
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার তপসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র আউসগ্রাম। এটি বোলপুর লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্য়ে একটি। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত হল আউসগ্রাম ১, আউসগ্রাম ২ ব্লক ও গুসকরা পৌরসভা।
১৯৫১ সাল থেকে এই আসনে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার ভোট হয়েছে। প্রথম ভোটে এই কেন্দ্রে দুজন বিধায়ক ছিলেন। যদিও ১৯৬২ সাল থেকে একক আসন সংরক্ষিত নির্বাচনী কেন্দ্রে পরিণত হয়।
পূর্ব বর্ধমানের অনেক বিধানসভার মতো এই আসনটিও CPIM-এর শক্ত ঘাঁটি ছিল। ১৯৬৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই আসনে টানা ১২ বার জিতেছেন সিপিআইএম প্রার্থী। প্রথম ২ বার জিতেছিল কংগ্রেস, ১ বার নির্দল। ২০১৬ সালে বাম প্রার্থীকে হারিয়ে আসনটি দখল করে নেন তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডার। ২০২১ সা...
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার তপসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র আউসগ্রাম। এটি বোলপুর লোকসভার সাতটি বিধানসভার মধ্য়ে একটি। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত হল আউসগ্রাম ১, আউসগ্রাম ২ ব্লক ও গুসকরা পৌরসভা।
১৯৫১ সাল থেকে এই আসনে এখনও পর্যন্ত ১৭ বার ভোট হয়েছে। প্রথম ভোটে এই কেন্দ্রে দুজন বিধায়ক ছিলেন। যদিও ১৯৬২ সাল থেকে একক আসন সংরক্ষিত নির্বাচনী কেন্দ্রে পরিণত হয়।
পূর্ব বর্ধমানের অনেক বিধানসভার মতো এই আসনটিও CPIM-এর শক্ত ঘাঁটি ছিল। ১৯৬৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই আসনে টানা ১২ বার জিতেছেন সিপিআইএম প্রার্থী। প্রথম ২ বার জিতেছিল কংগ্রেস, ১ বার নির্দল। ২০১৬ সালে বাম প্রার্থীকে হারিয়ে আসনটি দখল করে নেন তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডার। ২০২১ সালেও তিনি জয়ী হন। প্রথমবার বাসুদেব মেটেকে ৬২৫২ ভোটে পরাজিত করেন। ২০২১ সালে সেই ব্যবধান বাড়ান। সেবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বিজেপির কালিতা মাজিকে ১১,৮১৫ ভোটের ব্যবধানে হারতে হয়।
বামেদের ভোটও এই আসন থেকে কমতে শুরু করে। ২০১১ সালে যেখানে বামেরা ৫২.২১ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৪২.৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেই তারাই ২০২১ সালে পায় মাত্র ৯.৪০ শতাংশ। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে বিজেপির সমর্থন বাড়তে থাকে। ২০১১ সালে তারা পেয়েছিল মাত্র ৪.৪১ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে ৭.৪৬ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০.৮১ শতাংশ।
২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের সময় থেকে এই আসনে ভোট বাড়তে থাকে রাজ্যের শাসকদলের। ২০১৯-এ বিজেপি প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। ওই কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী ঘাসফুল শিবিরের চেয়ে ১৪,৮৬৮ ভোটে পিছিয়ে ছিল, ২০২৪-এ সেই ব্যবধান বেড়ে হয় ৩৩,৫৩৫। তবে সিপিআইএম-এর ভোটের হার সামান্য বৃদ্ধি পায়। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও ২০১৪ সালে তারা ভোট পায় মাত্র ৯.৪০ শতাংশ।
২০২৪ সালে আউসগ্রামে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ছিল ২৫২,৮০৪ জন। ২০২১ সালে ২৪৬,৯৫৬ এবং ২০১৯ সালে ২৩৬,১৭৩। নির্বাচনী এলাকাটিতে প্রায় ৩৬.৫১ শতাংশ তপসিলি এবং ১২.৬৭ শতাংশ তপসিলি উপজাতির ভোটার। মুসলিম প্রায় ৩১.১০ শতাংশ। আউসগ্রাম মূলত গ্রামীণ, শহরাঞ্চলের ভোটার মাত্র ১১.৫৮ শতাংশ। এখানে ভোটদানের হার প্রায় সময় ৮৫ শতাংশের উপরে থেকেছে। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৮.৭০ ও ২০২৪ সালে ৮৫.২৬ শতাংশ।
এখানকার মাটি সমতল ও পলিমাটি সমৃদ্ধ। আউশগ্রাম অজয় এবং দামোদর নদীর মাঝখানে। রয়েছে বহু খাল ও পুকুর। প্রায় প্রতিবার বন্যা হয়। তাতে চাষের ক্ষতি হয়। সেজন্য অনেক আন্দোলনের সাক্ষীও থেকেছে এই বিধানসভা গ্রাম। কৃষি এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। ধান, আলু ও তৈলবীজ এখানকার প্রধান ফসল। বৃহৎ শিল্পের অভাব থাকলেও কুটির শিল্প রয়েছে। স্থানীয় বাজার এবং পরিবহন রুট অল্প বললেই চলে। এখানকার মানুষ গুসকরার উপর নির্ভরশীল।
আউসগ্রাম থেকে গুসকরার দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এই আউসগ্রামই গুসকরার নিকটবর্তী শহর ও রেলওয়ে জংশন। সদর শহর বর্ধমানের দূরত্ব প্রায় ৪১ কিলোমিটার, কলকাতার ১০০ কিলোমিটার। এর আশপাসে রয়েছে সিউড়ি, বোলপুর, দুর্গাপুর, সোনামুখী। এই অঞ্চলটি বীরভূম এবং বাঁকুড়া জেলার সঙ্গে সীমানা ভাগ করে নিয়েছে।
২০১৬ সালের পর থেকে এই আসনে বিজেপির উত্থান। তবে এখনও বেশ শক্তিশালী তৃণমূল কংগ্রেস। গত দশ বছরে আউসগ্রামকে তারা দুর্গে পরিণত করেছে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের ভোট যদি না বাড়ে তাহলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কা থাবা পড়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করা বিজেপির জন্য কঠিন হবে।
Kalita maji
BJP
Chanchal kumar majhi
CPI(M)
Nota
NOTA
Manasa mete
SUCI
Sridam goldar
BSP
Basudev mete
CPM
Sanatan maji
BJP
Nota
NOTA
Kalpana ankure
IND
Manasa mete
SUCI