
এককালের বাম দুর্গ। সেই রায়নাতেই এখন ঘাসফুলের একচ্ছত্র দাপট। দীর্ঘ দিনের বাম আধিপত্য ধীরে ধীরে ভেঙে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেভাবে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। ফলে ২০২৬ এর আগেও রায়না কার্যত তৃণমূলেরই শক্ত ঘাঁটি বলে ধরা হচ্ছে।
রায়না বিধানসভা কেন্দ্র রায়না, যা রায়না বা রায়নাগর নামেও পরিচিত, পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমার একটি ব্লক এলাকা। প্রশাসনিক ভাবে এটি একটি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক। ১৯৫১ সালে প্রথম গঠনের সময় রায়না জোড়া আসন বিশিষ্ট সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র ছিল। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই কেন্দ্র তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হয়।
লোকসভা মানচিত্র অনুযায়ী রায়...
এককালের বাম দুর্গ। সেই রায়নাতেই এখন ঘাসফুলের একচ্ছত্র দাপট। দীর্ঘ দিনের বাম আধিপত্য ধীরে ধীরে ভেঙে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেভাবে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। ফলে ২০২৬ এর আগেও রায়না কার্যত তৃণমূলেরই শক্ত ঘাঁটি বলে ধরা হচ্ছে।
রায়না বিধানসভা কেন্দ্র রায়না, যা রায়না বা রায়নাগর নামেও পরিচিত, পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমার একটি ব্লক এলাকা। প্রশাসনিক ভাবে এটি একটি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লক। ১৯৫১ সালে প্রথম গঠনের সময় রায়না জোড়া আসন বিশিষ্ট সাধারণ শ্রেণির বিধানসভা কেন্দ্র ছিল। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই কেন্দ্র তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হয়।
লোকসভা মানচিত্র অনুযায়ী রায়না বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্যতম। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সম্পূর্ণ রায়না-২ ব্লকই পড়ছে। পাশাপাশি রায়না-১ ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতও এর মধ্যে পড়ে। গোটা কেন্দ্রটাই প্রায় সম্পূর্ণ গ্রামীণ। শহুরে চরিত্র এখানে কার্যত অনুপস্থিত।
এখনও পর্যন্ত হওয়া ১৭টি বিধানসভা নির্বাচনের সবকটিতেই রায়নায় ভোট হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই কেন্দ্রে সিপিএমের দাপট ছিল। মোট ১০ বার জিতেছে তারা। তার মধ্যে ১৯৭৭ থেকে ২০১১; টানা আটটি বিধানসভা নির্বাচন জিতে নজির গড়ে বামফ্রন্ট। ১৯৫১ সালের প্রথম নির্বাচনে কৃষক মজদুর প্রজা পার্টি জোড়া আসনেই জয় পায়। ১৯৫৭ সালে প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি দু’টি আসনই দখল করে। কংগ্রেস জিতেছে দু’বার। শেষ বার কংগ্রেসের জয় আসে ১৯৭২ সালে। তার পরে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় এই কেন্দ্রে আর কংগ্রেসের মুখ দেখা যায়নি।
২০১৬ সালে প্রথম বড় বদল। দীর্ঘ সিপিএম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রায়না দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। তার পর থেকে টানা দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে তারা।
২০১১ সালে, তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে সিপিএমের বাসুদেব খান জয়ী হন। তিনি তৃণমূলের নেপাল ঘোড়ুইকে হারান ১২,২২১ ভোটে। পাঁচ বছর পর ছবিটা বদলায়। ২০১৬ সালে নেপাল ঘোড়ুই অল্প ব্যবধানে, মাত্র ৪৪৮ ভোটে হারান বাসুদেব খানকে। সেখানেই ভাঙে বামেদের দীর্ঘ জয়ের ধারা।
২০২১ সালে তৃণমূল নতুন মুখ শম্পা ধরাকে প্রার্থী করে। সেই বাজি কার্যত একপেশে হয়। বিজেপির মণিক রায়কে তিনি হারান ১৮,২০৫ ভোটে। ওই নির্বাচনে সিপিএমের বাসুদেব খান তৃতীয় স্থানে নেমে যান। তাঁর ভোটের হার ছিল মাত্র ১১.০৬ শতাংশ। বিজেপি পায় ৩৯.৫৫ শতাংশ ভোট। তৃণমূলের ঝুলিতে যায় ৪৭.৪৬ শতাংশ ভোট।
লোকসভা নির্বাচনের ফলও রায়নার রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকটাই স্পষ্ট করে। ২০০৯ সালে এই বিধানসভা অংশে সিপিএম তৃণমূলের থেকে ৩৯,৪৭২ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে অবশ্য পুরো খেলা ঘুরিয়ে দেয় তৃণমূল। সিপিএম এর থেকে তারা ৫,০০৮ ভোটে এগিয়ে যায়। ২০১৯ সালে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। সে বার তৃণমূলের লিড ছিল ৫৪,৮৪৯ ভোটের। ২০২৪ সালে ব্যবধান কিছুটা কমে। তবু বিজেপির উপর তৃণমূলের ৪৩,৫৬৫ ভোটের লিড ছিল।
ভোটার সংখ্যাও ক্রমশ বেড়েছে। ২০১১ সালে রায়নায় ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৯ হাজার ৭৩৪ জন। ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ২৪৭। ২০১৯ সালে হয় ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৫৬। ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭৪২। ২০২৪ সালে নথিভুক্ত ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯০৬।
এই তফসিলি জাতি সংরক্ষিত কেন্দ্রে এসসি ভোটার ৩৭.১৩ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার ৫.১১ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ২৩.৯০ শতাংশ। গ্রামেই থাকেন ৯৭.৫০ শতাংশ ভোটার। শহুরে ভোটার মাত্র ২.৫০ শতাংশ। ভোটদানের হার বরাবরই বেশি। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৯২.২৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে ৮৭.৭২ শতাংশ। ২০২১ সালে ৮৮.৬৭ শতাংশ। লোকসভা নির্বাচনে ভোট কিছুটা কম। ২০১৯ সালে ছিল ৮৬.২৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে নেমে আসে ৮৪.৬৯ শতাংশে।
ভৌগোলিক ভাবে রায়না দামোদর নদের দক্ষিণে পললভূমির উপর অবস্থিত। পূর্ব বর্ধমান জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে এই এলাকা। জমি সমতল ও উর্বর। উত্তরে ও পূর্বে দামোদর। আরও দক্ষিণে দ্বারকেশ্বর। নদীর পলিমাটি কৃষিকাজের পক্ষে অনুকূল। তবে দামোদরের উঁচু নদীতল বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। কোথাও কোথাও বাঁধ থাকলেও জলনিকাশের সমস্যা তৈরি হয়।
অর্থনীতির মূল ভরসা কৃষি। ধান প্রধান ফসল। পাশাপাশি আলু, ডাল, তেলবীজ ও সব্জি চাষ হয়। নলকূপ ও সেচ প্রকল্পের উপর নির্ভর করেন চাষিরা। অনেকেই কৃষিশ্রমিক। পুকুর ও খালে মাছচাষ হয়। গ্রামীণ শিল্প, ছোটখাটো ব্যবসা এবং পাশের শহরে দিনমজুরির কাজও আয়ের উৎস।
যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো। বর্ধমান শহর, অর্থাৎ জেলা সদর, রায়না থেকে ১৯ থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে। কলকাতা প্রায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পূর্বে। নিকটতম রেল স্টেশন মেমারি বা বর্ধমান। দু’টিই হাওড়া-বর্ধমান প্রধান লাইনের উপর। মেমারি প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। হুগলির আরামবাগ ২৪ কিলোমিটার। তারকেশ্বর ২৬ কিলোমিটার। জামালপুর ১১ কিলোমিটার। শ্যামসুন্দর মাত্র ৫-৬ কিলোমিটার দূরে। দুর্গাপুর প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। আসানসোল প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ওপারে থাকা শহরগুলি ৮০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রায়নায় তৃণমূলের সামনে বড় কোনও চ্যালেঞ্জ আপাতত নেই। বাম-কংগ্রেস জোট কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও ভোটের ব্যবধানে এখনও অনেক পিছিয়ে। বিধানসভা ও লোকসভা; দু’ক্ষেত্রেই আরামদায়ক ব্যবধান ধরে রেখেছে তৃণমূল। ফলে ২০২৬-এর ভোটে রায়নায় তৃতীয় বার জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে ঘাসফুলই ফেভারিট।
Manik roy
BJP
Basudeb khan
CPI(M)
Pallab biswas
BSP
Nota
NOTA
Rabi routh
BMUP
Khan basudeb
CPM
Kashinath patra
BJP
Nota
NOTA