
সিউড়ি। বীরভূম জেলার সাধারণ বিধানসভা। ১৯৫১ সাল থেকে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রের অংশ।চিরাচরিতভাবে কংগ্রেস ও সিপিএমের লড়াই দেখা যেত সিউড়িতে। তবে ২০১১ সাল থেকে এই আসন ধরে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এককালের বাম-কংগ্রেস এখানে এখন প্রধান বিরোধীও নয়! গত কয়েকটি নির্বাচনে এখানে বিরোধী পরিসরের দখল করেছে বিজেপি।
বীরভূম লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম সিউড়ি। শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস দল চারবার, সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট) দু'বার এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি একবার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিপিএম চারবার এবং কংগ্রেস তিনবার জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যা...
সিউড়ি। বীরভূম জেলার সাধারণ বিধানসভা। ১৯৫১ সাল থেকে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রের অংশ।চিরাচরিতভাবে কংগ্রেস ও সিপিএমের লড়াই দেখা যেত সিউড়িতে। তবে ২০১১ সাল থেকে এই আসন ধরে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এককালের বাম-কংগ্রেস এখানে এখন প্রধান বিরোধীও নয়! গত কয়েকটি নির্বাচনে এখানে বিরোধী পরিসরের দখল করেছে বিজেপি।
বীরভূম লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম সিউড়ি। শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ১৭টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস দল চারবার, সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট) দু'বার এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি একবার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিপিএম চারবার এবং কংগ্রেস তিনবার জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর থেকে তৃণমূলের গড়। তিনটি নির্বাচনেই জিতেছে তারা।
প্রধানত গ্রামীণ এলাকা। ৭০.০৫% ভোটার গ্রামে থাকেন। বাকি ২৯.৯৫% শহুরে এলাকায় বাস করেন। ২০২১ সালে সিউড়িতে ২,৬৩,৫৫৭ জন ভোটার ছিল। যা ২০২৪ সালে বেড়ে ২,৭২,৪৩৯ হয়েছে। ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে তফসিলি জাতি ৩১.২৫%, তফসিলি উপজাতি ৮.৪৬% এবং মুসলিম ২৩.৯০%।ভোটদানের হার ধারাবাহিকভাবে ৮০ শতাংশের বেশি। ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ৮৫.৯৪ শতাংশে পৌঁছেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কমে ৮২.৬১ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে শেষ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৩.৬২%।
২০১১ সাল থেকে প্রতিটি প্রধান দল আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। ২০১১ সালে সিপিএমের আব্দুল গফুরকে ১৯,১১৭ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের স্বপন কান্তি ঘোষ। বিজেপির পার্থপ্রতিম দে মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন। ২০১৬ সালে সিপিএমের রামচন্দ্র ডোমকে ৩১,৮০৮ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূলের অশোক কুমার চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির জয় বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ১৬.২৮ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালে তৃণমূলের বিকাশ রায় চৌধুরী আসনটি ধরে রাখেন। তবে বিজেপির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৭,৩২০ ভোট। তৃণমূলের ৪৮.৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বিজেপি ৪৫.৫০ শতাংশ ভোট। বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেসের চঞ্চল চট্টোপাধ্যায় মাত্র ৩.৮০ শতাংশ ভোট পান।
সিউড়িতে বিজেপির উত্থান লোকসভা নির্বাচনেও প্রতিফলিত হয়েছে। ২০১৯ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে ৯,১৩১ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। ২০২৪ সালে তৃণমূল সেই ফল উল্টে দিয়ে ১২,৪৯৯ ভোটে এগিয়ে যায়।একটা সময় এখানে প্রভাবশালী ছিল বাম ও কংগ্রেস। ২০২৪ সালে তারা জোট করে পেয়েছিল মাত্র ৬.৫২ শতাংশ ভোট।
সিউড়ি ছোটনাগপুর মালভূমির বর্ধিত অংশে অবস্থিত। এখানকার ভূমি ঢেউখেলানো ও ল্যাটেরাইট সমৃদ্ধ। কিছু বনাঞ্চল ও আবাদি জমি রয়েছে। কাছাকাছি ময়ূরাক্ষী নদী। শহরের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৩ কিমি দূরে অবস্থিত তিলপাড়া ব্যারেজ সেচ ও জল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যান্য নদীর মধ্যে বক্রেশ্বর ও অজয় অন্যতম। এখনকার অর্থনীতি কৃষি, বাণিজ্য এবং ক্ষুদ্র শিল্পের উপর নির্ভরশীল।চালকল, তুলা ও রেশম বুনন এবং আসবাবপত্র তৈরি হয়। সিউড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও শিক্ষা কেন্দ্র।
পানাগড়-মোরগ্রাম হাইওয়ে দিয়ে যুক্ত। পূর্ব রেলের অন্ডাল-সাঁইথিয়া শাখা লাইনে অবস্থিত।শহরটি কলকাতা থেকে ২২০ কিমি দূরে। দুর্গাপুর থেকে ৯০ কিমি, বোলপুর-শান্তিনিকেতন থেকে ৩৪ কিমি, অন্ডাল থেকে ৫৫ কিমি এবং সাঁইথিয়া থেকে ১৯ কিমি দূরে। ঝাড়খণ্ডের পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর মধ্যে দুমকা প্রায় ৮০ কিমি দূরে। প্রায় ১১০ কিমি দূরে দেওঘর।
ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটিশরা বীরভূমের জেলা সদর করার আগে সিউড়ি একটি ছোট গ্রাম ছিল। সম্ভবত কৌশলগত অবস্থান এবং যোগাযোগের কারণে এটি বেছে নেওয়া হয়েছিল। মনে করা হয় যে এর নাম বাংলা শব্দ 'শুঁড়ি' থেকে এসেছে। মদ বিক্রেতাদের বলা হয়। জেমস রেনেলের ১৭৭৯ সালের মানচিত্রে সিউড়ির নাম দেখা যায়। এর প্রাথমিক প্রশাসনিক গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিউড়ি নিয়ে আগে থেকে কোনও পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির টক্কর।
Chattopadhyay jagannath
BJP
Chanchal chatterjee
INC
Nitai ankur
SUCI
Nota
NOTA
Khurshid alam
BSP
Dhananjoy mazumdar
IND
Dr. ram chandra dome
CPM
Joy banerjee
BJP
Nota
NOTA
Sunil soren
IND
Swadhin dului
SUCI