
পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই শহুরে আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক পালাবদলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সম্পূর্ণ বর্ধমান পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি কৌশলগতভাবে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ও হাওড়া-দিল্লি রেল-করিডরের পাশে অবস্থিত হওয়ায় মধ্যবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত নগরাঞ্চল হিসেবেও পরিচিত।
বাম দুর্গ থেকে তৃণমূল- বিজেপি লড়াই: ইতিহাস বলছে কী?
১৯৬৯ সালে পুরনো বর্ধমান আসনের বিভাজনের পর ‘বর্ধমান দক্ষিণ’ আলাদা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শুরুতে এই আসনে ছিল সিপিআই(এম)-এর একচ্ছত্র আধিপত্য। ১৩টি নির্বাচনের মধ্য...
পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই শহুরে আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক পালাবদলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সম্পূর্ণ বর্ধমান পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি কৌশলগতভাবে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ও হাওড়া-দিল্লি রেল-করিডরের পাশে অবস্থিত হওয়ায় মধ্যবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত নগরাঞ্চল হিসেবেও পরিচিত।
বাম দুর্গ থেকে তৃণমূল- বিজেপি লড়াই: ইতিহাস বলছে কী?
১৯৬৯ সালে পুরনো বর্ধমান আসনের বিভাজনের পর ‘বর্ধমান দক্ষিণ’ আলাদা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শুরুতে এই আসনে ছিল সিপিআই(এম)-এর একচ্ছত্র আধিপত্য। ১৩টি নির্বাচনের মধ্যে নয়বার সিপিএম জয়ী হয়েছে; ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের ক্ষণস্থায়ী সাফল্য ছাড়া দীর্ঘ সময়ই বামরা অপ্রতিরোধ্য ছিল। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬-টানা সাতবার বামফ্রন্ট এখানে জিতেছে। তবে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। তৃণমূলের রবি রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের হাতে সিপিএম নেতা নিরুপম সেনের পরাজয় ছিল ঐতিহাসিক। এরপর ২০১6 সালে তিনি আবার জয় ধরে রাখেন। ২০২১ সালের ছবিটা অবশ্য বদলে যায়। তৃণমূলের খোকন দাস বিজেপির সন্দীপ নন্দীকে মাত্র ৮,১০৫ ভোটে হারান—এই অল্প ব্যবধানই ইঙ্গিত দেয় শহুরে এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রভাব বাড়ছে।
লোকসভা ফলাফলেও তীব্র টানাপড়েন
বর্ধমান দক্ষিণের ভোটাররা বিধানসভা ও লোকসভা-দু’দিকেই নিজেদের রাজনৈতিক পছন্দ বারবার বদলে দেখিয়েছেন। ২০১৯ লোকসভায় তৃণমূল এগিয়ে ছিল মাত্র ১,৩৩৮ ভোটে। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে ৭,২৮৮ ভোটে পৌঁছালেও প্রতিযোগিতা রয়ে গেছে কাঁটায় কাঁটায়, যা বিজেপির ক্রমবর্ধমান সংগঠনশক্তির প্রমাণ।
ভোটার কাঠামো ও উপস্থিতি: শহুরে কেন্দ্রেও উৎসাহ বেশি
২০২১ সালে বর্ধমান দক্ষিণে মোট ভোটার ছিলেন ২,৫৭,৯৪০ জন। এদের মধ্যে। মুসলিম ভোটার: প্রায় ১৫.৮০%। তফসিলি জাতি: প্রায় ১১.০৮%। পুরোপুরি শহুরে হলেও এই কেন্দ্রের ভোটদানের হার বরাবরই প্রশংসনীয়
২০১৬: ৮০.৬৮%
২০১৯: ৭৯.৬২%
২০২১: ৭৯.৫৯%
এত উচ্চ অংশগ্রহণ দেখায়, শহরের ভোটাররা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কতটা সচেতন। শহরের ঐতিহ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতি-কেন তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্ধমান দক্ষিণ শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়; এটি ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। বর্ধমান রাজের রাজধানী হিসেবে কার্জন গেট, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মতো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা শহরের পরিচিতি বহন করে। শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতা সংগ্রামী রাসবিহারী বসুর জন্মভূমি হওয়ায় বিপ্লবী ঐতিহ্যও এখানে শক্তিশালী। অর্থনৈতিক কাঠামো মূলত পরিষেবা খাত, ক্ষুদ্র শিল্প, টেক্সটাইল, ধাতু নির্মাণ এবং কৃষি-প্রক্রিয়াকরণের উপর নির্ভরশীল। শহরাঞ্চল হলেও চারপাশের অঞ্চল ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত-‘বাংলার ধানের পাত্র’ পরিচিতি এখান থেকেই।
পরিকাঠামো: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বড় ক্ষেত্র
হাওড়া-দিল্লি রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ জংশন বর্ধমান। এছাড়া, এনএইচ-১৯-এর নিকটবর্তী অবস্থান, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এলাকার উন্নয়ন আলোচনায় নিয়মিত উঠে আসে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই শহুরে আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক পালাবদলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সম্পূর্ণ বর্ধমান পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্রটি কৌশলগতভাবে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ও হাওড়া-দিল্লি রেল-করিডরের পাশে অবস্থিত হওয়ায় মধ্যবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত নগরাঞ্চল হিসেবেও পরিচিত।
বাম দুর্গ থেকে তৃণমূল- বিজেপি লড়াই: ইতিহাস বলছে কী?
১৯৬৯ সালে পুরনো বর্ধমান আসনের বিভাজনের পর ‘বর্ধমান দক্ষিণ’ আলাদা কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শুরুতে এই আসনে ছিল সিপিআই(এম)-এর একচ্ছত্র আধিপত্য। ১৩টি নির্বাচনের মধ্যে নয়বার সিপিএম জয়ী হয়েছে; ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের ক্ষণস্থায়ী সাফল্য ছাড়া দীর্ঘ সময়ই বামরা অপ্রতিরোধ্য ছিল। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬-টানা সাতবার বামফ্রন্ট এখানে জিতেছে। তবে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। তৃণমূলের রবি রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের হাতে সিপিএম নেতা নিরুপম সেনের পরাজয় ছিল ঐতিহাসিক। এরপর ২০১6 সালে তিনি আবার জয় ধরে রাখেন। ২০২১ সালের ছবিটা অবশ্য বদলে যায়। তৃণমূলের খোকন দাস বিজেপির সন্দীপ নন্দীকে মাত্র ৮,১০৫ ভোটে হারান—এই অল্প ব্যবধানই ইঙ্গিত দেয় শহুরে এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রভাব বাড়ছে।
লোকসভা ফলাফলেও তীব্র টানাপড়েন
বর্ধমান দক্ষিণের ভোটাররা বিধানসভা ও লোকসভা-দু’দিকেই নিজেদের রাজনৈতিক পছন্দ বারবার বদলে দেখিয়েছেন। ২০১৯ লোকসভায় তৃণমূল এগিয়ে ছিল মাত্র ১,৩৩৮ ভোটে। ২০২৪ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে ৭,২৮৮ ভোটে পৌঁছালেও প্রতিযোগিতা রয়ে গেছে কাঁটায় কাঁটায়, যা বিজেপির ক্রমবর্ধমান সংগঠনশক্তির প্রমাণ।
ভোটার কাঠামো ও উপস্থিতি: শহুরে কেন্দ্রেও উৎসাহ বেশি
২০২১ সালে বর্ধমান দক্ষিণে মোট ভোটার ছিলেন ২,৫৭,৯৪০ জন। এদের মধ্যে। মুসলিম ভোটার: প্রায় ১৫.৮০%। তফসিলি জাতি: প্রায় ১১.০৮%। পুরোপুরি শহুরে হলেও এই কেন্দ্রের ভোটদানের হার বরাবরই প্রশংসনীয়
২০১৬: ৮০.৬৮%
২০১৯: ৭৯.৬২%
২০২১: ৭৯.৫৯%
এত উচ্চ অংশগ্রহণ দেখায়, শহরের ভোটাররা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কতটা সচেতন। শহরের ঐতিহ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতি-কেন তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্ধমান দক্ষিণ শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়; এটি ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মিলনস্থল। বর্ধমান রাজের রাজধানী হিসেবে কার্জন গেট, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মতো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা শহরের পরিচিতি বহন করে। শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতা সংগ্রামী রাসবিহারী বসুর জন্মভূমি হওয়ায় বিপ্লবী ঐতিহ্যও এখানে শক্তিশালী। অর্থনৈতিক কাঠামো মূলত পরিষেবা খাত, ক্ষুদ্র শিল্প, টেক্সটাইল, ধাতু নির্মাণ এবং কৃষি-প্রক্রিয়াকরণের উপর নির্ভরশীল। শহরাঞ্চল হলেও চারপাশের অঞ্চল ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত-‘বাংলার ধানের পাত্র’ পরিচিতি এখান থেকেই।
পরিকাঠামো: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বড় ক্ষেত্র
হাওড়া-দিল্লি রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ জংশন বর্ধমান। এছাড়া, এনএইচ-১৯-এর নিকটবর্তী অবস্থান, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এলাকার উন্নয়ন আলোচনায় নিয়মিত উঠে আসে।
২০২৬: কোন দিকে যাবে?
বর্ধমান দক্ষিণ ২০২৬-এ প্রবল টানাপড়েনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। তৃণমূল এখানে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইবে নিজের সাংগঠনিক ভিত্তি ও উন্নয়ন-ইমেজে ভর করে। অন্যদিকে বিজেপি গত তিনটি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে ব্যবধান কমিয়েছে, এবং এখন এটাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য আসন। বাম-কংগ্রেস জোটের ক্ষেত্রেও এই আসন শহুরে বুদ্ধিজীবী ও ঐতিহ্যবাহী বাম ভোট পুনরুদ্ধারের সুযোগ এনে দিতে পারে, যদিও প্রতিযোগিতা মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপির মধ্যেই হবে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
বর্ধমান দক্ষিণ ২০২৬-এ প্রবল টানাপড়েনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। তৃণমূল এখানে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইবে নিজের সাংগঠনিক ভিত্তি ও উন্নয়ন-ইমেজে ভর করে। অন্যদিকে বিজেপি গত তিনটি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে ব্যবধান কমিয়েছে, এবং এখন এটাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য আসন। বাম-কংগ্রেস জোটের ক্ষেত্রেও এই আসন শহুরে বুদ্ধিজীবী ও ঐতিহ্যবাহী বাম ভোট পুনরুদ্ধারের সুযোগ এনে দিতে পারে, যদিও প্রতিযোগিতা মূলত তৃণমূল বনাম বিজেপির মধ্যেই হবে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
Sandip nandi
BJP
Pritha tah
CPI(M)
Nota
NOTA
Puspa hansda
BSP
Rajib paswan
NRPI
Aniruddha kundu
SUCI
Arindam ghosh
IND
Luxmi narayan kora
BMUP
Ainul haque
CPM
Samir kumar roy
IND
Prabal roy
BJP
Nota
NOTA
Md. harun
BSP
Parikshit gorain
SUCI