
এক সময়ের ফরওয়ার্ড ব্লকের দুর্গ। পরে তৃণমূলের উত্থান। আর আপাতত বিজেপির চ্যালেঞ্জ। ভোটার তালিকা সংশোধনের পর ২০২৬-এর আগে দুবরাজপুরে রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে বদলের ইঙ্গিত।
বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমার অন্তর্গত দুবরাজপুর একটি পুরসভা-স্তরের শহর। তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। দুবরাজপুর পুরসভা, দুবরাজপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং খয়রাশোল ব্লক নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। ফলে এখানে মিশ্র জনসংখ্যা থাকলেও চরিত্র মূলত গ্রামীণ। এটি বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। দীর্ঘ সময় ধরে এটি ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারণ শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে তিনটি ভিন্ন দল জয়...
এক সময়ের ফরওয়ার্ড ব্লকের দুর্গ। পরে তৃণমূলের উত্থান। আর আপাতত বিজেপির চ্যালেঞ্জ। ভোটার তালিকা সংশোধনের পর ২০২৬-এর আগে দুবরাজপুরে রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে বদলের ইঙ্গিত।
বীরভূম জেলার সিউড়ি সদর মহকুমার অন্তর্গত দুবরাজপুর একটি পুরসভা-স্তরের শহর। তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। দুবরাজপুর পুরসভা, দুবরাজপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং খয়রাশোল ব্লক নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। ফলে এখানে মিশ্র জনসংখ্যা থাকলেও চরিত্র মূলত গ্রামীণ। এটি বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা অংশের একটি। দীর্ঘ সময় ধরে এটি ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারণ শেষ তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে তিনটি ভিন্ন দল জয় পেয়েছে।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত দুবরাজপুর এখনও পর্যন্ত ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। শুরুতে এটি সাধারণ শ্রেণির আসন ছিল। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হয়। ফরওয়ার্ড ব্লক এই আসনে ১০ বার জয় পেয়েছে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা আটবার জয় তাদের দখলে ছিল। অন্য দিকে কংগ্রেস, সিপিআই(এম), তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং এক নির্দল প্রার্থী একবার করে জয়ী হয়েছে।
২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক দশমবারের মতো জেতে। তাদের প্রার্থী বিজয় বাগদি তৃণমূল কংগ্রেসের সন্তোষী সাহাকে ২,৭১৩ ভোটে হারান। এরপর পরপর তিনবার পরাজয়ের পর ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস জয় পায়। তাদের প্রার্থী চন্দ্র নরেশ বাউরি ফরওয়ার্ড ব্লকের তৎকালীন বিধায়ক বাগদিকে ৩৯,৮৯৪ ভোটে পরাস্ত করেন। তবে সেই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২১ সালে বিজেপির অনুপ কুমার সাহা তৃণমূলের দেবব্রত সাহাকে ৩,৮৬৩ ভোটে হারিয়ে আসনটি দখল করেন। ২০১৬ সালের তুলনায় বিজেপির ভোট শতাংশ ৩৪.০৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। তৃণমূল কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লকের ভোট শতাংশ যথাক্রমে ৫.৬৭ শতাংশ এবং ২৬.৯০ শতাংশ কমে যায়।
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলও ভোটারদের আনুগত্যের পরিবর্তন দেখায়। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম) তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে ৮,৪৪৫ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে পরিস্থিতি বদলে তৃণমূল সিপিআই(এম)-এর থেকে ৭,৮৯৩ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে বিজেপি তৃণমূল ও বামফ্রন্টকে পিছনে ফেলে ১৪,৫১২ ভোটে লিড নেয়। ২০২৪ সালে আবার তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির থেকে ১৮,২৮০ ভোটে এগিয়ে যায়।
২০২৫ সালের এসআইআর প্রক্রিয়ার পরে দুবরাজপুরে ভোটার সংখ্যা ১৫,০৮৫ কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির খসড়া তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ২,৩৭,৩২২। ২০২৪ সালে ছিল ২,৫২,৪০৭, ২০২১ সালে ২,৪১,৭৪২, ২০১৯ সালে ২,৩০,৯৩৩, ২০১৬ সালে ২,১৬,৩৭০ এবং ২০১১ সালে ১,৮১,৯৯৯। তফসিলি জাতি ভোটার সবচেয়ে বেশি; ৩৪.৩০ শতাংশ। তফসিলি জনজাতি ৩ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার ২৫.৮০ শতাংশ। মাত্র ১২.৪৪ শতাংশ ভোটার শহরে বাস করেন, বাকি ৮৭.৫৬ শতাংশ গ্রামে। ভোটদানের হারও স্থিতিশীল। ২০১১ সালে ৮৬.৮০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৪.৩০ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৭৫ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৪.৭৫ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮২.৪৮ শতাংশ।
দুবরাজপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। কাছেই মামা-ভাগনে পাহাড়ের প্রাকৃতিক শিলা গঠন এবং বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ উল্লেখযোগ্য। রাঢ় অঞ্চলে এই শহর প্রশাসনিক ও বাজারকেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে। ভূপ্রকৃতিগত ভাবে দুবরাজপুর বীরভূম জেলার উত্তর-পূর্ব অংশে ছোটনাগপুর মালভূমির সম্প্রসারণ ও গঙ্গা পলিমাটির সমভূমির সংযোগস্থলে অবস্থিত। পশ্চিমে লাল ল্যাটেরাইট মাটির ঢেউখেলানো জমি পূর্ব দিকে উর্বর পলিমাটির নিম্নভূমির সঙ্গে মিশেছে। অজয় নদ দক্ষিণে এবং ময়ূরাক্ষী উত্তরে প্রবাহিত। বক্রেশ্বর ও ব্রাহ্মণী নদীর উপনদী ও সেচ খাল কৃষিকে প্রভাবিত করে।
ধান, পাট, আলু, সবজি ও তেলবীজ প্রধান ফসল। পুরসভা এলাকায় কিছু গ্রামীণ শিল্প ও বাণিজ্য রয়েছে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও বাজারের মতো পরিষেবা রয়েছে। রাজ্য সড়কের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ ভালো। আন্দাল-সাঁইথিয়া শাখা লাইনে দুবরাজপুর রেলস্টেশন রয়েছে। সেখান থেকে সিউড়ি, বোলপুর, হাওড়া ও কলকাতার যাওয়া যায়। দুবরাজপুর থেকে সিউড়ি ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে, বোলপুর ৪০-৪৫ কিলোমিটার, সাঁইথিয়া ৩০ কিলোমিটার, রামপুরহাট ৫০ কিলোমিটার, লাভপুর ৩৫ কিলোমিটার এবং কলকাতা ২০০-২২০ কিলোমিটার দূরে। জেলার অন্য শহরগুলির মধ্যে রয়েছে মহম্মদবাজার ও ইলামবাজার। ঝাড়খণ্ডের দুমকা প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে। বিহারের অঞ্চল উত্তর দিকে এবং ওড়িশা দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। গঙ্গা সমভূমি পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ১০০-১২০ কিলোমিটার পূর্বে।
তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলে তৃণমূলের ২০২৪ সালের রেজাল্ট রিপিট না-ও হতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুবরাজপুরে ফলাফল কোন দিকে যাবে, তা অনিশ্চিতই বলা যেতে পারে।
Debabrata saha
AITC
Bijoy bagdi
AIFB
Nota
NOTA
Sanjay das
BMUP
Bhaskar das
BSP
Bijoy bagdi
AIFB
Ramprasad das
BJP
Nota
NOTA
Khagen das
BMUP
Biswanath bauri
IND