
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শিল্পনগরী দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার একটি সাধারণ আসন। এটি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত সাতটি বিধানসভা আসনের একটি। দুর্গাপুর পৌর নিগমের মোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। এর মধ্যে ১১ থেকে ২২ এবং ২৯ থেকে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড পড়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের অন্তর্গত।
ইতিহাস ও বিকাশ
দুর্গাপুর এলাকার ইতিহাসের শিকড় গেঁথে রয়েছে দামোদর নদীর তীরে প্রাগৈতিহাসিক বসতিতে। আজও বিভিন্ন স্থানে মধ্য প্রস্তর যুগের নিদর্শন মিলেছে। তবে শহরের আমূল পরিবর্তন ঘটে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি, ভারতের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা চালু হওয়ার পর। এই রাষ্ট্রায়ত...
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শিল্পনগরী দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার একটি সাধারণ আসন। এটি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত সাতটি বিধানসভা আসনের একটি। দুর্গাপুর পৌর নিগমের মোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে এই কেন্দ্র গঠিত। এর মধ্যে ১১ থেকে ২২ এবং ২৯ থেকে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড পড়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের অন্তর্গত।
ইতিহাস ও বিকাশ
দুর্গাপুর এলাকার ইতিহাসের শিকড় গেঁথে রয়েছে দামোদর নদীর তীরে প্রাগৈতিহাসিক বসতিতে। আজও বিভিন্ন স্থানে মধ্য প্রস্তর যুগের নিদর্শন মিলেছে। তবে শহরের আমূল পরিবর্তন ঘটে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি, ভারতের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময় দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা চালু হওয়ার পর। এই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানই দুর্গাপুরকে গড়ে তোলে একটি পরিকল্পিত শিল্পশহর হিসেবে, আবাসন এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিস্তৃত শিল্পাঞ্চল মিলিয়ে দুর্গাপুর পরিচিতি পায় ‘বাংলার ইস্পাত নগরী’ হিসেবে।
নির্বাচনী আসনের বিবর্তন
এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসও শহরের বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়েছে। ১৯৬২ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত একীভূত দুর্গাপুর বিধানসভা আসনে মোট পাঁচটি নির্বাচন হয়। এর মধ্যে ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭১ সালে সিপিআই জয়ী হয়, আর ১৯৬২ ও ১৯৭২ সালে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এলাকা ভাগ হয় দুর্গাপুর-১ ও দুর্গাপুর-২ আসনে। এই সময়ে দুর্গাপুর–১ ছিল বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি, সিপিআই(এম) টানা সাতটি নির্বাচনে জয়লাভ করে। ২০১১ সালে সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর জন্ম নেয় দুর্গাপুর পশ্চিম ও দুর্গাপুর পূর্ব।
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক চিত্র
২০১১ সালের পর থেকে দুর্গাপুর পশ্চিমের রাজনৈতিক চিত্র ক্রমাগত বদলেছে।
২০১১: তৃণমূল কংগ্রেসের অপূর্ব মুখার্জি সিপিআই(এম)-এর বিপ্রেন্দু কুমার চক্রবর্তীকে ১৭,০০৬ ভোটে হারান।
২০১৬: কংগ্রেসের বিশ্বনাথ পারিয়াল ৪৪,৮২৪ ভোটে জিতে আসনটি দখল করেন।
২০২১: বিজেপির লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই তৃণমূলের বিশ্বনাথ পারিয়ালকে ১৪,৬৬৪ ভোটে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিজেপির ঝুলিতে আনেন আসনটি।
সংসদীয় ফলাফলের প্রতিফলন
লোকসভা নির্বাচনেও একই ধারা লক্ষ করা গেছে। ২০১৪ সালে তৃণমূল বিজেপির থেকে ৮,২৮৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৯ সালে বিজেপি বড় ব্যবধানে (৪৪,৫১১ ভোট) এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালে বিজেপি আবারও লিড ধরে রাখে, ১১,৬৮২ ভোটে।
ভোটার ও সামাজিক কাঠামো
২০২৪ সালে এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২,৭৬,৬৭৩ জন, যা ২০২১ ও ২০১৯ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তফসিলি জাতি ভোটার সর্বাধিক (১৪.৯৬%), এরপর মুসলিম ভোটার (৭.৩০%) এবং তফসিলি উপজাতি (২.৩৪%)। সম্পূর্ণ শহরাঞ্চলীয় এই আসনে গ্রামীণ ভোটার নেই। তবে ভোটদানের হার ক্রমশ কমেছে, ২০১১ সালে যেখানে উপস্থিতি ছিল ৮৪.৭৮%, ২০২১ সালে তা নেমে এসেছে ৭৩.১২%-এ।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
দামোদর নদী শহরের দক্ষিণ দিয়ে প্রবাহিত, যা শিল্প ও আবাসিক এলাকার জলচাহিদা মেটায়। সমতল ভূখণ্ড শিল্প ও নগরায়ণের জন্য উপযোগী। দুর্গাপুর ব্যারাজ, দুর্গাপুর ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, দুর্গাপুর মহিলা কলেজ, কুমারমঙ্গলম পার্ক, বিসিইটি ও শিল্পাঞ্চলগুলি এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিদ্যুৎ, রাসায়নিক ও প্রকৌশল শিল্প স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
২০২৬-এর দিকনির্দেশ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই দুর্গাপুর পশ্চিম পরিণত হচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে। ২০১৯ সাল থেকে বিজেপির ধারাবাহিক এগিয়ে থাকা তাদের শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তবে ২০১১ থেকে এই আসনে টানা কোনও দল জয়ী না হওয়ার ইতিহাস তৃণমূলকে আশাবাদী করছে। শক্তিশালী প্রচার ও ভোটার সংগঠিত করতে পারলে ফলাফল বদলাতে পারে। শেষ পর্যন্ত, দুর্গাপুর পশ্চিমের রায় নির্ভর করবে কৌশল, জনসমর্থন এবং এই আসনের ‘পরিবর্তনের ঐতিহ্য’ বজায় থাকে কি না, তার ওপরই।
Biswanath parial
AITC
Debesh chakraborty
INC
Nota
NOTA
Nayan mondal
IND
Chandra mallika bandopadhyay
IND
Prabhunath sah
BSP
Sanjiban hazra
JD(U)
Sandip sikder
RPPRINAT
Somnath banerjee
SUCI
Swapan banerjee
IND
Apurba mukherjee
AITC
Kalyan dubey
BJP
Nota
NOTA
Shyamali banerjee (roy chowdhury)
SUCI
Sandip sarkar
BSP
Kanai dutta
IND
Atul chandra bauri
BMUP