
রাজ্যে যে কটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধানসভা রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর তার মধ্যে একটি। এটি মালদা জেলার একটি ব্লক-স্তরের জনপদ। সাধারণ শ্রেণির এই বিধানসভা কেন্দ্র আদতে মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লক এবং হরিশ্চন্দ্রপুর–১ ব্লকের ভিঙ্গোল, হরিশ্চন্দ্রপুর ও মাহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শুরুটা হয়েছিল ১৯৫১ সালে। সেই সময় থেকে রাজ্যে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিটিতেই এই কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। এখানে সর্বাধিক ৬ বার জয় পেয়েছে কংগ্রেস। তার পরে রয়েছে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক। তাঁদের জয়ের সংখ্যা ৫। ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ড...
রাজ্যে যে কটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধানসভা রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর তার মধ্যে একটি। এটি মালদা জেলার একটি ব্লক-স্তরের জনপদ। সাধারণ শ্রেণির এই বিধানসভা কেন্দ্র আদতে মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর–২ ব্লক এবং হরিশ্চন্দ্রপুর–১ ব্লকের ভিঙ্গোল, হরিশ্চন্দ্রপুর ও মাহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শুরুটা হয়েছিল ১৯৫১ সালে। সেই সময় থেকে রাজ্যে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিটিতেই এই কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। এখানে সর্বাধিক ৬ বার জয় পেয়েছে কংগ্রেস। তার পরে রয়েছে অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক। তাঁদের জয়ের সংখ্যা ৫। ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ডিয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দু’বার করে জিতেছে। জনতা পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস একবার করে জয় পেয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুরের ভোটারদের রাজনৈতিক আচরণ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দল নয় এখানে ব্যক্তিগত নেতৃত্বই ভোটের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বীরেন্দ্র কুমার মৈত্র ৫ বার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। ১৯৬২ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে, ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা তিনবার ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে। একইভাবে, মহঃ এলিয়াস রাজি ১৯৫৭ ও ১৯৬৭ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবং পরে ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তাজমুল হোসেন ২০০৬ ও ২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হিসেবে টানা দু’বার জেতেন এবং পরে ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয় পান। অর্থাৎ দলের তুলনায় এই এলাকার মানুষ ব্যক্তিগত কারিশ্মাতেই ভরসা রেখেছেন। ২০১১ সালে তাজমুল হুসেন কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলমকে ২,৪৪১ ভোটে পরাজিত করে হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্র ধরে রাখেন। এর আগেও ২০০৬ সালে তিনি আলমকে পরাস্ত করেছিলেন মাত্র ২,০০২ ভোটের ব্যবধানে। ২০১৬ সালের আগে হুসেন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেও সে বছর তিনি জয় পাননি; বরং কংগ্রেসের মোস্তাক আলম তাঁকে ১৭,৮৫৭ ভোটে হারান। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে তাজমুল হুসেন বিপুল ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী মহঃ মতিবুর রহমানকে ৭৭,৪৭৩ ভোটে পরাজিত করে কেন্দ্রটি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে আনেন। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলম তৃতীয় স্থানে শেষ করেন। লোকসভা নির্বাচনের ভোট প্রবণতাও এই অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াইয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ২০০৯ সালে কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ১৩,৭৬৩ ভোটে এগিয়ে ছিল এবং ২০১৪ সালে সেই ব্যবধান ছিল ১০,৮০৭ ভোট। ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস উঠে এসে ২,৫১২ ভোটের লিড নেয়। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের উপর ৪,৩৪৩ ভোটের লিড পায়। ২০২৪ সালে হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৬৮,২৯৬। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,৫২,৪৮৭ এবং ২০১৯ সালে ২,৩৮,৩৭৪। মালদা জেলার অন্যান্য অনেক কেন্দ্রের মতোই হরিশ্চন্দ্রপুর একটি মুসলিম-অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে মুসলিম ভোটারের হার ৬২.৭০ শতাংশ। তফসিলি জাতির ভোটার ১৫.৭৯ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতির ভোটার ৩.০৮ শতাংশ। এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ কেন্দ্র—এখানে কোনও শহুরে ভোটার নেই। এই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি সাধারণত বেশি থাকে, যদিও তা কিছুটা ওঠানামা করেছে। ২০১১ সালে ভোটদান হার ছিল ৮৩.৬৩ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮০.০৬ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৭.৭৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮০.০৮ শতাংশ। হরিশ্চন্দ্রপুরের ইতিহাস বহু প্রাচীন। এটি মালদা জেলার উত্তরাংশে অবস্থিত, যা এক সময় প্রাচীন গৌড় রাজ্যের অংশ ছিল এবং পরে বেঙ্গল সালতানাতের অধীনে আসে। ১৯৪৭ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রভাব এখানে গভীরভাবে পড়ে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ঢেউ এই অঞ্চলের জনসংখ্যার গঠন বদলে দেয় এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চরিত্রকে আরও দৃঢ় করে। ভূপ্রকৃতি সমতল ও উর্বর। কাছ দিয়েই বয়ে গেছে মহানন্দা নদী, আর কিছুটা দূরে গঙ্গা নদী—যার প্রভাব কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে স্পষ্ট। ধান, পাট ও আম এখানকার প্রধান ফসল। আম উৎপাদনের জন্য মালদা জেলা রাজ্যজুড়ে পরিচিত। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর, সঙ্গে রয়েছে ছোটখাটো বাণিজ্যকেন্দ্র, তবে শিল্পের উপস্থিতি সীমিত। সড়কপথে হরিশ্চন্দ্রপুরের সঙ্গে মালদা শহর ও আশপাশের ব্লকগুলির যোগাযোগ রয়েছে। রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে হরিশ্চন্দ্রপুর স্টেশন হাওড়া–নিউ জলপাইগুড়ি লাইনে অবস্থিত, যা কলকাতা ও শিলিগুড়ির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। নিকটবর্তী শহর ও জনপদের মধ্যে রয়েছে—মালদা টাউন (জেলা সদর, ৪৫ কিমি), চাঁচল (মহকুমা সদর, ২০ কিমি), ইংরেজবাজার (৪৫ কিমি), রতুয়া (২৫ কিমি), কালিয়াচক (৬৫ কিমি), দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট (৭০ কিমি), উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ (৬০ কিমি), দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি (১৬৫ কিমি), রাজ্যের রাজধানী কলকাতা (৩৪০ কিমি), বিহারের কিশানগঞ্জ (৫৫ কিমি) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুর (প্রায় ৮০ কিমি)। ২০২১ সালে তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়ার ব্যতিক্রম ছাড়া, হরিশ্চন্দ্রপুরে কংগ্রেস দল প্রায় নিয়মিতভাবেই শক্তি প্রদর্শন করে এসেছে। শেষ চারটি নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতেই তারা লিড নিয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা হারানো জমি পুনরুদ্ধার করেছে, যা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে একটি তীব্র ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপির সর্বোচ্চ প্রাপ্তি এখানে ২০১৯ সালে মাত্র ২৫.৮০ শতাংশ ভোট। যা এই কেন্দ্রের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চরিত্রের প্রেক্ষিতে স্বাভাবিক। ফলে এই বিধানসভায় কোন দল জিতবে তা নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া যে কোনও নির্বাচনী বিশ্লেষকের পক্ষেই কঠিন। তবে কংগ্রেস কতটা ফাইটব্যাক করতে পারে এবং মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ওয়াইসি, হুমায়ুন কবীরের দল দখল করতে পারবে কিনা, তাও অত্যন্ত আলোচ্য বিষয়। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্র যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।
Md. matibur rahaman
BJP
Alam mostaque
INC
Md oliur rahaman
IND
Ram bilas mandal
BSP
Alam md rafiqul
AIFB
Nota
NOTA
Musaraf hossain
SUCI
Subrata das
IND
Tajmul hossain
AITC
Alam md. rafiqul
AIFB
Sanvarlal kedia
BJP
Efrajul hoque
BSP
Dr. md. afsar ali
SDPI
Nota
NOTA
Jogen hasda
JMM
Musaraf hossain
SUCI