
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র
পশ্চিম বর্ধমান জেলার ব্লক-স্তরের শহর পাণ্ডবেশ্বর একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র। এটি আসানসোল লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিভাগের একটি। পুরো নির্বাচনী এলাকা পাণ্ডবেশ্বর ও ফরিদপুর-দুর্গাপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নিরূপণ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রটি তৈরি হয়। এরপর থেকে তিনটি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্রটি সাধারণত রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতা অনুসরণ করে, যদিও কিছুটা সময় নিয়ে। ২০১১ সালে যখন রাজ্যজুড়ে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন শেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে, তখন পাণ্ডবেশ্বরের ভোটাররা সিপিআই(এম)-এর উপর আস্থা বজায় রাখেন এবং সিপিআই(এম) প...
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র
পশ্চিম বর্ধমান জেলার ব্লক-স্তরের শহর পাণ্ডবেশ্বর একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র। এটি আসানসোল লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিভাগের একটি। পুরো নির্বাচনী এলাকা পাণ্ডবেশ্বর ও ফরিদপুর-দুর্গাপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নিরূপণ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রটি তৈরি হয়। এরপর থেকে তিনটি বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্রটি সাধারণত রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতা অনুসরণ করে, যদিও কিছুটা সময় নিয়ে। ২০১১ সালে যখন রাজ্যজুড়ে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসন শেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে, তখন পাণ্ডবেশ্বরের ভোটাররা সিপিআই(এম)-এর উপর আস্থা বজায় রাখেন এবং সিপিআই(এম) প্রার্থী ৭,৮১১ ভোটে জয়ী হন। ২০১৬ সালে পরিবর্তনের হাওয়া আসে-তৃণমূলের কুমার জিতেন্দ্র তেওয়ারি সিপিআই(এম)-এর গৌরাঙ্গ চট্টার্জিকে ৫,৪৭০ ভোটে
পরাজিত করেন। পরে তেওয়ারি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে পদ্মফুলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ৩,৮০৩ ভোটে জয় পান। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস পাণ্ডবেশ্বর এলাকায় ৪০,০২৫ ভোটের বিশাল লিড নেয়। যা ২০১৯ সালের সম্পূর্ণ বিপরীত-সেবার বিজেপি ৬,০২১ ভোটে এগিয়ে ছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে পাণ্ডবেশ্বরের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২,১১,৯৬০-২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় ২১ হাজার বেশি। ভোটারদের মধ্যে তফসিলি জাতি ৩০.৮৬%, মুসলিম ভোটার ১৩.৩০% এবং তফসিলি উপজাতি ৬.৮২%। এলাকা শহুরে চরিত্রের, ৬০.৩৩% ভোটার শহরাঞ্চলে বাস করেন, বাকি ৩৯.৬৭% গ্রামাঞ্চলে। ভোটদান হার সবসময়ই বেশি-৭৭ থেকে ৭৯%-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ২০২১ সালে ভোটদানের হার ছিল ৭৭.৫১%।
পাণ্ডবেশ্বরের নাম শুনলে মহাভারতের পাণ্ডবদের আভাস মিললেও ঐতিহাসিকভাবে কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই। তবে অঞ্চলটির ইতিহাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি ছিল, যা এলাকার ইতিহাসে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ভৌগোলিকভাবে, পাণ্ডবেশ্বর অজয়-দামোদর-বরাকর নদীবেষ্টিত অঞ্চলে অবস্থিত, যা ছোট নাগপুর মালভূমির সম্প্রসারণ। বেশি ভাগ জায়গায় পাথুরে, ঢেউখেলানো ভূমি এবং ল্যাটেরাইট মাটি প্রাধান্য বিস্তার করে। উত্তরে অজয়, দক্ষিণে দামোদর ও পশ্চিমে বরাকর নদী এই অঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষিকে প্রভাবিত করে। শতাব্দীখানেক আগেও এলাকা ছিল ঘন বনাঞ্চল ও দুষ্কৃতীদের আতঙ্কের জায়গা। কিন্তু ১৮ শতকের শেষভাগে কয়লা আবিষ্কারের পর পুরো অঞ্চল শিল্পায়নের পথে দ্রুত বদলে যায়। বর্তমানে খনি ও নগরায়ণের বিস্তারে প্রাকৃতিক বনভূমির অধিকাংশই বিলুপ্ত হয়েছে।
এই কেন্দ্রের অর্থনীতি মূলত কয়লাভিত্তিক। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের পাণ্ডবেশ্বর এরিয়ার অন্তর্গত ডালুরবান্দ, খোটাডিহ, মাধাইপুর, মান্দারবনি, দক্ষিণ সামলা সহ বেশ কয়েকটি খনি এখানে সক্রিয়। খনির আধিপত্যের কারণে কৃষি কার্যত গৌণ ভূমিকা পালন করে। অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে উন্নত-ভালো সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে। বহু বছর ধরে এই কয়লা বলয় প্রতিবেশী বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিপুল শ্রমিক আকৃষ্ট করেছে। ফলে হিন্দিভাষী ভোটারদের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাদের ভোট আচরণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, দুর্গাপুর প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে, আসানসোল ৩০ কিলোমিটার, জেলা সদর বর্ধমান প্রায় ৯০ কিলোমিটার এবং কলকাতা ১৮০ কিলোমিটার দূরে। ঝাড়খণ্ডের জামতারা মাত্র ৫০ কিলোমিটার এবং দুমকা প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। এই কেন্দ্র সাধারণত হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাক্ষী, ব্যতিক্রম ২০২৪-এর লোকসভা ভোট যেখানে তৃণমূল তারকা প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহার জনপ্রিয়তার জোরে বড় লিড নেয়। তিনটি বিধানসভা নির্বাচনেই খুব কম ব্যবধানে ফল হওয়ায় বিজেপি এখনও পাণ্ডবেশ্বরকে সম্ভাবনাময় আসন হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, বাম–কংগ্রেস জোটের সম্ভাব্য পুনরুজ্জীবন এবং মুসলিম ভোটের ভাগাভাগি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
Kumar jitendra tewari
BJP
Subhas bauri
CPI(M)
Nota
NOTA
Sanjay yadav
IND
Rakesh kumar das
BSP
Atul chandra bauri
BMUP
Dana goswami
SUCI
Pradip kumar poddar
IND
Gouranga chatterjee
CPM
Jiten chatterjee
BJP
Nota
NOTA
Asim kumar bhattacharjee
SUCI
Purnendu chaudhuri
IND
Moyna ruidas
BMUP