
ভোটার তালিকায় কাটছাঁট। রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন। গ্রামবাংলার মনোভাব। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ৩ ক্যাটালিস্টেই খেলা ঘুরতে পারে গলসিতে। এবার সেখানে হাওয়া কোনদিকে? জানব। তার আগে গলসির 'অ্যানাটমি' একটু বুঝে নেওয়া যাক। পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার অন্তর্গত ব্লক-স্তরের শহর গলসি। তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। এই কেন্দ্রের গলসি-১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, গলসি-২ ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কাঁকসা ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত। মূলত গ্রামীণ এলাকা।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮টি বিধানসভা নির্বাচনে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। প্রথম দুই দশক...
ভোটার তালিকায় কাটছাঁট। রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন। গ্রামবাংলার মনোভাব। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ৩ ক্যাটালিস্টেই খেলা ঘুরতে পারে গলসিতে। এবার সেখানে হাওয়া কোনদিকে? জানব। তার আগে গলসির 'অ্যানাটমি' একটু বুঝে নেওয়া যাক। পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার অন্তর্গত ব্লক-স্তরের শহর গলসি। তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। এই কেন্দ্রের গলসি-১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, গলসি-২ ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কাঁকসা ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত। মূলত গ্রামীণ এলাকা।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮টি বিধানসভা নির্বাচনে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। প্রথম দুই দশকে মিশ্র ফল হলেও পরে গলসি দীর্ঘ সময় ধরে বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়। চার দশকেরও বেশি সময় সেই আধিপত্য বজায় ছিল। পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে নিজেদের শক্ত জমি তৈরি করে। বর্তমানে সেই আধিপত্যকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বিজেপি।
১৯৫১ ও ১৯৫৭ সালে গলসি ছিল দ্বি-সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে কংগ্রেস দু'টি আসনই জেতে। ১৯৫৭ সালে একটি আসন নির্দল প্রার্থী এবং অন্যটি মার্ক্সবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক পায়। পরবর্তী সময়ে বামফ্রন্ট টানা ১০ বার এই আসন জেতে। এর মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লকের সাতটি এবং সিপিআই(এম)-এর তিনটি জয় রয়েছে। নির্দল প্রার্থী ফকিরচন্দ্র রায় তিনবার জয়ী হন। তৃণমূল কংগ্রেসও তিনবার জিতেছে। কংগ্রেস দু'টি আসনে জেতে। ১৯৫১ সালে দু'টি আসন এবং ১৯৬২ সালে একটি।
২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের সুনীল কুমার মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেসের জয়দেব সাহাকে ১০,৮৫৪ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। আর তারপরেই ২০১৪ সালে উপনির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডল ফরওয়ার্ড ব্লকের নন্দলাল পণ্ডিতকে ৮,৮৫৩ ভোটে হারিয়ে জেতেন। সুনীল কুমার মণ্ডলকে তৃণমূল কংগ্রেস ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে। সেবার তিনি জিতেছিলেন। উপনির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস পরবর্তী দু'টি বিধানসভা নির্বাচনেও ঘাঁটি ধরে রাখে। ২০১৬ সালে অলোক কুমার মাজি নন্দলাল পণ্ডিতকে ১০,৭৭১ ভোটে হারান। ২০২১ সালে নেপাল ঘরুই বিজেপির বিকাশ বিশ্বাসকে ১৯,২৬২ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ভোটের প্রবণতা গলসি বিধানসভা অংশে ভোটারদের পরিবর্তিত মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম) কংগ্রেসকে ২৯,৮৮৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস অল্প ব্যবধানে; ১,৯২৪ ভোটে সিপিআই(এম)কে পিছনে ফেলে দেয়। ২০১৯ সালে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ৯,৬২১ ভোটের লিড পায়। ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস আবার বিজেপির কাছ থেকে ২০,৭৫৪ ভোটে লিড ছিনিয়ে নেয়।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী গলসি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২,৩১,৮৭৩। ২০২৪ সালে যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৬৩,৭৮৫, সেখানে ৩১,৯১২ ভোট কমেছে। এর আগে যদিও এখানে ক্রমেই ভোটার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছিল। ২০২১ সালে ভোটার ছিল ২,৫৬,৬৪২, ২০১৯ সালে ২,৪৯,৪৭৯, ২০১৬ সালে ২,৩৬,৮৪৭ এবং ২০১১ সালে ২,০৪,৫৮৯।
সংরক্ষিত কেন্দ্র। এখানে তফসিলি জাতির ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ৩৪.১৬ শতাংশ। তফসিলি উপজাতির ভোটার ৬.২৭ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ২৩ শতাংশ। মোট ভোটারের ৮০.৬৩ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন এবং ১৯.৩৭ শতাংশ শহরাঞ্চলে। ভোটদানের হারও বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৮৯.০২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.৫৬ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৭৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৬.৭২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
SIR পরবর্তী খসড়া ভোটার তালিকার দিকেই এখন তাকিয়ে সকলে। চূড়ান্ত তালিকায় যদি প্রচুর নাম বাদ যায়, সেক্ষেত্রে গলসি কেন্দ্রে নির্বাচনের ফলাফলে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। কেন? কারণ খসড়ায় বাদ পড়া নামের সংখ্যা ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজেপির বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। আরও একটি জল্পনা ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় তুলনামূলক বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থায়ী ভোটার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গলসি কেন্দ্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট এক অঙ্কের ভোটে সীমাবদ্ধ থাকায় তাদের ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অ্যাডভান্টেজে খেলতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার। ভোটার তালিকার বড় কাটছাঁট। রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন। গ্রামবাংলার মনোভাব। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ৩ ক্যাটালিস্টেই খেলা ঘুরতে পারে গলসিতে। এবার সেখানে হাওয়া কোনদিকে? জানব। তার আগে গলসির 'অ্যানাটমি' একটু বুঝে নেওয়া যাক।
পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার অন্তর্গত ব্লক-স্তরের শহর গলসি। তফসিলি জাতি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র। এটি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের একটি অংশ। এই কেন্দ্রের গলসি-১ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক, গলসি-২ ব্লকের দু'টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কাঁকসা ব্লকের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত। মূলত গ্রামীণ এলাকা।
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮টি বিধানসভা নির্বাচনে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের উপনির্বাচনও রয়েছে। প্রথম দুই দশকে মিশ্র ফল হলেও পরে গলসি দীর্ঘ সময় ধরে বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়। চার দশকেরও বেশি সময় সেই আধিপত্য বজায় ছিল। পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে নিজেদের শক্ত জমি তৈরি করে। বর্তমানে সেই আধিপত্যকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বিজেপি।
১৯৫১ ও ১৯৫৭ সালে গলসি ছিল দ্বি-সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে কংগ্রেস দু'টি আসনই জেতে। ১৯৫৭ সালে একটি আসন নির্দল প্রার্থী এবং অন্যটি মার্ক্সবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক পায়। পরবর্তী সময়ে বামফ্রন্ট টানা ১০ বার এই আসন জেতে। এর মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লকের সাতটি এবং সিপিআই(এম)-এর তিনটি জয় রয়েছে। নির্দল প্রার্থী ফকিরচন্দ্র রায় তিনবার জয়ী হন। তৃণমূল কংগ্রেসও তিনবার জিতেছে। কংগ্রেস দু'টি আসনে জেতে। ১৯৫১ সালে দু'টি আসন এবং ১৯৬২ সালে একটি।
২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের সুনীল কুমার মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেসের জয়দেব সাহাকে ১০,৮৫৪ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। আর তারপরেই ২০১৪ সালে উপনির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডল ফরওয়ার্ড ব্লকের নন্দলাল পণ্ডিতকে ৮,৮৫৩ ভোটে হারিয়ে জেতেন। সুনীল কুমার মণ্ডলকে তৃণমূল কংগ্রেস ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে। সেবার তিনি জিতেছিলেন। উপনির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস পরবর্তী দু'টি বিধানসভা নির্বাচনেও ঘাঁটি ধরে রাখে। ২০১৬ সালে অলোক কুমার মাজি নন্দলাল পণ্ডিতকে ১০,৭৭১ ভোটে হারান। ২০২১ সালে নেপাল ঘরুই বিজেপির বিকাশ বিশ্বাসকে ১৯,২৬২ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনের ভোটের প্রবণতা গলসি বিধানসভা অংশে ভোটারদের পরিবর্তিত মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম) কংগ্রেসকে ২৯,৮৮৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস অল্প ব্যবধানে; ১,৯২৪ ভোটে সিপিআই(এম)কে পিছনে ফেলে দেয়। ২০১৯ সালে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ৯,৬২১ ভোটের লিড পায়। ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস আবার বিজেপির কাছ থেকে ২০,৭৫৪ ভোটে লিড ছিনিয়ে নেয়।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী গলসি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২,৩১,৮৭৩। ২০২৪ সালে যেখানে
ভোটার সংখ্যা ছিল ২,৬৩,৭৮৫, সেখানে ৩১,৯১২ ভোট কমেছে। এর আগে যদিও এখানে ক্রমেই ভোটার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছিল। ২০২১ সালে ভোটার ছিল ২,৫৬,৬৪২, ২০১৯ সালে ২,৪৯,৪৭৯, ২০১৬ সালে ২,৩৬,৮৪৭ এবং ২০১১ সালে ২,০৪,৫৮৯।
সংরক্ষিত কেন্দ্র। এখানে তফসিলি জাতির ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ৩৪.১৬ শতাংশ। তফসিলি উপজাতির ভোটার ৬.২৭ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ২৩ শতাংশ। মোট ভোটারের ৮০.৬৩ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন এবং ১৯.৩৭ শতাংশ শহরাঞ্চলে। ভোটদানের হারও বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে ৮৯.০২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৬.৫৬ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৪.৭৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮৬.৭২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
SIR পরবর্তী খসড়া ভোটার তালিকার দিকেই এখন তাকিয়ে সকলে। চূড়ান্ত তালিকায় যদি প্রচুর নাম বাদ যায়, সেক্ষেত্রে গলসি কেন্দ্রে নির্বাচনের ফলাফলে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। কেন? কারণ খসড়ায় বাদ পড়া নামের সংখ্যা ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজেপির বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। আরও একটি জল্পনা ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় তুলনামূলক বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থায়ী ভোটার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গলসি কেন্দ্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট এক অঙ্কের ভোটে সীমাবদ্ধ থাকায় তাদের ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অ্যাডভান্টেজে খেলতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার।
Bikash biswas
BJP
Nandalal pondit
AIFB
Sandip sarkar
BSP
Nota
NOTA
Nandalal pondit
AIFB
Sundar paswan
BJP
Nota
NOTA