখা যায়। ২০০৯ সালে RSP তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে ৯ হাজার ৮১৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে গিয়ে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে যায়। তৃণমূল RSP-কে ১৮ হাজার ৬৫০ ভোটে পিছনে ফেলে। ২০১৯ সালে BJP তৃণমূলের থেকে ২২ হাজার ৮৫ ভোটে এগিয়ে যায় এবং ২০২৪ সালেও সেই লিড বজায় রাখে। যদিও ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৮০০।
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৪১৪। যা ২০২৪ সালের ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৮২৩ ভোটারের তুলনায় ১৪ হাজার ৪০৯ কম। এর আগে ভোটার সংখ্যা ২০২১ সালে ছিল ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৪০, ২০১৯ সালে ২ লক্ষ ১২ হাজার ২১০, ২০১৬ সালে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭২৪ এবং ২০১১ সালে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৭৫। এই সংরক্ষিত কেন্দ্রে তফসিলি জাতির ভোটাররাই সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। তাঁদের পরিসংখ্যান ৩৪.৪৮%। তফসিলি উপজাতি ভোটার ১৪.২৯% এবং মুসলিম ভোটার ২০.৯০%। কেন্দ্রটি প্রধানত গ্রামীণ, ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭৭.২১% ভোটার গ্রামে বাস করেন। আর গঙ্গারামপুর শহরের মধ্যে ২২.৭৯% শহুরে ভোটার। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৮৯.৭০%, ২০১৬ সালে ৮৭.২৯%, ২০১৯ সালে ৮৫%, ২০২১ সালে ৮৪.৬৮% এবং ২০২৪ সালে ৭৯.৬৪%।
গঙ্গারামপুর ও আশপাশের অঞ্চলের ইতিহাস বহু প্রাচীণ। নানা ধ্বংসাবশেষ, পুরনো বাঁধ, ঢিবি ও জলাশয় এই অঞ্চলের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় গুরুত্বের সাক্ষ্য দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রাচীণ এলাকা ঘিরেই গঙ্গারামপুর একটি নদীঘেঁষা জনপদ হিসেবে বিকশিত হয়েছে। গঙ্গারামপুর পুনর্ভবা নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদী দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর ও তপন ব্লকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরও দক্ষিণে গঙ্গা নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ভূপ্রকৃতি উত্তরবঙ্গের সাধারণ পলল সমভূমির অংশ, যেখানে রয়েছে সমতল থেকে হালকা ঢেউখেলানো জমি ও উর্বর মাটি। যা ধানচাষের পক্ষে অনুকূল। পুনর্ভবা ও অন্যান্য নদীর উপস্থিতি এলাকার নদীভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থায় সহায়ক।
স্থানীয় অর্থনীতি মূলত কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পরিষেবা খাতের উপর নির্ভরশীল। আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ হয়। গঙ্গারামপুর শহরে রয়েছে নিকটবর্তী বাজার। শহরে ছোট শিল্প, রিটেলব ব্যবসা এবং মহকুমা সদর হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন সরকারি দফতরও রয়েছে।
সড়ক ও রেল, দুই পথেই গঙ্গারামপুর জেলার বাকি অংশ ও রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। এটি জাতীয় সড়ক ৫১২-র উপর অবস্থিত, যা বালুরঘাট ও অন্যান্য কেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ করে গঙ্গারামপুরকে। জেলা সদর বালুরঘাট সড়কপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার দূরে। একলাখি–বালুরঘাট রেললাইনের গঙ্গারামপুর স্টেশন ব্রডগেজ রেলের মাধ্যমে মালদা ও দেশের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্যান্য নিকটবর্তী শহরের মধ্যে রয়েছে বুনিয়াদপুর (প্রায় ১৩ কিমি), হরিরামপুর (প্রায় ৩২–৩৩ কিমি) ও তপন (প্রায় ১৮ কিমি)। পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে উত্তর দিনাজপুর ও মালদা জেলার শহরগুলি পড়ে, আর পূর্বদিকে আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ৫০–৫৫ কিলোমিটার দূরে। পুনর্ভবা ও অন্যান্য নদীর ওপারে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার কিছু অংশ অবস্থিত।
রাজনৈতিকভাবে, শীর্ষ নেতাদের ঘনঘন দলবদল এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কেন্দ্রে অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে। SIR-এর ফলে ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়া ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন জয় এবং শেষ দু’টি লোকসভা নির্বাচনে এই অংশে লিড পাওয়ার সুবাদে BJP সামান্য এগিয়ে থেকে নির্বাচনে নামছে। ৭%-এরও নীচে রয়েছে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা। SC ও ST ভোটারদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য মুসলিম ভোটারদের কাছে পৌঁছনো সব দলের কাছেই চ্যালেঞ্জ।
Goutam das
AITC
Nanda lal hazra
CPI(M)
Arun kanti bala
BSP
Nota
NOTA
Akshay sarkar
KPPU
Subrata roy
CPIM
Satyendra nath roy
AITC
Sanatan karmakar
BJP
Nota
NOTA
Jatindra nath barman
BSP
Sukla bhuimali
CPIM
Bimal chandra barman
IND