
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: বারাবনি কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্তর্গত বিধানসভা কেন্দ্র বারাবনি। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এটি। বারাবানি এবং সালানপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে তৈরি এই কেন্দ্র।
১৯৬২ সালে তৈরি হয়েছিল বারাবনি কেন্দ্রটি। এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ১৬ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ১৯৮৯ সালে একটি উপনির্বাচনও হয়েছিল এই কেন্দ্রে। CPIM এই কেন্দ্র থেকে ৭ বার জয় পেয়েছে। অবিভক্ত CPI প্রথমবার জিতেছিল ১৯৬২ সালে। কংগ্রেস এবং তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে ৪ বার করে জয়ী হয়েছে। কখনও পরপর দু'বার এই কেন্দ্র থেকে জয় পায়নি কংগ্রেস। ১৯৯৬ সালে শেষবার এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন মানিক উপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে ...
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: বারাবনি কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্তর্গত বিধানসভা কেন্দ্র বারাবনি। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এটি। বারাবানি এবং সালানপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক নিয়ে তৈরি এই কেন্দ্র।
১৯৬২ সালে তৈরি হয়েছিল বারাবনি কেন্দ্রটি। এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ১৬ বার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ১৯৮৯ সালে একটি উপনির্বাচনও হয়েছিল এই কেন্দ্রে। CPIM এই কেন্দ্র থেকে ৭ বার জয় পেয়েছে। অবিভক্ত CPI প্রথমবার জিতেছিল ১৯৬২ সালে। কংগ্রেস এবং তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে ৪ বার করে জয়ী হয়েছে। কখনও পরপর দু'বার এই কেন্দ্র থেকে জয় পায়নি কংগ্রেস। ১৯৯৬ সালে শেষবার এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন মানিক উপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর এই মানিক উপাধ্যায়ই ঘাসফুলের টিকিটে ২০০১ সালে লড়াই করেন বারাবনি থেকে। সে বার জিতলেও ফের ২০০৬ সালে CPIM-এর দিলীপ সরকারের কাছে ১৫ হাজার ৩৮২ ভোটে হেরে যান। এরপর ২০১১ সালে মানিক থেলে বিধান উপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে জিতে আসছেন তৃণমূলের টিকিটে।
২০১১ সালে CPIM প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরীকে ২০ হাজার ৫৭৭ ভোটে হারিয়েছিলেন বিধান উপাধ্যায়। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে CPIM প্রার্থী শিপ্রা মুখোপাধ্যায়কে হারান ২৪ হাজার ৪৯ ভোটে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে CPIM-এর সঙ্গে তৃণমূলের মার্জিন ছিল ২৩ হাজার ৪৫৭ ভোটের। তবে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে BJP। ২০১৬ সালে CPIM বারাবনি কেন্দ্র থেকে ভোট পেয়েছিল ৩২.৫%, ২০২১ সালের ভোটে তা দাঁড়ায় ৫.৩%। সেখানে BJP ২০১৬ সালে ভোট পেয়েছিল ১৫.৩৫%, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮.৪%। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, এই কেন্দ্রে অধিকাংশ বামের ভোটই রামে গিয়েছে।
লোকসভা ভোটের চিত্রটা খানিকটা আলাদা। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখে এই বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে BJP। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে বাবুল সুপ্রিয়র জয় এক্ষেত্রে ছিল একটি বড় ফ্যাক্টর। ২০২১ সালে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগদান করার পর বারাবনি থেকে BJP বিধানসভার নিরিখে পিছিয়ে পড়ে। ২০২২ সালের উপনির্বাচনে সেই ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও একই রকম চিত্র দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল বিধানসভার নিরিখে বারাবনিতে এগিয়ে গিয়েছিল ২৫ হাজার ৫২৩ ভোটে।
২০২১ সালে বারাবনিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৯৬। যা ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে ছিল ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৬১। এর মধ্যে SC ভোটের হার ২৬.৪৪%, ST ভোটের হার ১২.৩৮% এবং মুসলিম ভোটার ৭.৫%। এই কেন্দ্রের ৬২.১৫% ভোটার গ্রামের বাসিন্দা। শহরাঞ্চলে থাকেন ৩৭.৮৫% ভোটার। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কেন্দ্রের তুলনায় বারাবনিতে ভোট পড়ার হার কম। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এখানে ক্রমশ কমেছে ভোটের হার।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৭৯.৫৩%। ২০১৯ সালের লোকসভায় ভোটের হার কমে দাঁড়ায় ৭৭.১৪%। আবার ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে আরও কমে দাঁড়ায় ৭৪.৯৯%।
অজয় দামোদর বরাবর অঞ্চলে অবস্থিত এই বারাবনি কেন্দ্রটি। এটি ছোট নাগপুর মালভূমি এলাকার একটি ক্ষুদ্র অংশ। অঞ্চলি পাথুরে, রয়েছে ল্যাটেরাইট মাটি। ৩ দিকে বয়ে গিয়েছে ৩টি নদী। উত্তরে অজয়, দক্ষিণে দামোদর এবং পশ্চিমে বরাকর। আগে এই এলাকা জঙ্গলে ভরা ছিল তবে ১৮ শতকে এখানে কয়লার সন্ধান মেলে। শিল্পের জন্য উর্বর হয়ে ওঠে এই অঞ্চল। তারপরই শুরু হয় জঙ্গল কাটা। সালানপুরের কাছে আদ্রা গ্রামে নুনিয়া নামে একটি ঝরনা বয়ে গিয়েছে বারাবনির মধ্যে দিয়ে। যেটি রানিগঞ্জের কাছে দামোদর নদে মিশেছে।
কয়না খনি এবং অন্যান্য শিল্পের উপরই বারাবনির অর্থনীতি নির্ভর করে। ইস্টার্ন কোলফিল্ডে প্রচুর সংখ্যক মানুষ কর্মরত। এছাড়াও এলাকার অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও স্থানীয়দের চাকরি হয়েছে। মূলত সালানপুর এলাকাতেই কারখানা এবং বেসরকারি অফিস রয়েছে। স্মল স্কেল ছাড়া কৃষিকাজ এখানে তেমন ভাবে হয় না। বারাবনি কেন্দ্রে প্রচুর সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিক কলোনি এলাকায় থাকেন তারা।
পরিকাঠামো মোটের উপর ভালই এই বিধানসভা কেন্দ্রে। আসানসোল বারাবনি থেকে মাত্র ১২ কিমি দূরে, রেল এবং সড়কপথে সংযুক্ত। স্থানীয় দু'টি রেল স্টেশন হল দামোহানি বাজার এবং পানুরিয়া। কাছেই রয়েছে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড। বিদ্যুৎ, জল, স্বাস্থ্যের মতো স্বাভাবিক এবং জরুরি পরিষেবাগুলির তেমন অভাব হয় না এই বিধানসভা এলাকায়।
কলকাতা থেকে বারাবনি ২২০ কিমি উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত। নিকটবর্তী শহরগুলির মধ্যে রানিগঞ্জ ২০ কিমি দূরে, জামুরিয়া ১৫ কিমি দূরে, চিত্তরঞ্জন ১৮ কিমি দূরে অবস্থিত। ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এই কেন্দ্র থেকে জামতারা ২৫ কিমি দূরে এবং মিঝিজাম ২২ কিমি দূরে অবস্থিত।
৩ বার বিধানসভা ভোটে জেতা এবং লোকসভাতেও এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তা সত্ত্বেও বারাবনি নিয়ে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত নয় ঘাসফুল শিবির। SC, ST ভোটারদের একটা বড় অংশ এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই BJP-র দিকে ঝুঁকে রয়েছে। বারাবনিও রয়েছে সেই তালিকায়। হিন্দিভাষী ভোটারদের দাপট রয়েছে শহুরে এবং শিল্পাঞ্চলে। এই ভোট স্যুইং হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতির বিশ্লেষকদের একাংশ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট হলে কোনও ভাবে ইক্যুয়েশন বদলে যেতে পারে কি না, সেদিকেও রয়েছে নজর।
Arijit roy
BJP
Ranendra nath bagchi
INC
Nota
NOTA
Paban nunia
IND
Debshwar besra
SUCI
Sanjay majhi
BMUP
Shipra mukherjee
CPM
Amal roy
BJP
Krishnapada nath goswami
SHS
Nota
NOTA
Pranabesh dutta
SUCI