
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শিল্পোন্নত শহর দুর্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্গাপুর পূর্ব। এটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র এবং বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। দুর্গাপুর পৌর নিগমের মোট ১৬টি ওয়ার্ড, ১ থেকে ১০ এবং ২৩ থেকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই নির্বাচনী এলাকা গঠিত।
ইতিহাস ও নগরায়ণের পথচলা
দুর্গাপুরের ইতিহাসের শিকড় প্রাগৈতিহাসিক যুগে বিস্তৃত। দামোদর নদীর তীরবর্তী এই অঞ্চল মধ্যপ্রস্তর যুগে জনবসতিপূর্ণ ছিল, আজও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে তার প্রমাণ মেলে। তবে আধুনিক দুর্গাপুরের রূপান্তর ঘটে ১৯৫০-এর দশকে, দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে। যুক্তরাজ্যের সহযোগিতায় গ...
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শিল্পোন্নত শহর দুর্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্গাপুর পূর্ব। এটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার একটি সাধারণ বিধানসভা কেন্দ্র এবং বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি। দুর্গাপুর পৌর নিগমের মোট ১৬টি ওয়ার্ড, ১ থেকে ১০ এবং ২৩ থেকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই নির্বাচনী এলাকা গঠিত।
ইতিহাস ও নগরায়ণের পথচলা
দুর্গাপুরের ইতিহাসের শিকড় প্রাগৈতিহাসিক যুগে বিস্তৃত। দামোদর নদীর তীরবর্তী এই অঞ্চল মধ্যপ্রস্তর যুগে জনবসতিপূর্ণ ছিল, আজও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে তার প্রমাণ মেলে। তবে আধুনিক দুর্গাপুরের রূপান্তর ঘটে ১৯৫০-এর দশকে, দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে। যুক্তরাজ্যের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই কারখানাই শহরের শিল্পভিত্তি গড়ে তোলে। পরিকল্পিত আবাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুসংগঠিত শিল্পাঞ্চলের ফলে দুর্গাপুর পরিচিতি পায় ‘বাংলার ইস্পাত নগরী’ হিসেবে।
নির্বাচনী আসনের বিবর্তন
দুর্গাপুর বিধানসভা আসন প্রথম গঠিত হয় ১৯৬২ সালে। প্রাথমিক পর্বে, ১৯৭২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি জয়লাভ করে, আর ১৯৬২ ও ১৯৭২ সালে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর-২ বিধানসভা এলাকায় বামফ্রন্টের প্রাধান্য ছিল, এই সময়ে সিপিআই(এম) পাঁচবার এবং সিপিআই একবার জয় পায়। ২০০৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস এই ধারায় ছেদ টানে। পরবর্তীতে ২০১১ সালের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে দুর্গাপুর পূর্ব ও দুর্গাপুর পশ্চিম, এই দুই নতুন আসনের জন্ম হয়। ২০১১-এর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ ২০১১ সাল থেকে দুর্গাপুর পূর্বে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই দেখা যায়। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের নিখিল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিআই(এম)-এর আলপনা চৌধুরীকে ৮,৫৬৬ ভোটে হারান। ২০১৬ সালে সিপিআই(এম) প্রার্থী সন্তোষ দেবরায় ৯,১৩১ ভোটে জিতে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফেরে, তাদের প্রার্থী মাত্র ৩,৭৪৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে বিজেপি দ্বিতীয় ও সিপিআই(এম) তৃতীয় স্থানে থাকে।
লোকসভা ফলাফলের প্রতিফলন সংসদীয় নির্বাচনের ফলও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবি স্পষ্ট করে। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম)-এর থেকে ১,২৩৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৯ সালে বিজেপি বড় লিড নিয়ে এগিয়ে যায়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ২৬,৫৯১ ভোটে। ২০২৪ সালে ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে আসে, তৃণমূল বিজেপির থেকে মাত্র ১,৬৯৩ ভোটে এগিয়ে থাকে।
ভোটার চিত্র ও সামাজিক গঠন
২০২৪ সালে দুর্গাপুর পূর্বে মোট নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৬৪,০০৭ জন, যা আগের দুই নির্বাচনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তফসিলি জাতি ভোটাররা সবচেয়ে বড় অংশ, ২০.৯৫ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ৫.২০ শতাংশ এবং তফসিলি উপজাতি ৩.৮৮ শতাংশ। এই আসন মূলত শহরাঞ্চলীয়, প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোটার শহরে বসবাস করেন, গ্রামাঞ্চলের হার মাত্র ১৫.৯৯ শতাংশ। তবে ভোটদানের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে, ২০১১ সালে ৮৫.৪৫ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে তা নেমে আসে ৭৫.১১ শতাংশে।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
দামোদর নদী শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবাহিত, যা শিল্প, আবাসন ও কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ জোগায়। পলিমাটির সমতল ভূখণ্ড দুর্গাপুরকে শিল্পায়নের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী করেছে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা, অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট, কেমিক্যালস, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প এই অঞ্চলের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। শহরের নাগরিক পরিকাঠামোর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত আবাসন, নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সৃজনী অডিটোরিয়াম, সিটি সেন্টারের বাণিজ্যিক এলাকা, দুর্গাপুর রেলস্টেশন ও নেহেরু পার্কের মতো সবুজ উদ্যান।
২০২৬-এর দিকেই নজর
২০১৯ সাল থেকে বিজেপি দুর্গাপুর পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে। জয়ের ব্যবধান ক্রমশ কমে আসায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট উপস্থিত থাকলেও বড় ধরনের পুনরুত্থান না ঘটলে তাদের ভূমিকা নির্ণায়ক হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিজেপি এই শিল্পাঞ্চলে প্রথমবার জয় পেতে ভোটদানে অনাগ্রহী অংশকে একত্রিত করার কৌশল নেবে, আর তৃণমূল চেষ্টা করবে তাদের সামান্য লিড ধরে রাখতে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুর পূর্ব ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম নজরকাড়া রাজনৈতিক মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে।
Colonel diptansu chaudhury
BJP
Abhas ray chaudhuri
CPI(M)
Nota
NOTA
Dipak dhali
IND
Md. shoukat ali khan
IND
Suresh prasad
BSP
Jugal krishna pakhira
SUCI
Bijoy laxmi pandey
RPPRINAT
Amal chakraborty
AMB
Pradip mazumdar
AITC
Akhil mondal
BJP
Nota
NOTA
Asit baran mondal
SUCI
Sukamal saha
IND
Aniruddha chatterjee
IND