
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার উত্তর অংশে অবস্থিত মুরারই বিধানসভা কেন্দ্র। বীরভূম লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্য়ে মুরারইও একটি। ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনার উত্তর পশ্চিমে হওয়ায় এখানকার সংস্কৃতি মিশ্র। ঝাড়খণ্ডের ভাষার প্রভাবও এখানে পরিলক্ষিত। মুরারই বিধানসভা কেন্দ্র ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালের ভোট ছাড়া এই আসনের ভোট প্রতিবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের অংশ থেকেছে। ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশ মেনে এখানকার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৬ বার ভোট হয়েছে এই কেন্দ্রে।
এক সময় মুরারই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা ৬ বার কংগ্রেস এই আসন দখল করেছিল। তার আগে তিনবার অর্থাৎ ১৯৬৭, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালে এ...
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার উত্তর অংশে অবস্থিত মুরারই বিধানসভা কেন্দ্র। বীরভূম লোকসভা আসনের সাতটি বিধানসভার মধ্য়ে মুরারইও একটি। ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনার উত্তর পশ্চিমে হওয়ায় এখানকার সংস্কৃতি মিশ্র। ঝাড়খণ্ডের ভাষার প্রভাবও এখানে পরিলক্ষিত। মুরারই বিধানসভা কেন্দ্র ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালের ভোট ছাড়া এই আসনের ভোট প্রতিবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের অংশ থেকেছে। ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশ মেনে এখানকার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৬ বার ভোট হয়েছে এই কেন্দ্রে।
এক সময় মুরারই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা ৬ বার কংগ্রেস এই আসন দখল করেছিল। তার আগে তিনবার অর্থাৎ ১৯৬৭, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১ সালে এই আসনটি জিতেছিল সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট)। সিপিআইএমও জিতেছিল তিনবার। তবে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে আসনটি তাদেরই দখলে আছে। শুরুর দিকে অর্থাৎ ১৯৫১ এবং ১৯৬২ সালে আসনটি জিতেছিল যথাক্রমে কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টি এবং বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই মুরারইতে কমবেশি সংগঠন ছিল তৃণমূলের। তবে প্রথমবার তারা বেশি ব্যবধানে জিততে পারেনি। সেবার বাম প্রার্থীকে মাত্র ৪৪০৩ ভোটে হারায় শাসকদলের প্রার্থী। ২০১৬ সালেও আসনটি ধরে রাখে তৃণমূল। আবদুর রহমান সিপিআইএম-এর আলি মর্তুজা খানের বিরুদ্ধে মাত্র ২৮০ ভোটে জেতেন। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেন মোশাররফ হোসেনকে। তিনি বিজেপির দেবাশিস রায়ের থেকে ৯৮,২৪৬ বেশি ভোট পেয়ে জেতেন। লোকসভা ভোটেও ওই কেন্দ্রে আধিপত্য বজায় রাখে ঘাসফুল শিবির। ২০১৯-এ ৬৯,৪০৩ এবং ২০২৪ সালে ৪৯,৮৪৩ ভোটে এগিয়ে ছিল তারা।
২০১৬ সালে মুরারই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২৩৪,০৫৫ জন। ২০২১ এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬৩,২০০। তফশিলি ভোটার ছিল ২৮.৪২ শতাংশ, মুসলিম ভোটার ৪৮.৭৬ শতাংশ। মোট ভোটের ৯০.৫৮ শতাংশ ছিল গ্রামীণ ও বাকি শহরাঞ্চলের। মুসলিম সংখ্য়াগরিষ্ঠ হওয়ায় এই বিধানসভা থেকে ১৬ বারই নির্বাচিত হয়েছেন মুসলিম প্রতিনিধিরা। ভৌগোলিক দিক থেকে ব্রাহ্মণী ও ময়ূরাক্ষী নদী দিয়ে ঘেরা মুরারই। এখানকার মাটি পলিমাটি। তাই কৃষি এখানকার প্রধান জীবিকা। প্রধান উৎপাদিত ফসল ধান, সর্ষে, ডাল। যদিও সেচ মূলত নলকূপের উপর নির্ভরশীল।
শুধুমাত্র কৃষিকাজ এখানরকার প্রধান পেশা হওয়ায় রোজগারও সীমিত। কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। সেকারণে মুসলিম ও তফশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ রাজ্যের নানা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে কাজ করেন। অনেকে ভিন রাজ্য়েও যান। এখানকার পরিকাঠামোও সেভাবে উন্নত নয়। প্রাথমিক ও স্বাস্থ্য পরিষেবা থাকলেও তা খুব সামান্য। বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্য়োগে নানা প্রকল্পের আওতায় কোনও কোনও অঞ্চলে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি। বিশেষ করে কর্মসংস্থান এখানকার প্রধান সমস্য়া।
মুরারইয়ের কাছাকাছি বড় শহর হল রামপুরহাট। যা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জেলার সদর সিউড়ির এখান থেকে দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। কলকাতার দূরত্ব ২২০ কিলোমিটার হলেও ঝাড়খণ্ডের পাকুড় মাত্র ৪০ কিলোমিটার ও দুমকা ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঝাড়খণ্ড লাগোয়া হওয়ায় মুরারইয়ের অনেকের ভাষা হিন্দি। তাদের বেশিরভাগই হিন্দু। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে এদের ভোট বড়সড় নির্ণায়কের ভূমিকা নিতে পারে।
২০১১ সালের পর থেকে টানা তিনবার জিতলেও মুরারই যে তৃণমূলের জন্য নিরাপদ আসন, তা একেবারেই নয়। কারণ, প্রথম দুবার খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থীরা। আবার গত লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রে তাদের ভোট কমেছে। ফলে পরিষ্কার, বিজেপি আধিপত্য বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোট যদি কাজ করে তাহলে মুসলিম ভোট ভাগ হবে। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের ভোট কমার সম্ভাবনা থাকছে। তাতে সুবিধা হবে বিজেপির।
Debasish roy
BJP
Asif ekbal
INC
Ansarul saiekh
SUCI
Tarak let
BSP
Nota
NOTA
Samsul miya
SP(I)
Ali mortuza khan
INC
Hayatunninsh bibi
BJP
Nota
NOTA
Belal sekh
BSP
Mangal hemram
SUCI
Samshul miya
RLD