
রানিনগর। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে একটি। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। ফলে ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিধানসভা আসন। মুসলিম ভোটার এখানে বেশি।
১৯৫৭ সালে এই কেন্দ্রটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত হয়। পরে ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০১১ সালে আবার আসনটি গঠিত হয়। এই আসনটি মূলত গ্রামীণ এলাকা। মাত্র ৭.৬ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলে বসবাস করেন। ২০২১ সালে এখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৫৬,১০১। ২০১৯ সালে ২,৪৩,৩৪৫। ২০১৬ সালে ২,২৩,৯৯৫ এবং ২০১১ সালে ১,৮৬,৬০০ ছিল। এক দশকে ভোটার সংখ্যা ৬৯,৫০১ জন বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। কারণ, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি এখানে বড় ইস্যু...
রানিনগর। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে একটি। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা। ফলে ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিধানসভা আসন। মুসলিম ভোটার এখানে বেশি।
১৯৫৭ সালে এই কেন্দ্রটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী মানচিত্র থেকে বিলুপ্ত হয়। পরে ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০১১ সালে আবার আসনটি গঠিত হয়। এই আসনটি মূলত গ্রামীণ এলাকা। মাত্র ৭.৬ শতাংশ ভোটার শহরাঞ্চলে বসবাস করেন। ২০২১ সালে এখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২,৫৬,১০১। ২০১৯ সালে ২,৪৩,৩৪৫। ২০১৬ সালে ২,২৩,৯৯৫ এবং ২০১১ সালে ১,৮৬,৬০০ ছিল। এক দশকে ভোটার সংখ্যা ৬৯,৫০১ জন বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। কারণ, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি এখানে বড় ইস্যু। অভিযোগ, রানিনগর অনুপ্রবেশকারীদের পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য অংশে যাওয়ার ট্রানজিট পয়েন্ট।
এখানকার ভোটারদের ৮১.৩০ শতাংশ মুসলিম। ৭.৯০ শতাংশ তফসিলি জাতি। ভোটদানের হার এখানে বরাবরই বেশি থাকে। ২০২১ সালে ৮৬.৭০%। ২০১৯ সালে ৮৪.৭১%। ২০১৬ সালে ৮৪.৮৯%। এবং ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭.৮০% ভোট পড়েছিল। রানিনগরে এ পর্যন্ত পাঁচটি নির্বাচন হয়েছে। ১৯৫৭ এবং ১৯৬২ সালে নির্দল প্রার্থী সৈয়দ বদরুদ্দিন জয়ী হন। কংগ্রেস নেত্রী ফিরোজা বেগম ২০১১ এবং ২০১৬ সালে টানা দুবার জয়লাভ করেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে প্রথম জয়ের মুখ দেখে। ফিরোজা বেগমকে ৭৯,৭০২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন আব্দুল সৌমিক হোসেন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট ঘুরে দাঁড়ায়। রানিনগর বিধানসভায় সিপিএমের মহম্মদ সেলিম ৭২১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ২০১৯ সালের ঠিক উল্টো পরিস্থিতি। সেবার তৃণমূল কংগ্রেস এখানে কংগ্রেসের চেয়ে ৩৯,৪৬২ ভোটে এগিয়ে ছিল।
এই মুসলিম প্রধান আসনে বিজেপি দুর্বল। তবে ২০২১ সালে মুসলিম প্রার্থী মাসুয়ারা খাতুন দাঁড় করিয়েছিল তারা। ভোটের হার বেড়ে হয়েছিল ৯.৫৩%। ২০১৬ সালে ছিল ৫.১০%। ২০১১ সালে ছিল মাত্র ১.৯৩% ভোট। রানিনগর গঙ্গা-ভাগীরথী অববাহিকায় অবস্থিত। মাটি অত্যন্ত উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ। ভূমি সমতল। ভাগীরথী নদী ও তার শাখা নদীগুলির কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই বন্যা হয়। কৃষিই এখানকার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। ধান, পাট, সর্ষে এবং শাকসবজি এখানকার প্রধান ফসল। গবাদি পশু পালন এবং ক্ষুদ্র বাণিজ্যও জীবিকার অন্যতম উৎস।
এখানকার পরিকাঠামো সাধারণ মানের। ডোমকল, বহরমপুর এবং লালবাগের সংযোগকারী রাস্তাগুলি থাকলেও বর্ষায় চলাচলের অযোগ্য। বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং মোবাইল সংযোগ সন্তোষজনক। পানীয় জলের জন্য মানুষ মূলত হ্যান্ডপাম্প ও টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল মানুষ। কিছু এলাকায় পাইপলাইনের জল পাওয়া যায়। ডোমকল ও বহরমপুরের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মহকুমা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা পরিষেবা মেলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রানিনগর কলেজ এবং বেশ কিছু হাইস্কুল রয়েছে।
নিকটবর্তী শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ডোমকল ১৮ কিমি দূরে। মুর্শিদাবাদ ২৫ কিমি দূরে। লালবাগ ২৮ কিমি দূরে। জেলা সদর বহরমপুর দক্ষিণ-পশ্চিমে ৩৫ কিমি দূরে। কলকাতা দক্ষিণে প্রায় ২২৫ কিমি দূরে রয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মধ্যে দক্ষিণে নদিয়া (জেলা সদর কৃষ্ণনগর ৯৮ কিমি দূরে) এবং উত্তরে মালদা (মালদা শহর ১৬৯ কিমি দূরে) অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের রাজশাহী উত্তর-পূর্বে ৩৯ কিমি, নবাবগঞ্জ ৪৫ কিমি এবং শিবগঞ্জ উত্তরে ৫৬ কিমি দূরে অবস্থিত।
অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনটি ধরে রাখার জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে। বিজেপি এখানে এখনও একটি প্রান্তিক শক্তি। কারণ মুসলিম ভোট এখানে নির্ণায়কশক্তি। এসআইআরে অবৈধ ভোটার বাদ গেলেও জনবিন্যাসে খুব বেশি বদল সম্ভব নয়। ফলে বিজেপির এখানে সুযোগ কম। বরং হুমায়ুন কবির প্রার্থী দিলে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে পারেন।
Firoza begam
INC
Mst masuara khatun
BJP
Nota
NOTA
Golam masum reja
RSSCMJP
Md saher alam
SDPI
Firoza bibi
IND
Hasibul islam
IND
Ruliya parvin
BSP
Nasrin naher lucy
SUCI
Safiur rahaman mandal
IND
Abdul hai
BAHUMP
Saira bibi
UTSAP
Dr. humayun kabir
AITC
Basu basak
BJP
Golam mostafa mondal
WPOI
Nota
NOTA
Manirul islam
SUCI
Md. yearul islam
IND